কবিতা

বালুকাবেলা বৃদ্ধাবাস



সুজাতা দে


ও নাম যে পাইনি কোনো ঘরে।
ও নাম শুধু আজ শূন্য বুক জুড়ে
গোধূলিবেলায়।

আলো নিভে আসা দিনে সবই ছড়ায়
ঘর-বর পার করে হাত ধরে তুলে -
পর করে দেয় বিদেশবাসী আত্মজ।

বাড়িটার 'বালুকাবেলা' নামখানা কে যে রেখেছিল!
উড়ো-খই পথে ভাসানোর আগেই;
বাণভাসি মুখগুলি...
জড়ো হয়ে, জড়াজড়ি।

পরস্পরের জন্মদিন পালন হয় আবৃত্তি রবীন্দ্রগানে...
যে যার মতো; মাতিয়ে রাখে সারাটাদিন
একদিন বইতো নয়!

সমাজসেবী, সিনেমা-শিল্পী, রাজনীতিবিদ নাম কেনে...
একবাক্স মিষ্টি আর হাসিমুখ সেল্ফিতে।
স্পেশাল লাঞ্চ-প্যাকেটও জুটে যায় কোনো কোনোদিন;
সোশ্যাল মিডিয়াও এসবে মাতে বেশ।

শিকে ছেঁড়া এইসব দিন;
বালুকাবেলায় জোটে কোনোদিন -
গাছে জল দিতে গিয়ে খানিক থামা, চোখ পড়ে নেয় চোখ।
ঘরে জানালার পাশে নিত্যপূজার ঘন্টাধ্বনিও একইসাথে অচল...
বয়সের ভারে নয়; তবে!

ছানি কাটা চার চোখের হাসি -
চোখে চোখে কথা...
দেখেনি তো কেউ - আবার
আড়াল আবডাল থেকে,
এখনো কি রাধিকা চেনে; মুরলীর সুর!

হ্যাপি বার্থডের কেক কাটাকাটি শেষে;
আটাত্তরের আবাসিক অসীমের আশীর্বাদ-ছুঁয়ে দেয় হাতখানি
আটষট্টির আবাসিক যুথিকার কোঁচকানো গালে...
এইটুকু স্পর্শে আজও কি প্রেম-ঢেউ ওঠে!

ওদের মনে আটাত্তর বা আটষট্টি
কোনো বয়সের হিসাব নয়।
আবাসিকরা যে যাই ভাবুক...
আসলে এগুলো তো এক একটা বেড নম্বর।
ভালোবাসার ওঠানামায় ব্যারোমিটারে মাপা রেকর্ড -
এগুলো নথিভুক্ত হয়নি এখনো;
পড়ে থাকে গোপনে, অপেক্ষায়।

অবশেষে শেষ বিকেলে, 'বালুকাবেলা বