গল্প ও অণুগল্প

দিনবদল



হুমায়ুন কবীর (বাংলাদেশ)


যতটা জানা যায়, রামনগর গ্রামের চৌধুরী বংশের জনৈক পূর্বপুরুষ একদা গ্রামের সামন্ত-প্রধান ছিল। সামাজিক শ্রেণি বিন্যাসে তার পদবি স্থির হয়েছিল চৌধুরী। সেই থেকে তার উত্তর পুরুষেরা পদবি লিখে আসছে - মোমিনুর রহমান চৌধুরী, আহসান রেজা চৌধুরী, জাভেদ চৌধুরী...। বর্তমান চৌধুরী পরিবারের হাল ধরে আছেন জামান চৌধুরী - পুরো নাম খালেকুজ্জামান চৌধুরী। খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দু' মেয়ে, এক ছেলে। মেয়ে দু'টোকে ভালো পাত্রের সাথে বিয়ে দিয়েছে। একমাত্র ছেলে সম্প্রতি বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে। চৌধুরী সাহেবের অঢেল সম্পত্তি। চাকরি করা মানে পরের দাসত্ব করা। ছেলে চাকরি করুক চৌধুরী সাহেবের মোটেই পছন্দ না। নিজের ব্যবসায় ছেলেকে স্থলাভিষিক্ত করে যেতে চান তিনি।

গ্রামে পূর্ব পাড়ায় মালিতা আর খন্দকারদের আবাস। পশ্চিম-পাড়ায় রয়েছে ভূঁইয়া, তাঁতি আর কৃষক শ্রেণি। মাঝ পাড়ায় চৌধুরীদের প্রাচীন অট্টালিকা। ঠিক তার পাশেই রইস উদ্দিনের শ্রীহীন কুঁড়েঘর। চৌধুরী বাড়ির সন্নিকটে এমন শ্রীহীন কুঁড়েঘর বড়ই বেমানান। জামান চৌধুরীর ভাইবোনের ছেলে-মেয়েরা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। উৎসবের সময় অথবা বছরের বিভিন্ন সময় অবকাশ কাটাতে কেউ কেউ এই বাড়িতে আসে। অট্টালিকা, বাগান-পুকুরের পাশে একটা কুঁড়েঘর তাদের চোখে বড়ই বিসদৃশ লাগে।

নিম্নবর্গের ছেলে-মেয়েদের সাথে এই অভিজাত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের মেলামেশায় নিষেধাজ্ঞা আছে। জামান চৌধুরীর একমাত্র ছেলে শাকিল চৌধুরীর দু' ক্লাস নীচে পড়ে রইস উদ্দিনের মেয়ে আয়েশা। দু' পরিবারের এই দুজন পড়ুয়া একে অন্যের সাথে কথা বলে এমন দৃশ্য কদাচিৎ চোখে পড়ে।

চৌধুরী পরিবারের ইচ্ছে রহিসউদ্দিন দূরে কোথাও বসতি করুক। এজন্য খালেকুজ্জামান চৌধুরী তাকে পাড়া ছাড়া করতে চেষ্টা কম করেনি। এই দরিদ্র বাড়ির ছাগল-মুরগী চৌধুরী বাড়ির ত্রিসীমায় প্রবেশের উপায় নেই। কালেভদ্রে প্রবেশ করলে চৌধুরী সাহেব বলেন, এই রইসে, (রহিস উদ্দিনকে চৌধুরী সাহেব রইসে বলেই ডাকে।)

- জ্বি, মিয়া বলুন।

- তোর ছাগল-মুরগীর ঠ্যাং ভেঙে দেব। বাড়িতে বেঁধে পালতে পারিস নে?

- মিয়া, আর যাবে না, এবারের মতো মাফ করবেন।

- আর কত মাফ করবো, তোকে? এই শেষবারের মতো বলে রাখলাম। আর যদি বাগানে ছাগল-মুরগী ঢোকে তাহলে তোর ঠ্যাং ভেঙে দেব বলে দিলাম।

এইসব হুমকি-ধমকি অনেক দিন থেকেই চৌধুরী সাহেব দিয়ে আসছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। রইস উদ্দিনকে মোটেও খেদানো যাচ্ছে না। এবার চৌধুরী সাহেব একটা নতুন টোপ দিতে চায় রইস উদ্দিনকে। দিনক্ষণ বুঝে রইস উদ্দিনকে বাগান-বাড়িতে ডাক দেন জামান চৌধুরী। পাশে বসতে দেন। তারপর অনেকটা বিনীত উচ্চারণে বলেন, "রইস উদ্দিন, কেমন আছ, ভাই?"

