বিবিধ

আলিপুর চিড়িয়াখানার দেড়শ বছরে ফিরে দেখা কিছু আকর্ষণীয় ও মজার ঘটনা



গৌরব মুখোপাধ্যায়


এ'বছর আলিপুর চিড়িয়াখানার দেড়শ বছর পূর্ণ হল। সার্ধশতবর্ষে এই চিড়িয়াখানা বহু উল্লেখযোগ্য ঘটনার সাক্ষী। তার মধ্যে কিছু ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে আপাতদৃষ্টিতে নিছক মামুলি মনে হলেও সারা বিশ্বে বন্দী দশায় প্রাণী প্রতিপালনের ইতিহাসে যুগান্তকারী হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা ও তথ্য সচরাচর সাধারণ মানুষের সামনে আসেনি। গবেষকরা চিড়িয়াখানার লাইব্রেরিতে সযত্নে রক্ষিত শতাব্দী প্রাচীন পুরোনো বই ও কাগজপত্র খুঁটিয়ে দেখে এমন কিছু তথ্য পেয়েছেন যা একাধারে বেশ আকর্ষণীয় ও মজার। এমনই কিছু ঘটনা ও তথ্য আসুন আমরা ফিরে দেখি। ভাবলে অবাক হতে হয়, প্রতি শীতে বা বছরের অন্যান্য সময়ে যে চিড়িয়াখানায় আমরা নিছক ছুটি উপভোগ করতে যাই, একসময়ে এটিই বিশ্বের অন্যান্য দেশকে বন্দী দশায় প্রাণী প্রতিপালনে দিশা দেখাত!

প্রথমেই যার কথা দিয়ে শুরু করব সে হল 'অদ্বৈত'। চিড়িয়াখানার সূচনালগ্ন থেকে যে এখানকার স্হায়ী বাসিন্দা। বহু ঘটনার নীরব সাক্ষী।

'অদ্বৈত' (দ্য অ্যালডাব্রা জায়ান্ট) নামের দৈত্যাকার কচ্ছপটি ব্রিটিশ নাবিকরা রবার্ট ক্লাইভ-এর হাতে তুলে দিয়েছিলেন এবং তিনি কচ্ছপটিকে ব্যারাকপুরের মেনাজেরিতে এনে রেখেছিলেন।


ব্যারাকপুর মেনাজেরি।

১৮৭৬ সালে আলিপুরে চিড়িয়াখানা স্থাপিত হবার পর কার্ল লুই শোয়েন্ডলার 'অদ্বৈত'কে নবনির্মিত চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন। ইতিমধ্যেই এই অসাধারণ বিশালাকার কচ্ছপটি সবার কাছে 'ক্লাইভের পোষা প্রাণী' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। ২০০৬ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই কচ্ছপটিই সম্ভবতঃ পৃথিবীর দীর্ঘতম জীবিত প্রাণী ছিল।


সংবাদপত্রে 'অদ্বৈত'র মৃত্যুসংবাদ।

*    *    *    *    *    *

১৮৭৬ সালের মার্চ মাসে 'জেনি' চিড়িয়াখানার প্রথম গৃহপালিত ওরাং ওটাং বা বনমানুষ ছিল। যুবক অবস্থায় আকস্মিকভাবে তার পুরুষ সঙ্গীর মৃত্যুর পর, জেনি তার খাঁচার আশেপাশে ঘোরাফেরা করা একটি গৃহপালিত বিড়ালের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের সাহচর্য ছিল দেখার মতো। তারা প্রায়ই নিকটে থাকা একটি তেঁতুল গাছে আরোহণ করত এবং যখন সে খেলার ছলে তার বিড়াল সঙ্গীর লেজ ধরে টানত তখন বিড়ালটি আশ্চর্যজনকভাবে জেনির প্রতি কোনোরূপ বিরক্তি প্রকাশ করত না। ১৮৭৮ সালের গ্রীষ্মে জেনিকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর সময়, জেনির একাকিত্ব কাটাতে তার প্রিয় বিড়ালটিকেও তার সঙ্গী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।

*    *    *    *    *    *

১৮৭৭ সাল থেকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় টাপির থাকার ইতিহাস রয়েছে এবং টাপিরদের সফল প্রজননের রেকর্ডও রয়েছে। ১৮৭৭ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত, আলিপুর চিড়িয়াখানায় একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় প্রদর্শনী হিসেবে টাপির ছিল।

