সঙ্গীহীন দুপুরের পাশে পড়ন্ত বিকেল এক ঠোঙা রোদ নিয়ে এসে বসে। পড়ন্ত বিকেল জানে তার পাশে একটু পরেই এসে বসবে সন্ধ্যাতারা। এমনি করেই যদি দিন রাতের কবিতা লেখে, লেখার চেষ্টা করে, তাকে তুমি বাতিল করে রেখে দেবে কোন যুক্তিতে?
বর্ষার সকালে মেঘের মুঠো ছেড়ে যে বৃষ্টি পালাতে চায় মাটির আদর খেতে, তার সেই দ্রুত ছুটে আসা কি কবিতা লেখার চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর? ভয়ঙ্কর প্লাবনের অপেক্ষায় থাকে ভালবাসার বাঁধ। তার শুধু ভেঙে পড়ার প্রতীক্ষা।
শরতের মেঘের দিকে তাকিয়ে যে সূর্যালোক নিজেকে ঋত্বিক রোশন ভেবে জামার কলার উঁচু করে পুজো মণ্ডপে ঘুরে বেড়ায় সারারাত, তাকে কেউ পাত্তা দিল না কোনওদিন। অথচ গ্রীষ্মের রোদ দুর্নাম কুড়োতে কুড়োতে কত সহজেই গলায় ঢালে ঠান্ডা পানীয় অথবা আইসক্রিম আর তাকে দৌড়ে এসে জাপটে ধরে কালবৈশাখীর মেঘ!
শীতের লেপের সঙ্গ তোমার যতই ভালো লাগুক না কেন মধ্যরাতে ঘুমের ঘোরে তুমিই তাকে লাথি মেরে সরিয়ে দাও শরীরের ওপর থেকে। এর দোষ নিতে প্রস্তুত থাকে অবিন্যস্ত স্বপ্নের কলাকুশলীরা। আর, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে করতে গ্রীষ্মকালের এসি রুমে ঘুমের সময় লেপ তোমার সঙ্গী হতে রাজি থাকে এখনও।
নিদ্রাহীন রাতের শরীরে কখনও কোনও কামোত্তেজনার গরম শ্বাসের শব্দ যতিচিহ্নের অপেক্ষায় নিজের পরমায়ু কমিয়ে ফেলে। আর, ভোররাতের বৃষ্টিতে নিজেকে নিশ্চিত ঘুমের দেশে নিয়ে যায় দীর্ঘ স্বগতোক্তির পরে অন্য এক রাত।
এইসব পর্যবেক্ষণ একদিন উন্মাদের পাঠক্রমে প্রবেশ করবে জেনেই আমি নিঃশব্দে চিবিয়ে ফেলি অসময়ের বৃষ্টির জল আর সশব্দে কামড় দিই মেঘের আড়াল থেকে মুখ বাড়ানো রোদের নাকে। ব্যথায় চিৎকার করতে করতে সে তখন ছায়ার পাশে এসে বসে আর সঙ্গীহীন দুপুর ও পড়ন্ত বিকেলের রূপকথা শোনায়।
