
[একজন সৃষ্টিশীল মানুষ একদিন স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান। প্রাত্যহিক জীবনের দ্বিধা দ্বন্দ্বে জীর্ণ জীবনকে এক নতুন রসের ধারায় নিজেকে সিক্ত করতে তার এই স্বেচ্ছানির্বাসন নাকি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে তা তিনি নিজেও জানেন না। অথচ তার এই নির্বাসনকালে তার জীবন ও লেখা বাঁক নেয় এক নতুন পথে। নিজের সৃষ্টিকে নতুন করে তিনি কি গ্রহণ করতে পারবেন নাকি বিসর্জন দেবেন অবসাদের গভীর অন্ধকারে? এই টানাপোড়েন নিয়েই লেখা অভিজিৎ রায়ের এই নতুন উপন্যাস "নিখোঁজ কবির ডায়েরি"।]
(পাঁচ)
শ্যামলাল খাবার দিয়ে গিয়েছিল দুপুর একটা নাগাদ। ঢাকা দিয়ে রেখে চলে যেতে বলেছিল সৃজিত। তারপর সব ইতিহাস। বিকেল চারটে নাগাদ শ্যামলাল চা দিতে এসে অবাক। খাবার ওইরকমই ঢাকা পড়ে আছে। সাহাব, সেইরকমভাবে বসে ঘাড় গুঁজে কম্পিউটারে কী যেন সব লিখে চলেছেন।
- আরে সাবজী। আপনি দোপহরে কিচ্ছু খাননি। আমি কি সব গরম করে এনে দেব?
- চা দাও। চা। খাবারগুলো নিয়ে গিয়ে গরম করে রাখ। আমি রাতে খেয়ে নেব।
- এই তো সাবজী! আমি তো চা নিয়ে এসেই দেখছি যে আপনি কিচ্ছু খাননি। কী অদ্ভুত ব্যাপার! বিনয়বাবু জানলে আমাকে খুব বকাবকি করবেন।
- তোমাকে আর ভালমানুষী করে কিচ্ছু বলতে হবে না। আমিও কিছু বলব না। ডিমের ওমলেট করতে পারবে? ডিম আছে?
- হ্যাঁ সাবজী। নিয়ে আসব?
চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে কাপটা শ্যামলালের হাতে ফেরত দিয়ে সৃজিত বলল,
- হ্যাঁ। আর আরও এক কাপ চা নিয়ে এসো। অল্প একটু চিনি দেবে এবার। আর ওমলেটে অনেকখানি পিঁয়াজ আর লঙ্কা।
শ্যামলাল ঘাড় নেড়ে দ্রুত বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। সৃজিত আবারও ঘাড় গুঁজে দেয় নিজের লেখায়। এতটা ভাল ফল আশা করেনি সে। অনেকদিন পর আবার উপন্যাস লিখতে বসে এভাবে যে গল্পটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে তা আশা করেনি সৃজিত। এই গতিটাকে কোনো কারণেই সে থামিয়ে দিতে চায় না। বিকেলে একটু নদীর ধারে ঘুরে এলে কি ভাল হতো? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে সে। তারপর না হয় প্রয়োজনে সারারাত লিখতে বসবে। ট্যাবটাকে বন্ধ করে হাত দুটোকে টানটান করে উপরের দিকে তুলে বডিটাকে খানিকটা স্ট্রেচ করে সে। খাট থেকে নেমে বাথরুমে যায়। ফিরে এসে ঢকঢক করে এক বোতল জল খেয়ে নেয়। এতক্ষণ যে সে জল পর্যন্ত খায়নি এটাই অবাক কাণ্ড। সত্যিই কি অবাক করার ব্যাপার!
"বাড়িতে বসে বসে এভাবে যদি অনিয়ম করো তাহলে কিন্তু আমি চাকরিবাকরি সব ছেড়ে তোমাকে পাহারা দেব। সামান্য জলটুকুও নিয়ম করে খাওনি। ছোট বোতলটাতে 'হাইড্রেট' মিশিয়ে দিয়ে গিয়েছিলাম। ওইরকমই পড়ে আছে। এগুলো কী হচ্ছে সৃজিত?" আদরের ভঙ্গিতে মাথার চুলগুলো টানতে টানতে অঞ্জনা বলল। সৃজিত সুযোগ বুঝে অঞ্জনাকে ধরতে গেলে জলের বোতলটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে অঞ্জনা লেখার ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। খানিকবাদে নির্দেশ এল, "লেখাপত্র গুটিয়ে শোবার ঘরে এসো। আমি চা করে নিয়ে আসছি।" বাধ্য ছেলের মতো সৃজিত চায়ের নিমন্ত্রণে নিজের ঘর ছেড়ে অঞ্জনা আর সোহিনীর ঘরে চলে গেল।
- দাদা কি এখানে বেড়াতে এসেছেন?
