গল্প ও অণুগল্প

পাউরুটি (অণুগল্প)



তারকনাথ সাহা


বাবা করোনায় মরে যাবার পর, পল্টুর মা এক বাড়িতে রান্নার কাজ নেয়। সাথে পল্টুকে স্কুল ছাড়িয়ে দিয়ে চায়ের দোকানে কাজে লাগিয়ে দেয়। নিধুবাবু হিসেবি লোক। খাতায় সওদা ধরে ধরে সব খুঁটিনাটি লিখে রাখেন, রাতে মিলিয়ে মিলিয়ে হিসেব কষেন। দুপুরে আধ ঘন্টা পল্টুকে দোকানে বসিয়ে বাড়িতে খেতে যান আর পল্টুর খাবার আনেন। তখন বেচাকেনা বন্ধ থাকে। হিসাবের তাই দরকার নেই। এমনিতে সব ঠিকই চলছিল। নিধুবাবুর হঠাৎ খেয়াল হল, রোজ একটা করে পাউরুটির হিসাব তিনি পাচ্ছেন না। তক্কে তক্কে থেকে একদিন দুপুরে বাড়ি যাবার নাম করে আড়াল থেকে দোকানে লক্ষ্য রাখেন। দেখেন পল্টু একটা পাউরুটি নিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে দোকানের পিছনে ময়লা ফেলার জায়গার পাশে ঘাসের উপর ছড়িয়ে দিচ্ছে আর চারটে কুকুরের ছানা সেগুলি মাথা নিচু করে খাচ্ছে আর কিঁউ কিউঁ করছে। বাপ মরা অভাবি ছেলেটার মনে জীবেদের প্রতি এই ভালবাসা তাকে চমকে দিল। এইজন্যই পল্টু সকালে দ্বিতীয়বার আর টিফিন করেনা। নিজে কম খেয়ে কুকুরছানাগুলোকে রোজ খাওয়ায়। নিধুবাবু ভাবলেন সঙ্গতি থাকলেই ভাল কাজ করা যায় না। ভাল কাজ করার জন্য বড় মনের দরকার।