সম্প্রতি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জলপাইগুড়িতে অবস্থিত ময়নাগুড়ি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে জলপাইগুড়ির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM)-এর বিশেষ আদেশের ভিত্তিতে একটি মালয়ান টাপির পেয়েছেন। আধুনিক উন্নত উপায়ে যত্নের সঙ্গে দেখভাল করার শর্তে টাপিরটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। বর্তমানে চিড়িয়াখানার ১৫০ বছর উপলক্ষে টাপিরটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে এনে রাখা হয়েছে।

*    *    *    *    *    *

অনেকেই হয়তো জানেন বা শুনেছেন, কলকাতা সংক্রান্ত পুরোনো অনেক বই ও কাগজপত্রেও এই তথ্য পাওয়া যায় যে কলকাতা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে একসময় খুব বাঘের উপদ্রব ছিল। এমনই দুটি বাঘ পুরুষ, নারী ও শিশু মিলিয়ে সর্বমোট ২০০ জনকে গ্রাস করেছিল। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও তারা ধরা পড়েনি। স্বভাবতই মানুষের মধ্যে ত্রাসের সঞ্চার হয়। এখন যেখানে প্রিন্সেপ ঘাট তার পরের থেকে কলকাতা ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। সেখানে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সঙ্গে বাঘও বাস করত। অবশেষে ১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিয়োজিত বন-সংরক্ষকদের সহায়তায় সেই মানুষখেকো দুটি বাঘ ধরা পড়ে।

সেবছরই তৎক্ষণাৎ বাঘদুটিকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়। তৎকালীন সময়ে বহু ব্রিটিশ শিকারী শখের বশে বাঘ শিকার করতেন। এমনকি দেশীয় রাজা মহারাজারাও নিজেদের দাপট ও বৈভব প্রদর্শন করতে দলবল নিয়ে বাঘ শিকারে বেরোতেন। এমনকি বিদেশ থেকে রাজা-রাণীরা ভারতে বেড়াতে এলে এখানকার রাজারা তাদের মনোরঞ্জনের জন্য শিকারের ব্যবস্থা করতেন। সেটা তাদের কাছে ছিল নিজেদের আনুগত্য ও বৈভব প্রদর্শনের একটা স্বাভাবিক মাধ্যম। শিকারের পর তারা সেই বাঘ ও বাঘের চামড়া স্টাফ করে নিজেদের প্রাসাদে সাজিয়ে রাখতেন বা উপহারস্বরূপ দিতেন। সেই সময়েই ভারতে অনেক ব্রিটিশ কোম্পানি গজিয়ে উঠেছিল যারা বাঘ সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী স্টাফিং-এর কাজ করত। এভাবেই মাত্রাতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত শিকারের ফলস্বরূপ একসময় কলকাতা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল থেকে বাঘ বিলুপ্ত হয়।


কোচবিহারের মহারাজার শিকার অভিযান শেষে একটি মৃত বাঘের চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। আনুমানিক ১৯০০-এর দশকে তোলা আলোকচিত্র।

অন্যদিকে এটাও লক্ষণীয় যে সেই ব্রিটিশ সরকারের আমলেই একাধারে বন্যপ্রাণ রক্ষার মানসিকতাও গড়ে উঠেছিল। নাহলে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য সেই মানুষখেকো বাঘদুটিকে মেরে না ফেলে চিড়িয়াখানায় পাঠানো হবে কেন।

যাই হোক, সেই মানুষখেকো বাঘদুটিকে চিড়িয়াখানায় আনার দু' বছর পর ১৮৮০ সালের মে মাসে মা-বাঘ তিনটি শাবকের জন্ম দেয়। কলকাতা চিড়িয়াখানার ইতিহাসে সেই প্রথম এমন ঘটনা ঘটে।


চিড়িয়াখানার খাঁচায় বন্দী বাঘ। ১৯০৩ সালের আলোকচিত্র। যদিও এটিই কলকাতার সেই কুখ্যাত মানুষখেকো বাঘ কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ সেসময় বাঘের গড় আয়ুষ্কাল ছিল ১০-১৫ বছর বা তারও কম।

