আমাদের চারপাশে চিরকাল কিছু অদৃশ্য পাঠক থাকেন তার সংখ্যা দুই হতে পারে আবার দু'শোও হতে পারে। লিখন পর্ব যখন পূর্ণমাত্রায় কার্যকরী থাকে মননের একটা শতাংশ তার কথা ভাবতে পারে আবার নাও ভাবতে পারে। এটা বিভিন্ন জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম। আবার নাও হতে পারে। শিল্প যেমন শিল্পের জন্য তেমনি সময়ের জন্য। দেশের জন্য। সমাজের জন্য। মূল্যবোধের জন্য। লিখন মাত্রায় তার প্রয়োগ সচেতন এবং অসচেতন দুটোই।
জীবনানন্দ যখন লিখতেন বা দস্তয়ভস্কি যখন লিখতেন তাদের অন্তর্লীন মননে কি ঘটতো ঠিক বলা মুশকিল।
কখনো তাদের কলম অবিনষ্টকারী না বিনষ্টকারী হয়ে উঠত কিনা শিল্পের সাপেক্ষে একমাত্র লেখক ছাড়া কেহ খোলসা করে উঠতে পারেন না।
মোটর দুর্ঘটনার আগে কামু শেষ পাণ্ডুলিপিতে মানুষকে কতখানি ব্যপ্ত করতে চেয়েছিলেন এখন আর জানা সম্ভব নয়।
প্রস্তাবিত দ্বিতীয় কবিতা সংগ্রহে মানুষের জন্য কিছু মূর্ত ও বিমূর্ত ভাবনা জারি থেকেছে। কখনো সচেতন ভাবে কখনো অচেতনে ঘটে গেছে।
আমার ছোট মাথায় কবিতা রচনা ও নির্মাণ কখনো সমাজ বর্হিভূত কিছু নয়। সময় বহির্ভূত কিছু নয়। শিল্প বর্হিভূত তো নয়ই।
নতুন কোনো ধারা তৈরি হয় এবং তা এক সময়ে চাপিয়ে বা ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নতুনরা করবেই বরং বলা ভালো তাকে মনে রেখে অন্য এক ধারার চেষ্টা আগামী দিনে সবসময় জারি থাকবে।
গত এক মাস নোবেল প্রাপ্তি সম্পর্কিত এই সমাজ মাধ্যমে যেসব ভাষ্য আমরা দেখেছি তাতে মনে হয়েছে আমি যা বলার চেষ্টা করেছি বা হয়তো আগামীদিনে করব তারও এক গ্রাহ্যতা থাকতেই পারে।
লিখন প্রক্রিয়া আমার কাছে অনেকটা আত্ম কৈফিয়তের মতো। তবু আমি কারো কাছে পঠিত হবো এটা তখনই সার্থক যখন আমি সেই পাঠককে আমার বিমূর্ত ভাবনার সঙ্গী করতে পারছি কিনা এই প্রশ্ন জরুরী হয়ে ওঠে।
এটা কারো অজানা নয় কেউ বঙ্কিমচন্দ্র পাঠ করেন, কেউ বটতলা পাঠ করে, আবার কমল কুমারের পাঠক এই বঙ্গে খুব কম নেই। সেটাও কারো অজানা নয়।
সমস্ত কলেজগুলোতে যারা বাংলা সাহিত্য পড়ান তারাও কতখানি সাহিত্য বোঝেন এ ব্যাপারে অনেক সঙ্গত এবং অসঙ্গত প্রশ্ন উঠতেই পারে।
এইসব নিয়েই আমাদের সাহিত্য অসাহিত্য বেঁচে থাকা।
যেদিন ভাববো আমি কবিতায় ঠিক ঠিক বয়ান আনতে পারছি না সেদিন হয়তো গল্পে চলে যেতে পারি। আর গদ্য লিখলে আলী সাহেবের (সৈয়দ মুস্তাফা আলী) মতো গদ্য না লিখতে পারলে লিখে কোনো লাভ নেই।
এত কিছু বলার অর্থ নিজেকে কোনো বোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করা নয় আসলে যা বুঝতে চাইছি সেটা পুরোটাই নিজেকে কতখানি বুঝতে পারি আর তার একটা ভাঙাচোরা অস্পষ্ট রূপরেখা নির্মাণ করা মাত্র।
