প্রবন্ধ

গোলাপ ফুল সুন্দর হয় কি করে! ভ্রান্তিবিলাস (প্রথম পর্ব)



সুভাষ রবিদাস


প্রস্তাবনাঃ আমি যখন হাঁটি, সাথে সাথে আমার ছায়াও হাঁটে। তালে তালে পা ফেলে রাস্তায়। আমি যখন কথা বলি, সেও বলে, আমি খাই, সেও খায়। আমাকেই অনুকরণ করে। তার খাওয়া বা কথা বলা আমাদের পরিবেশে কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ ছায়া হজমও করে না আর শব্দ দূষণও করে না। একটি পৌরাণিক গল্প আছে, সূর্য দেবতার স্ত্রী সংজ্ঞা এক সময় স্বামীর গৃহত্যাগ করে সূর্যের তেজ সইতে না পেরে। সেখানে রেখে যায় নিজের ছায়াকে। তার সাথে সূর্য দেবতা সংসার করল কিছু না জেনেই। ছায়া গর্ভবতী হল আর জন্ম দিল চক্রবেষ্টিত ষষ্ঠ গ্রহটির যার চক্করে পড়ে রাজা হরিশচন্দ্র নিঃস্ব হয়েছিলেন।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা। ছায়াকে শরীর থেকে আলাদা করা গেল এবং সে সন্তান উৎপাদন করতে পারল।

মহাবিশ্ব সৃষ্টি হবার সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছিল কিছু নেগেটিভ ফোর্স। এই ঋণাত্মক শক্তি আমাদের মহাবিশ্বে সমান্তরালভাবে কাজ করে চলেছে। এটি একটি অদৃশ্য শক্তি যাকে 'নিউটন স্টার' বলা যেতে পারে। এই শক্তি কিভাবে একটি পূর্ণ বর্গ সংখ্যাকে বিলুপ্ত করে দেয় তা আমরা দেখতে পারি। ধরে নিতে হবে Negative Energy = (-1/2) অথবা (-1) এবং x = Force.

i) 25xsq + 10x +1
= (5x)sq + 2.5x +(1)sq
= (5x + 1)sq সূত্রানুযায়ী।
x-এর মান (-1/5) ধরা হলে
= {5(-1/5) + 1}sq
= (-1 + 1)sq
= 0

আরেকটা সংখ্যাকে দেখি।

x-এর মান (-1) হলে, x = Force. তার পরে বসানো সংখ্যাগুলো উক্ত মানের Power.

ii) 1 + x + x2 + x3 + x4 + x5
= 1 + (-1) + (-1)2 + (-1)3 + (-1)4 + (-1)5
= (1 - 1)
= 0

একটা পূর্ণবর্গ মুলদ সংখ্যা ঋণাত্মক মানের কারণে শূন্য হয়ে গেলেও নৈর্ব্যক্তিক রূপে (root 1) রয়ে যাবে যদি সংখ্যাটি অমূলদ হয়। অতএব, কোনও বস্তু যখন মহাশূন্যে বিলুপ্ত হয় তখন তার অস্তিত্ব হল শূন্য (০) অথবা এক (১)।

ভ্রান্তিবিলাস

আমার কলিগ বেদারুল ইসলাম। নমাজ, রোজা ঠিকঠাক কবুল করতে পারে না কাজের চাপে কিন্তু স্বধর্মে শ্রেয় বেদারুল জিজ্ঞেস করল, রবিবাবু কি পাগল হয়ে গেল নাকি! আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম রামদেব চর্চায়। আমার মাতৃকুলে সব মানুষের চুল কম বয়সে পেকে যায়। বারো চোদ্দ থেকেই পাকতে শুরু করে। আমারও ভয় কেননা ইতিমধ্যেই দু' একটা চুল সাদা হয়ে গেছে।

অফিসের কাজ শেষ, বসে বসে জিরোচ্ছি। বললাম - "আমি একটি গোলাপ ফুল টেবিলে রেখেছিলাম, সেটি আর খুঁজে পাই না"। তাই এক বাবুকে জিজ্ঞেস করাতে সে বলল, "মশাই এতদিন ধরে আমি পৃথিবীটাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি, কোথাও পাই না, গোলাপ ফুল কোথায় পাবো"? আমি আইনস্টাইনকে বললাম, "স্যার, গোলাপ ফুল সুন্দর নয় কেন"? তিনি মুচকি হেসে বললেন, "আসলে গোলাপ ফুলের অস্তিত্বই তো নেই, তবে সুন্দর হবে কি করে"!

জানো তো ভায়া, কিছুদিন আগে আমরা অফিসের কাজে কলকাতায় ছিলাম। সেখানে যাদুঘরের কর্মচারীর সাথে দাঁড়িয়ে কথা হয়। কথায় কথায় আমি বলি, "ইউ ফলো মি, আই রিপ্লেসড্ টু ইউ"। কথাটা শুনতে অদ্ভুত লাগে তার, বলে দাদা বুঝিয়ে বলুন। আমি বললাম - "আপনার যখন জন্ম ছিল না, তখনও আপনি ছিলেন। আপনি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিলেন এবং আপনার জন্মের সম্ভাবনা ছিল। এখন আপনি প্রেজেন্ট। আছেন এবং থাকবেন তবু আমি আপনাকে সেই নিষ্ক্রিয়তায় পৌঁছে দেবো যেখানে আপনি থেকেও নেই। আপনি থাকবেন উপলক্ষ্য মাত্র, কারণ রূপে আর আপনার কর্ম হবে কার্যস্বরূপ। একে আপনি উনবিংশ-বিংশ শতকের গীতার বাণী রূপে দেখতে পারেন। এই অবস্থাকে স্থির প্রজ্ঞতা বলে। বাকিটুকু শূন্য"।

বেদারুল কি বুঝল জানিনা আমার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে, মনে মনে বিড়বিড় করতে করতে নিজের টেবিলের দিকে চলে গেল।

(ক্রমশ)

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।