রইস চমকে ওঠে - এই প্রথম শুদ্ধস্বরে জামান চৌধুরী উচ্চারণ করলেন - 'রইস উদ্দিন'। জামান চৌধুরীর কথাবার্তায় এতটা নম্রতা আগে দেখেনি রইস। আজ 'ভাই' সম্বোধনে যেন মধু ঝরে পড়ল! কোনো মতলব নেই তো? একটা সন্দেহ এসে ভর করল রইস উদ্দিনের মনে।

তবে আপাতঃ সম্ভাষণে মুগ্ধ রইস, মনে যে সন্দেহ উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে তা সে আমলে নেয় না। বলে, "আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ভালোই রেখেছেন"।

চোখের চশমাটা খুলতে খুলতে জামান সাহেব বললেন, "শোন রইস, তোমাকে একটা কথা বলি, রাখবে তো"?

- কেন রাখবো না? বলুন, শুনি।

- আমাদের জিগাতলের মাঠে রাস্তার ধারে জমিটা বাড়ি করবার মতো জমি। তোমার এই বাড়ির জমির সাথে ওটা বিনিময় করবার ইচ্ছে। ঐ জমিটা তোমার বাড়ির জমি থেকে আয়তনে একটু বেশিই হবে।

- রইসউদ্দিন চুপচাপ হয়ে যায়। একজন সম্মানিত ব্যক্তি তাকে পাশে বসিয়ে একটা প্রস্তাব দিয়েছে, সুন্দর করে তার নামটা উচ্চারণ করেছে - এ কী কম আনন্দের কথা! একবার তার মনে হল মিয়ার কথায় রাজি হয়ে পড়ি। পরক্ষণেই মনে হল, বাড়িতে মেয়ে আছে, বউ আছে আর আছে এক পালিতা কন্যা। তাদের মতামত নেওয়া দরকার। সে সময় নেয়। বলে, মিয়া, বাড়িতে সবার সাথে পরামর্শ করে দেখি।

- হ্যাঁ, তা তুমি নিতে পার। কিন্তু, তুমিই তো বাড়ির কর্তা, তুমি রাজি থাকলে আর কে না করবে শুনি?

- তা বটে সত্য, তবে মেয়েটা শিক্ষিত হচ্ছে, তার একটা মতামত নিতেই হয়।

- আচ্ছা, নাও। তবে শিঘ্র জানাতে ভুল হবে না নিশ্চয়।

রাতে খাবার সময় কথাটা পাড়ল রহিস। সে স্ত্রী-কন্যাকে বলল, মিয়ার অনেক দিনের ইচ্ছে বাড়ির সাথে একটা মিনি পার্ক করবে। জিগাতলার মাঠে রাস্তার পাশে যে জমিটা ওখানে আমাদের বাড়ি তৈরি করতে বলছে। মিয়ার কথায় 'না' করাটা শক্ত - কী যে করি?

রইস উদ্দিনের স্ত্রী-কন্যারা আকাশ থেকে পড়লেন। দীর্ঘদিন এই বাড়িতে বসবাস। চৌধুরী সাহেবের এহেন প্রস্তাবে স্ত্রী-কন্যার মন খারাপ হয়ে যায়। তারা জিগাতলার মাঠে ঘর বাঁধতে রাজি হয় না। রইস বলে, চৌধুরী সাহেবের প্রস্তাব না মানলে পদে পদে বাধা আসতে পারে। তাঁর আত্মীয়-স্বজন অনেক নামি-দামি। কেউ কেউ রাজনীতি করে - একটা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিতে পারে। আমরা তাদের কিছুই করতে করতে পারব না। চৌধুরীদের বাড়ির পাশে আমাদের বাড়ি - এটা আমাদের জন্য গর্ব, চৌধুরীদের জন্য না। তার চেয়ে বরং...

মেয়েটা কথায় বাধ সাধে। সমাজ বিজ্ঞানের বই পুস্তকে সে পড়েছে, মানুষ সবাই সমান। সে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। বলে, "চৌধুরী সাহেব আছেন তাঁর নিজস্ব জায়গায়, আমরা আমাদের নিজস্ব জায়গায়। সেও মানুষ, আমরাও মানুষ। মিয়াকে দেখে কীসের ভয়"?

মেয়েটার চোখেমুখে ক্রোধের ছায়া পড়েছে। সে বাবাকে বলে, "তুমি সর্বদাই নিজেকে ছোট মনে করো। দেশে আইন আদালত বলে তো কিছু আছে, তাই না"?

