ধর্ষিতা, ধর্ষক যখন হাত ধরাধরি করে যে যার হোস্টেলে ফিরে যায়...
তারপর শুরু হয় হৈচৈ, চীৎকার, চেঁচামেচি, গন্ডগোল, যাকে বলে জমাটি এক ঘুমকাড়া ধামাকা। ময়দানে নেমে পড়ল দলে দলে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্লগাররা, সঙ্গে দিল্লির গদী মিডিয়া ও রাজ্যের গদী মিডিয়া। চ্যানেলে চ্যানেলে উত্তেজনাপূর্ণ বিশেষ এপিসোড। পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, আমার রাজ্যের মেয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপদ নয়, তাকে রাজ্যে দ্রুত ফিরিয়ে আনবো, জাতীয় মহিলা কমিশন, উড়িষ্যা মহিলা কমিশনের তদন্ত শুরু ও সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানে শুধু ছিছিক্কার। ডান, বাম সমস্ত রাজনৈতিক দলের মিটিং, মিছিল, অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। শুরু হয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার, পুলিশ প্রশাসন ও মমতার আদ্যশ্রাদ্ধ। এ ব্যাপারেও মুখ্য ভূমিকায় ছিল বরাবরের মতো ঘন্টা খানেক সঙ্গে সুমন। অবশেষে জানা গেল যত কান্ড সব দুর্গাপুর কান্ড। ফলশ্রুতিতে প্রথমে পাঁচজন আসামী ধরা পড়ল। ষষ্ঠজন আটক হতেই চারিদিক শুনশান। কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। অন্যদিকে নির্যাতিতার বাবা, যিনি সিবিআই, সিবিআই করছিলেন, তিনি বললেন, মমতা দিদি আমার মা, আমি ওঁনার ছেলের মতো, আমার ওঁনার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস আছে। এইসব বলে নিজরাজ্যে ফিরে গেলেন।
কিছুদিন আগে সন্দেশখালি হলো। যেখানে দলে দলে মহিলারা ধর্ষিতা হলেন। সন্দেশখালি নিয়ে প্রতিবাদী ২১টি কবিতা আমার দপ্তরে এলো। তারমধ্যে কিছু প্রকাশ করতে যাব, সেই সময় জানলাম দলে দলে মহিলারা স্বীকারোক্তি দিচ্ছে, তারা ধর্ষিতা হয়নি। টাকার বিনিময়ে মিথ্যা বয়ান দিয়েছে। সন্দেশখালি তখন রসগোল্লাখালি।
পার্ক স্ট্রিটের ডিস্কোথেক থেকে মদ্যপ অবস্থায় গভীর রাতে বেড়িয়ে যে মহিলা ৩/৪ জন অপরিচিত মদ্যপ যুবকের থেকে গাড়ির লিফ্ট চেয়েছিলেন, গাড়ির ভিতর সেই মহিলার শ্লীলতা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। তাই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, মহিলারা যেন একটু সাবধানে থাকে, অকারণে বেশি রাতে যেন বাড়ির বাইরে না থাকে। যা অন্তর থেকে সব মেয়ের সচেতন, বিচক্ষণ মা, বাবারা চান। এই নিয়ে বিরোধী দলের এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কী খিল্লি, কী খিল্লি! মেয়েরা সন্ধের পর বাড়ি থেকে বেরোবে না, বোরখা পরে মুখ, শরীর ঢেকে থাকবে ইত্যাদি, ইত্যাদি।
সত্যিই আজ সমাজে গভীর অন্ধকার নেমে এসেছে, এই তমসা ভেদ করে আমাদের যে কোনো মূল্যে আলোর পথের যাত্রী হতে হবে। আসন্ন দীপাবলীতে আমাদের এই একমাত্র প্রার্থনা।
"তিমির হননে তবু অগ্রসর হয়ে
আমরা কি তিমিরবিলাসী?
আমরা তো তিমিরবিনাশী
হ'তে চাই।
আমরা তো তিমিরবিনাশী।"
১৫ অক্টোবর, ২০২৫