নদীর পথে যাওয়ার সময় পিছন থেকে এক সৃজিতেরই বয়সী ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করল।
- ঠিক বেড়াতে নয়। বলতে পারেন স্বাস্থ্যোদ্ধারে।
সৃজিত সংক্ষিপ্ত সেরে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।
ভদ্রলোক সৃজিতের সঙ্গ চায়। জিজ্ঞেস করে,
- আপনার বাড়ি কি কলকাতায়?
- না, না। আমি কৃষ্ণনগর থেকে এসেছি।
শঙ্কিত হয়ে পড়ে সৃজিত। মনে মনে ভাবে - ভদ্রলোক কি আমাকে চিনতে পেরেছেন!
- আপনাকে আমার খুব চেনা মনে হচ্ছে জানেন?
ভদ্রলোক আরও একটু কাছে এগিয়ে আসেন।
- কমন চেহারা তো। ওরম অনেকেরই মনে হয়। তা আপনার বাড়ি কোথায়?
জড়তা কাটিয়ে স্মার্ট হবার চেষ্টা করে। মনে মনে ভাবে, কী করতে যে আজ বের হতে গেলাম! ঘরে বসে লিখলে এই আপদও জুটত না আবার লেখাটাও এগিয়ে যেত অনেকটা!
- আমার বাড়ি সল্টলেক। তিনদিনের ছুটিতে এসেছি। সপরিবারে। আমার হাঁটুর ব্যথা তাই বক্সা ফোর্ট দেখতে যাইনি। হেঁটে হেঁটে অত উপরে উঠলে বাড়ি ফেরাই আমার পক্ষে মুস্কিল হয়ে যাবে। সারাদিন হোম-স্টে-তে বসে আছি তাই ভাবলাম একটু নদীর ধারে ঘুরে আসি।
- ভাল করেছেন। আমিও সে কারণেই একটু বের হলাম।
ভৌ ভৌ... ভৌ ভৌ...
পিকু ছুটতে ছুটতে পিছু নিয়েছে সৃজিতের। লাফিয়ে এসে এক্কেবারে তার পাঞ্জাবির ঝুল ধরে ঝুলে পড়ল পিকু।
ভদ্রলোক বেশ অবাক হয়ে গেছেন। সৃজিত পিকুকে কোলে তুলে নিল। পিকুও সৃজিতের গাল চাটতে শুরু করল।
- আচ্ছা আচ্ছা। বুঝতে পেরেছি। চল চল। তোমাকে না নিয়ে এসে আমি ভুল করেছি।
- আপনার কুকুর? আপনি সঙ্গে করে এনেছেন?
- না, না। আমি ওর অতিথি। আমার হোম-স্টে'র মালিক এই পিকু। আচ্ছা আমি আসি।
ভদ্রলোক অবাক হয়ে সৃজিতের দিকে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। সৃজিত পিকুকে কোল থেকে নামিয়ে দিল। পিকু পথ চেনাতে চেনাতে সৃজিতকে নিয়ে চলল হোম-স্টে'র দিকে। সৃজিত মনে মনে ভাবল, একটা বড় ফাঁড়া কাটল। ভদ্রলোক বোধহয় কোনোভাবে ওকে চিনতে পেরেছিল। কলকাতার লোক তো! কোথাও না কোথাও দেখেছে নিশ্চয়। কী করেন জানা গেলে বোঝা যেত।
- শ্যামলাল, ও শ্যামলাল!
জী সাহাব। বলুন কী করব।
- আরে! তুমি কি পিকুকে আমায় পাহারা দিতে পিছনে পাঠিয়েছিলে নাকি?
- ছিঃ ছিঃ সাব। আপনি যে কী বলেন! ও আপনার পিছু নিয়েছিল নাকি?
- শুধু পিছু নয়। আমাকে এক্কেবারে ধরে নিয়ে এল তোমার কাছে। খিদে পেয়েছে শ্যামলাল। রুটি বানাও আর ভাজি। এখন কিছু খেতে ইচ্ছে করছে।
- এক্ষুণি করছি সাব।
পিকু সৃজিতকে ঘিরে গোল গোল ঘুরছে আর মাঝে মাঝে ভৌ ভৌ করছে। ওকে কোলে করে উপরে তুলে নিয়ে যায় সৃজিত। বারান্দার চেয়ারে বসে ওর গায়ে মাথায় হাত বোলাতে থাকে। মায়া! একেই কি মায়া বলে? নিজেকে প্রশ্ন করে সৃজিত। সোহিনী যখন খুব ছোট তখন মাঝে মধ্যে ওকে কোলে নিয়ে নানারকম ননসেন্স ছড়া মুখে মুখে বলত সৃজিত। কোথাও সেগুলো লিখে রাখা হয়নি। তবে তখন অন্ত্যমিলের ওস্তাদিতে শুনতে খারাপ লাগত না। সৃজিতের সবচেয়ে বড় সমালোচক অঞ্জনা পর্যন্ত সে সব ছড়ার প্রশংসা করত খুব। ছড়াগুলোকে গুছিয়ে না লিখে রাখার জন্য পরবর্তীতে অনেক খোঁটাও শুনতে হয়েছে তাকে।
- আমি তো আর তোমার সুন্দরী ফ্যানদের মতো না। আমার কথার আর কী দাম বলো? অত করে বললাম ছড়াগুলো লিখে রেখে দাও। একটুও প্রয়োজন মনে করলে না?