*    *    *    *    *    *

গোলাপী মাথার হাঁস (Pink-headed Duck) [১ নং. ছবি] এবং সাইবেরিয়ান ক্রেন (Siberian Crane)-এর [২ নং. ছবি] মতো বিপন্ন পাখি একসময় কলকাতা চিড়িয়াখানার এভিয়ারিতে রাখা হয়েছিল। ১৮৮০-র দশকে উভয় গোত্রের বহু পাখি ভারতীয় উপমহাদেশে শীতকালীন পরিযায়ী হিসেবে আসত।

গোলাপি-শির বা গোলাপি হাঁস (Pink-headed Duck) (বৈজ্ঞানিক নামঃ Rhodonessa caryophyllacea) এক প্রজাতির ভুতিহাঁস যা একসময় ভারত ও বাংলাদেশের গাঙ্গেয় অববাহিকা এবং মায়ানমারের নদীবাহিত জলাভূমিগুলোতে চরে বেড়াত। ধারণা করা হয়, ১৯৫০-এর দিকে হাঁসটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রজাতিটি খুঁজে বের করার জন্য বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করা হলেও এর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। মনে করা হয় যে প্রজাতিটি উত্তর মায়ানমারের দুর্গম জলাভূমিতে এখনও টিকে থাকতে পারে। সেই অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত বেশকিছু অসমর্থিত প্রমাণ পাওয়া যাওয়াতে গোলাপি-শিরকে এখনো বিলুপ্ত ঘোষণা করা যায়নি। এর 'গণ' নাম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকের মতে এটি রাঙ্গামুড়ি হাঁসের (Netta rufina) নিকটাত্মীয়। আবার কেউ কেউ এটিকে পৃথক একটি গণ Rhodonessa-তে স্থান দিয়েছেন।

সাইবেরিয়ান সারস (Siberian Crane) (বৈজ্ঞানিক নামঃ Grus leucogeranus) Gruidae (গ্রুইডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Grus (গ্রুস) গণের অন্তর্গত এক প্রজাতির বৃহদাকৃতির জলচর পাখি। পাখিটি এশিয়া মহাদেশের গুটিকয়েক দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪৪ হাজার ৭০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। সেকারণে আই.ইউ.সি.এন. এই প্রজাতিটিকে 'মহাবিপন্ন' (Critically Endangered) বলে ঘোষণা করেছে। প্রজাতিটি স্বভাবে পরিযায়ী এবং এর কোন উপপ্রজাতি নেই।

*    *    *    *    *    *

'ভিক্টোরিয়ান চিড়িয়াখানা এবং মেনাজেরি'তে প্রদর্শিত প্রাণী হিসেবে দর্শকদের মধ্যে মেরু ভালুকের চাহিদা ছিল। নাবিকরা তাদের ধরে বন্দরে ফিরে না আসা পর্যন্ত জাহাজে খাঁচায় আটকে রাখত।

একবার ইউরোপে নোঙর করা এক জাহাজে, ভালুকদের বন্দীদশায় যে ভয়ানক অবস্থায় রাখা হতো, অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয় (University of Aberdeen)-এর ফটোগ্রাফার, জর্জ ওয়াশিংটন উইলসন (George Washington Wilson) সেটির আলোকচিত্র নেন। ছবিটি ১৮৮০-র দশকের শেষের দিকে তোলা।


১৮৮০-র দশকের শেষের দিকে তোলা খাঁচায় বন্দী একটি ভালুকের ছবি। জর্জ ওয়াশিংটন উইলসন (George Washington Wilson)-এর তোলা আলোকচিত্র।


ব্রিস্টল চিড়িয়াখানায় খাঁচায় বন্দী মেরু ভালুক। ১৯১০-এ তোলা আলোকচিত্র।

*    *    *    *    *    *

দর্শকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে ১৮৮৬ সালে কলকাতা চিড়িয়াখানার গরম আর্দ্র আবহাওয়ায় একটি মেরু ভালুককে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তাকে ভারতের মতো নাতিশীতোষ্ণ (temperate) আবহাওয়ায় আরামদায়ক ও সুস্থ অবস্থায় রাখা ছিল এক কঠিন কাজ। চিড়িয়াখানার 'কার্নিভোরা হাউস' (Carnivora House)-এ বিশেষভাবে নির্মিত স্নানের জায়গা সহ কৃত্রিম গুহা তৈরি করে ভালুকটিকে শীতলতম অংশে রাখা হয়েছিল এবং জায়গাটি শীতল রাখতে সেখানে নিয়মিত প্রচুর বরফের যোগান দেওয়া হতো।

