কবিতা

নবজন্ম



বিজয়লক্ষ্মী চৌধুরী


অনেক দুঃখ বেদনা ও লাঞ্ছনা সয়ে,
একটি চারাগাছ চেয়েছিল মহীরুহ হতে,
বাতাস ফিস ফিস করে বলে,
প্রস্তুত থেকো ঝড় আসবে, আসবে অনাহার,
এমনকি রোদে পুড়ে তলিয়ে যেতেও পারো,
সেই ছোট্ট চারাগাছ বুকের স্বপ্ন আড়াল করে বলে,
দেখা যাক,

হৃদয়ের সুপ্ত আশা নিয়ে একটু একটু করে বড়ো হচ্ছে সে,
মেলছে কচি পাতা ভরা শাখা-প্রশাখা,
দুলছে হাওয়ার দোদুল দোলায় প্রাণবন্ত রঙে রাঙিয়ে,

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৃহৎ গাছ
তার বন্য ঘেরাটোপে বন্দি করলো চারাকে,
বিনা ক্লোরোফিলে পান্ডুর হতে হতে -
চারা মিনতি জানালো দিবাকরের কাছে,

বিফল কাঠুরে ফিরছিল নিরাশ মনে,
বড় গাছে আটকে গেল চোখ, 
হাতে উঠল কুড়ুল,
উদ্যত ডালপালা কেটে নিল সব,
সূর্য বলল, দেখলে?
চারা বলে, দেখলাম।

আরও দেখি,
চারা বেড়ে হলো মহীরুহ,
নীড় হারা পাখি পেল আশ্রয়,
পথিক পেল শীতল স্পর্শ,
বয়সের ভারে নুয়ে পড়ল একদিন,
মাটি বললো, কি দেখছ? গাছ বলে,
দেখছি জীবনের তাল ঘুরে -
সমে ফিরে আসছে জীবন,
বৃদ্ধের নবজন্ম -
সন্ততিদের মাঝে।