- আরে ধুর। লিখে রাখা হয়নি, হয়নি। ওই নিয়ে অত মাথা ঘামানোর কী আছে?
- অনেক কিছু আছে। আসলে তোমার জীবনে আমার কোনো গুরুত্বই নেই। কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি করি। মাস গেলে ভাল মাইনে ব্যাঙ্কে ঢোকে। তোমার সংসার ভালভাবে চালাতে কাজে লাগে। আমার ওটুকুই দাম।
ইদানিং অঞ্জনার এই ধরনের কথাগুলো খুব গায়ে লাগে সৃজিতের। চাকরিটা চলে যাবার পর থেকে। কথাগুলো ঘুরে ফিরে শুনলেই খুব অস্বস্তি হয়। নিজের উপর বিরক্তি জাগে। অঞ্জনার উপর রাগ হয়। আর এই সমস্ত আবেগ, অনুভূতি ক্রমশ তাকে অসুস্থ করে তোলে। সবার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে একা থাকতে ভাল লাগে সৃজিতের। অন্ধকার ঘর ভাল লাগে। আগে তাও গান শুনত ঘন্টার পর ঘন্টা। এখন সেইসব গানেও কোনও আরাম পায় না সে। একটার পর একটা গান বদলায়, দু-চার লাইন শোনে আর তারপর এক্কেবারে বন্ধ করে রেখে দেয়। মোবাইল ফোনটা পর্যন্ত সাইলেন্ট করে রেখে দেয়। মাঝেমধ্যে দরকারী ফোনও ধরা হয় না তার। অঞ্জনা তো বটেই পুরোনো বন্ধুরা, সহকর্মীরা পর্যন্ত তাকে গালমন্দ করে। নিজেকে নিজের খুব ঘেন্না লাগে সৃজিতের। কান্না পায়। পুরোপুরি ব্যর্থ মনে হয় এই জীবন। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পুরুষ মানুষের কোনও দাম নেই এ সমাজে। খুব পরিস্কারভাবে এ কথা বুঝে নিয়েছে সে। পাঠকহীন বাংলা সাহিত্যে লেখালিখিরও তেমন কোনও দাম নেই। যে শিল্প জীবিকার ন্যূনতম ব্যবস্থা করে দিতে পারে না সেই শিল্প নিয়ে নিজের জীবন নষ্ট করা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয় - এ কথা চাকরি যাবার পর খুব পরিস্কারভাবে বুঝেছে সৃজিত। কিশোর থেকে তরুণ হাজার হাজার নতুন লেখক, কবিকে বিভিন্ন কাগজে লেখা ছাপানোর তাগিদায় দৌড়াতে দেখে তার এখন হাসি পায়। সেইসব কাগজের ছবি, লেখার ছবি ফেসবুকে দিয়ে আর শ'খানেক লাইক, কমেন্ট পেয়ে যে কবি, লেখক হওয়া যাবে না তা পরিস্কারভাবে বুঝেছে সে। শিল্পের সঙ্গে জীবিকার মেলবন্ধন যেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক তেমনই লেখার মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই ডুবে থাকার মধ্যে লেখা ছাপানোর কোনও তাগিদ থাকবে না, থাকবে না কোনও ফেসবুকীয় প্রচারের উদ্যোগ। দিনের পর দিন নিজের লেখাকে জারিত করে তুলে আনতে হবে আকর সাহিত্য। যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকের উৎসাহে ছড়িয়ে পড়বে মুখে মুখে।
সৃজিত জানে ব্যাপারটা এত সহজ নয়। বাঙালি পাঠকের অধিকাংশ সেইসব সাহিত্য পড়ে যা তাদের নির্দিষ্ট করে চিনিয়ে দেওয়া হয়। বড় হাউসে কাজ করার সুযোগে বাজার দখলের রাজনীতির অনেকটাই হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে সে। পাশাপাশি এও বুঝেছে যে প্রকৃত পাঠক ক্রমশ বাংলা সাহিত্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অরুময়দার মতো সাহিত্যিকের বইও আজকাল এক বছরে ফার্স্ট এডিশন শেষ হয় না। ভাবা যায়? অথচ এখনও সৃজিত এই নির্জন পাহাড়ের কোলে বসে তার নতুন উপন্যাস লিখতে লিখতে ভাবছে এই উপন্যাসটা যদি কোনোভাবে বাজারে হিট করে যায়।