*    *    *    *    *    *

১৮৮৯ সালের ৩০শে জানুয়ারী, চিড়িয়াখানায় একটি হাইব্রিড গণ্ডার (রাইনোসেরোস ল্যাসিওটিস এবং রাইনোসেপোস সুমাত্রেনসিস-এর মিলনে জাত সংকর প্রজাতি) জন্ম নেয়। ১৮৮২ সালের জুন মাস থেকে সদ্যজাত গন্ডারটির বাবা-মা উভয়েই চিড়িয়াখানার বাগানে বাস করছে এবং তখন এটিই ছিল সারা বিশ্বে বন্দী অবস্থায় গন্ডার প্রজননের দ্বিতীয় রেকর্ড।

*    *    *    *    *    *

আলিপুর চিড়িয়াখানার নানা ধরনের সফর

১৮৯৫-৯৬ সময়কালে দর্শকদের আলিপুর চিড়িয়াখানায় বেলুন রাইড করানো হতো। তৎকালে প্যারাসুট অবতরণেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং রবিবার বাদে সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে চিড়িয়াখানা পরিদর্শন ও উপভোগ করার সুযোগ ছিল।


১৯৬০ সালে ভারত সফরকালে হাতির পিঠে যাত্রারত ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ড. ভি. জে. সুকসেলাইনেন।


অকল্যান্ড চিড়িয়াখানায় শিশুরা ভারতবর্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া হাতি 'যমুনা'র পিঠে চেপে ভ্রমণ করছে। অন্যান্যরা তাদের সুযোগের জন্য প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নেপথ্যে 'জিরাফ হাউস' দৃশ্যমান। আনুমানিক ১৯৫০-১৯৬০-এর মধ্যে তোলা আলোকচিত্র।


দর্মাশকদের চিড়িয়াখানা সফর করানোর জন্য রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জীর 'মার্টিন অ্যান্ড বার্ন কোম্পানি'র তৈরি টয় ট্রেন।


রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জী

*    *    *    *    *    *

১৯৭৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর 'আলিপুর জ্যুলজিক্যাল গার্ডেন'-এর শতবর্ষ পূর্তি উদ্‌যাপিত হয়েছিল। এই উপলক্ষ্যে ভারতের তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী একটি বার্তা পাঠান। বার্তাটি নিচে দেওয়া হল -

"ছোটবেলায় আমি চিড়িয়াখানা খুবই ভালোবাসতাম। পরে একটা ব্যাপার আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল যে জঙ্গলে এত অবাধে এবং গর্বিতভাবে বিচরণকারী প্রাণীগুলিকে উপর-নীচে খাটো খাঁচাগুলির ভিতরে কি থাকতে বাধ্য করা উচিত। ভারতে, শিশু এমনকি প্রাপ্তবয়স্করাও কখনও কখনও চিড়িয়াখানায় এবং তার বাইরে প্রাণীদের হয়রানি ও ক্ষতি করে। আধুনিক জ্যুলজিক্যাল গার্ডেনে প্রাণীদের প্রতি যথেষ্ট যত্ন নেওয়া হয় এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের মতো যতটা সম্ভব সাদৃশ্যপূর্ণ পরিবেশে রাখার চেষ্টা করা হয়। ...আগে প্রচুর প্রাণী প্রজাতি ছিল যার অধিকাংশই এখন বিরল বা বিলুপ্তির পথে। এটি শুধুমাত্র ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে নয় বরং মূলত অসাবধানতা এবং অনীহার কারণে, যা বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিকে আড়াল করে। উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সংরক্ষণ কোনো বাতিক বা বিলাসিতা নয়। এটি মানবজাতির বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। ...চিড়িয়াখানাগুলিকে অবশ্যই মানুষকে প্রাণীদের জানতে এবং তাদের ভালবাসতে শেখাতে সাহায্য করতে হবে; ধ্বংসের প্রবণতা বন্ধ করতে এবং প্রকৃতিতে প্রতিটি বন্যপ্রাণীকে একটি ন্যায্য সুযোগ দিতে।"

[জয়রাম রমেশের লেখা 'ইন্দিরা গান্ধীঃ আ লাইফ ইন নেচার' থেকে উদ্ধৃত।]

*    *    *    *    *    *


..


চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত। এছাড়াও লেখায় ব্যবহৃত কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাল্পনিকভাবে তৈরি।