রইস উদ্দিন বলে, "বইয়ের সব কথা কি ফলে, মা? তাদের সাথে আমাদের গৌরবের লড়াই মানায় না। পাহাড়ের গায়ে ঢেলা মারলে পাহাড়ের কিছুই হয় না, ঢেলাই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ফিরে আসে"।

কিছুদিন চলে গেল। রইস নিরব। চৌধুরী সাহেবকে 'হ্যাঁ', 'না' কিছুই বলছে না সে। দিনে দিনে জামান চৌধুরীর ক্ষোভ বেড়ে চলেছে। তার মনে হচ্ছে, সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না - এবার আঙুল বাঁকাতে হবে। একটা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে সে। আজ হোক, কাল হোক সুযোগটা আসবে নিশ্চয়।

রইস উদ্দিনের পালিতা মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। পালিত বলে অনেক ছেলে রাজি হতে চায় না। হালে একটা ছেলের মত পাওয়া গেছে। বরের বাড়ি সুবর্ণপুর। তাদের পূর্বপুরুষ একসময় ধোপা ছিল। পেশা বিবর্তনের এক পর্যায়ে আজ তারা ধোপা থেকে নাপিত। ছেলেটার হাতের কাজ ভালো - দিনান্তে সংসার-খরচটা নিয়ে বাসায় ফেরে। আশা করা যায়, মেয়েটা সুখেই থাকবে। বিয়েটা শেষ অব্দি হতে যাচ্ছে।

সুবর্ণপুর থেকে রামনগরে জহির উদ্দিনের বাড়ি গোটা তিরিশ জন বরযাত্রী এসেছে। প্রচন্ড গরম। ভোজন শেষে কেউ কেউ একটু ছায়াঘন পরিবেশ দেখে চৌধুরী সাহেবের বাগান-বাড়ি ঢুকে পড়ে। অল্প বয়সের গুটিকয়েক দুষ্ট ছেলেরা গাছের ফল ছিঁড়েছে।

বরযাত্রীরা একটা দরাজ গলার হাঁক শুনতে পায়...

- কারা, এই তোমরা কারা? এখানে কেন?

- বিয়ে বাড়ি এসেছি গো - আমাদের চিনবেন না। একটু হাওয়া খেতে...

- শুনুন, যেখানে এসেছেন, সেখানে হাওয়া খান। আর হ্যাঁ, এই ফল ছিঁড়লেন কেন? না বলে-কয়ে ঢুকে পড়েছেন। ফল পেড়েছেন, স্পর্ধা তো বেশ!

ফলগুলো নিয়ে বিয়ে বাড়িতে গেলেন চৌধুরী সাহেব। সেখানে এক মহাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেললেন তিনি। একদল বরযাত্রীর মাঝে রইস ভীষণ লজ্জায় পড়লেন। এ অপমান হজম করা শক্ত।

চৌধুরী সাহেব আঙুল বাঁকা করতে শুরু করেছে। রইস উদ্দীনের চৌধুরী সাহেবের প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।

একদিন সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জিগাতলার মাঠে তৈরি এক চালা-ঘরে চলে এলেন রইস উদ্দিন। স্ত্রী ও মেয়ে আয়েশা রইসের সিদ্ধান্ত শেষমেষ মেনেই নিলেন।

মেয়ে আয়েশা এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স শেষ করেছে। বিভিন্ন পেশার উৎপত্তির সামাজিক কারণসমূহ সে জানে। সে লক্ষ করছে, তথাকথিত বংশ মর্যাদা এখন ক্ষয়িষ্ণুতার দিকে। সে বাবাকে বলে, "বাবা, চৌধুরী সাহেবকে তুমি বড় সম্মান কর। মানুষকে সম্মান করা ভালো; তা চৌধুরী সাহেব তোমাকে সম্মান করে না কেন"?

- দেখ, আমি আর চৌধুরী সাহেব কি সমান? উনি ভূস্বামী; আমি ভূমিহীন, তাই না?

- বাবা, চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়। দেখ, একদিন...

