কবিতা

প্রতিবাদপত্র



অভিজিৎ রায়


দিন কি রাতের কাছে হেরে যায়? শুনিনি এমন।
অথচ কাঁটার ক্ষত বুকে নিয়ে বাঁচে মধুবন।
সবটুকু অন্ধকার; আলো একা আলোর সঙ্গিনী;
পচন ধরেছে যাতে সেই ফল কোন লোভে কিনি?
কোন লোভে অবিশ্বাসী করেছে বিশ্বাস অন্ধকার?
আলো নেই কোনও দিকে; আমি একা আমার একার।
পাশে যারা আছে তারা যোগ্য না অযোগ্য? বলবে কে?
সোজা কিছু নেই আর, সব পথ লোভে গেছে বেঁকে।
বিরোধী শাসক মিলে শোষণের সেই পথ ধরে
মানুষকে নিয়ে যায় বারবার নরকের দোরে।
যত লোভী, স্বার্থপর আত্মমগ্ন নিজেকে উদ্ধারে
ভুল করে বারবার; চেতনার সব আলো কাড়ে।
এ দিন রাতের মতো, এ রাতের জন্মপরিচয়
ভুলে যেতে থাকি রোজ; এই বোধে বল কার ভয়
করে না বাঁচার আগে? আমি শুধু এই কথা ভাবি
প্রতিটি মানুষ লোভী; জনগণ স্বভাবে অভাবী।
নেতারাও জানে তাই বারবার প্রতারণা করে
মানুষ আশায় বাঁচে; নিরাশায় কতজন মরে?
কত ভোট তাতে কমে? ভূত হয়ে ভোট দেবে তারা;
গণতন্ত্র, সংবিধান সব বুঝি মূর্খের সাহারা?
নেতা, নেত্রী মিথ্যে বলে, তারপরে শাস্তি পায় কই?
দিনের শ্মশানযাত্রা দেখে পথে পড়ে থাকে খই।
অন্ধকার মিথ্যে তার একা একা নিয়ত সাজায়;
নিয়মিত সঙ্গ তার সত্যিকেও টেনে নিয়ে যায়।
মানুষ বোঝে না সব, বিজ্ঞাপনে তার চোখে আলো
হতাশ হবার পর ভুলে যায় কারা ছিল ভালো।
ভিক্ষাপাত্র পূর্ণ হলে মনে হয় শূন্য কিছু নেই
আজ কাজ হারিয়েছ, নিজেকে হারাবে প্রত্যেকেই।
অথচ তোমার আছে সেই শক্তি, মিথ্যে হারানোর 
জনগণ, সত্যি তুমি, শক্তি তুমি, অগ্নি জ্বালানোর।

সে আগুনে পুড়ে যাবে শাসকের মিথ্যে অহংকার
মেরুদণ্ড খুঁজে পেলে প্রতিবাদ কর বারবার।
অন্ধকার গিলে খাবে তুমি হবে সেই আলো-দিন
মুঠোভরা সাদা-কালো স্বপ্ন থাক, জীবন রঙিন।
যে তোমাকে পথে ফেলে উঠে গিয়ে বসেছে গদিতে
জেনো তুমি সেই শক্তি, শাসককে পারো ফেলে দিতে।
আজ তুমি মগ্ন হও, নগ্ন কর শাসকের পাপ
শাসক বুঝুক ভুল, গণতন্ত্র শেখাক সন্তাপ।