সম্পাদকীয়

বাঙালি হিন্দু সমাজের যে অংশটা রামমোহন-বিদ্যাসাগরদের প্রগতিশীলতার চরম বিরোধিতা করেছিল, সেই রক্ষণশীল অংশই হিন্দুত্ববাদীদের অনুপ্রেরণা। বাঙালিরা জানে, এ দেশের হিন্দুত্ববাদীরা এখন রবীন্দ্রনাথের প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনাকে প্রতিহত করার জন্য বঙ্কিমচন্দ্রকে প্রকৃত সনাতনী রূপে তুলে ধরতে চাইছে। কারণ, রবীন্দ্রনাথের দেশবীক্ষা এদের উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। রামমোহন, বিদ্যাসাগর থেকে লালন ফকির, বাংলার উদার প্রগতিশীল ধারার উজ্জ্বল সব ব্যাক্তির সংশ্লেষ ঘটেছিল রবীন্দ্রনাথে। যে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, "অবিচলিত সনাতন প্রথার বড়াই যদি কেহ করিতে পারে তবে সে পশুপক্ষী কীটপতঙ্গ, মানুষ নহে"। তাকে হজম করা সনাতনী হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষে কী ভাবে সম্ভব? এরা জানেই না, বঙ্কিমচন্দ্রকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই। দু'জনের জীবন অনুসরণ করলে বোঝা যায়, বঙ্কিম কতভাবে রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরক, অগ্রপথিক। প্রগতিশীল বাঙালি মননে বঙ্কিমচন্দ্র বনাম রবীন্দ্রনাথ এই তরজা কোনোদিনও স্থান পায়নি এবং আগামী দিনেও পাবে না।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রধান কৌশল, উত্তর ভারতীয় হিন্দু সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার আচরণ এই রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করে বাংলার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা। যদিও অন্য ভাষার মানুষের প্রতি বিদ্বেষ শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিক থেকে নয়, বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও চরিত্রের সঙ্গেও খাপ খায় না।

হিন্দুত্ববাদীদের ক্ষমতাই নেই বাঙালির মনন ছোঁয়া। বাঙালি অস্মিতায় একের পর এক আঘাত নামিয়ে বাংলাকে যারা ক্ষত বিক্ষত করতে চায়, তাদের হাত যারা ধরে, তারাও আসলে বাঙালি বিদ্বেষী। বাংলার শত্রু। এই শত্রুদের বাংলায় কোনোদিনও স্থান ছিল না, থাকবেও না।


১৫ মে, ২০২৬


ঋণস্বীকার: মৃণাল কান্তি দাস