রইস সেই শুভদিনের অপেক্ষায় থাকে। অবশ্য বেশিদিন তাকে অপেক্ষা করতে হয় না। একটা শুভ সংবাদ আসে। কিছুদিন আগে রইস উদ্দিনের মেয়ে আয়েশা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো ফলাফল করে বের হয়েছে। এবার সে কলেজ নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েছিল। শুভ সংবাদ হচ্ছে আয়েশা উত্তীর্ণ হয়েছে। সে এখন কলেজ শিক্ষক।

গ্রামে কলেজ শিক্ষক আয়েশাই প্রথম। আয়েশার কদর বেড়েছে - তার পিতাকে যারা চিনতো না, তারাও এখন খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছে। কাছে-দূরে অনেকের বিবাহযোগ্য ছেলে আছে। তাদের বাবারা রইস উদ্দিনকে সমীহ করা শুরু করছে।

আয়েশার ইচ্ছে আলাদা। চৌধুরী সাহেব তার বাবাকে সারাজীবন তাচ্ছিল্য করেছে। ভিটেছাড়া করেছে। এর একটা অপূর্ব প্রতিশোধ সে নিতে চায়। চৌধুরী পরিবারের একেবারে অন্দরমহলে সে ঢুকতে চায়। কয়েক মাস চলে গেল - সহকর্মী-শিক্ষার্থী সবার কাছেই আয়েশা ম্যাডাম প্রিয় হতে চলেছে।

ইদানিং কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তরফ থেকে সে একটা গ্রাম-জরিপ সম্পন্ন করছে। গ্রাম নির্বাচন করেছে নিজ গ্রাম রামনগর। গ্রামে বিদ্যমান বংশ এবং সেগুলোর সামাজিক মর্যাদার ধর্মীয় ও নৈতিক ভিত্তি তার জরীপের মূল বিষয়। এগুলো নিয়ে জামান চৌধুরীর একমাত্র পুত্র শাকিল চৌধুরীর সাথে তার আলাপ হয়েছে। শাকিল সাহিত্যিক মানুষ। সাহিত্যের মানুষগুলো উদার হয়। শাকিল চৌধুরী তাদের পরিবারের রক্ষণশীলতা স্বীকার করেছে। সেই রক্ষণশীলতার খোলস থেকে সে বেরিয়ে আসতে চায়।

এই সুযোগটা আয়েশা কাজে লাগাতে চলেছে। ইতোমধ্যেই আয়েশা নানান সামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। সে এলাকার প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য একটা স্কুল খুলতে চায়। এলাকায় চৌধুরীদের অনেক জমি। আয়েশা শাকিল চৌধুরীকে প্রতিবন্ধীদের স্কুল করার জন্য একখণ্ড জমি দিতে অনুরোধ করে। আয়েশার সামাজিক কার্যক্রমে মুগ্ধ শাকিল। সে স্কুলের জমি দিতে রাজি হয়ে পড়ে। গ্রামীণ জনপদে লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে কাজ করছে আয়েশা। নারীদের বৈষম্য নিরসন করতে চায় আয়েশা। এইসব কাজ শাকিলকে মুগ্ধ করে। শাকিল এতদিন বিয়ে করতে আগ্রহ দেখাত না। ইদানিং আয়েশাকে তার মনে ধরেছে।

বাবার ব্যবসায় দেখাশোনা করে শাকিল চৌধুরী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটা বড় সাইজের হিসেবের খাতা। সেদিন সহসা হিসেবের খাতাটির এক কোনায় চৌধুরী জামান সাহেব একটা পঙতি আবিষ্কার করলেন। পঙতিটির রচয়িতা শাকিল চৌধুরী। পঙতিটি এমন - "এই জনপদে তোমার মতো আর কেউ নেই। তোমাকে দেখে আমার বিস্ময়ের অন্ত নেই...।"

চৌধুরী সাহেবের মনে প্রশ্ন জাগলো কে সে যাকে নিয়ে ছেলের এই অন্তহীন বিষ্ময়। ছেলে কি কারো প্রেমে পড়েছে? হিসেবের খাতাটা তন্ন তন্ন করে দেখছেন চৌধুরী সাহেব। হ্যাঁ, আরও একটা পঙতি চোখে পড়ল। পঙতিটা এমন - "তুমি পদ্ম কুসুমের মতো কোমল শিশিরের মতো ঝলমলে। তুমি চাঁদের আলোর মতো স্নিগ্ধ - তোমাকে অবলীলায় ভালোবাসা যায়।"

বাবা শাকিলকে বলল, "হিসেবের খাতায় এসব কী দেখছি? তুমি কি কাওকে পছন্দ করো"?

- হ্যাঁ।

- কে সে?

- কলেজ শিক্ষক আয়েশা।

- আয়েশা... মানে রইসের মেয়ে?

- হ্যাঁ।

চৌধুরী জামান সাহেব এ কী শুনছেন? হায় রে, দিনবদল! অবশেষে রইসের মেয়ে কিনা তার পুত্রবধূ হতে যাচ্ছে?