"আরে ভাই, তুই একজন ভালো অনুবাদক খোঁজ। বাংলার চেয়ে ইংরেজির বাজার বড়। তোর উপন্যাসের অভিনবত্ব আছে। কিন্তু বাংলার পাঠক নতুন লেখককে আবিষ্কার করার কাজে খুবই অলস। বাজার তাদের যেভাবে নতুন লেখক চিনিয়ে দেবে তারা সেভাবেই সে লেখককে চিনবে"। অরুময়দা বলেছিল।
"আমার তো দিন শেষ হয়ে এল আর তাছাড়া আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন বাজার অন্যরকম ছিল, পাঠক অন্যরকম ছিল। বাঙালির সংস্কৃতিও অন্যরকম ছিল। এখন নিজের বাজার নিজেকে তৈরি করতে হবে। বিপনন কৌশল খুব জরুরি। ভেবে দেখ"।
ভেবে দেখা হয়নি সৃজিতের। দু'একজন অনুবাদকের খোঁজ যে পায়নি তা নয় কিন্তু তাদের খরচ মেটাবার সাধ্য হয়নি তার। প্রকাশক ব্যাপারটাই এখন ভ্যানিস হয়ে গেছে। এখন সব দালাল। বই ছাপার দালাল। বাজারের মুখোশ পরে বিজ্ঞাপনের চমকে প্রিন্ট ডিমান্ডের খেলায় মত্ত। এমনিতেই পাঠক বই কিনছে না তার উপর এই পদ্ধতিতে বইয়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আরও অনেক পাঠক পালিয়ে যাচ্ছেন। বাজারে সাহিত্য বলতে যা বিক্রি হচ্ছে তার বেশিরভাগই থ্রিলার। সৃজিত মানিয়ে নিতে পারেনি থ্রিলার সাহিত্যে নিজেকে।
"যে লেখায় দুটো পয়সা আসবে তুমি তো সেসব কিছু লিখবে না! থ্রিলার লিখলে না। রেডিওর জন্য নাটক লিখতে বলল তাও লিখলে না। খাবে কি? কাগজ না অক্ষর"? অঞ্জনা রাগে গজগজ করতে করতে অফিসে বেরিয়ে যায়। সোহিনী আস্তে আস্তে বাবার লেখার টেবিলের পাশে এসে দাঁড়ায়। বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলে, "বাবা আর চারটে বছর সময় দাও। আমি চাকরি পেয়ে গেলে তোমাকে কোনও কাজ করতে দেব না। তুমি শুধু লিখবে। আর বছরে দুটো করে বই করার দায়িত্ব আমি নেব"।
সৃজিত মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বুকে। ভিতরে কান্না ভিড় করে। গলা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চায়। মেয়ের চুলে বিলি কাটতে কাটতে সৃজিত শুধু বলে, "তুইও দেখছি মায়ের মতো পাগলি হয়ে গেলি"!
"কেন? কেন বাবা"? সোহিনী উঠে দাঁড়িয়ে বাবার চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করে।
- বড় হলে সব বুঝবি। প্রেমে পড়লে আরও ভাল করে বুঝবি। যা এখন এখান থেকে। আমাকে লিখতে দে।
সৃজিতের পিঠে একটা আদুরে ঘুষি মেরে মেয়ে নিজের ঘরে চলে যায়।
- সাবজী রোটি। পনিরের সব্জি করেছি। আপনি খান তো?
- হ্যাঁ তা তো খাই। শোনো শ্যামলাল, তুমি আরও পাঁচশ টাকা নিয়ে রাখ বাজারের জন্য।
চেয়ার ছেড়ে উঠে পিকুকে মেঝেতে রেখে সৃজিত ঘরে ঢোকে। ব্যাগ থেকে একটা পাঁচশ টাকার নোট বের করে শ্যামলালকে দেয়। হাত ধুয়ে এসে পিকুকে রুটি ছিঁড়ে দেয় মেঝেতে। তারপর নিজে খায়। সোহিনীর কথা আজ তার খুব মনে পড়ছে। কান্না পাচ্ছে। মেয়েটা কী করছে কে জানে? খিদের মুখেও খেতে ভাল লাগছে না আজ।
(ক্রমশ)
