কবিতা

খোঁজ



নন্দিনী সরকার


ছোটো থেকে শিশু বেড়ে ওঠে
মা-বাবা আপনজনের কোলে,
তখন থেকে তৈরি হয় বোধ।
বোধের লালন পালন করতে
এগিয়ে আসেন গুরুমশাই।
একটু একটু করে যত্নে 
সাজিয়ে তোলেন বাগান।
শিশুর অন্তর।
ধীরে ধীরে শাখায় শাখায়
ফুল ধরে।
পরম আশ্রয় দেন গুরু।
বলেন পড়ো, শেখো, বোঝো।
ভুল শুধরে মাথায় রাখেন
আশীর্বাদের হাত।
সবাই মানুষ - তবু
ফসলের প্রতি যেমন চাষীর দরদ
রোগীর প্রতি ডাক্তারের মনোভাব
তেমন ছাত্রের প্রতি এক পরম স্নেহের আসন পাতা থাকে গুরুর কাছে।

এই পরম্পরায় ঘুণ ধরায় অর্থ,
অর্থকে লালন করে রাজার নীতি!
রাজনীতিকে আঁকড়ে থাকে লোভ,
আর
লোভের জিভে চলে ক্ষমতার খেলা।

যুগ আসে যুগ যায় জলের স্রোতে,
সমাজ সংসার পরস্পরের বিশ্বাস হারায়!
মূল্যবোধ জঙ্গলে পালায় -
ন্যায় ভুলে যায় তার অস্তিত্ব।
অর্থ পরমার্থের খোঁজে 
ত্রিভুবন ওলোটপালোট করে।

তবু শিশু মায়ের কোলে,
বাপের বুকে বেড়ে ওঠে।
ক্ষুদে ক্ষুদে হাত চায় আশ্রয়;
অন্তর খোঁজে গুরু
যার ওপর নিশ্চিন্তে ভরসা করা যায়।
প্রশ্ন তোলার
পরিস্থিতি বোঝার
লড়াই করার শক্তি যোগান যিনি।

অ আ ক খ-তে ঘুণ ধরেছে,
শিক্ষার অসুখে আক্রান্ত সমাজ।
এই অসুস্থ সমাজে
আবার তো নির্মল শিশু জন্ম নেবে -
খুঁজে পাবে তো গুরুর আশ্রয়?
নাকি মিথ্যে হয়ে যাবে সভ্যতা?
জীবন সাঁতার শেখানোর মানুষ পাওয়া যাবে তো?
হৃদয় বিদীর্ণ করা এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবে আজ?
ঠুলি পরা চোখে হামাগুঁড়ি দিয়ে খুঁজে চলেছি স্বরবর্ণের 'উ'-টাকে
তোমরাও খোঁজো।
খুঁজে পেলে জানিও সকলকে।

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।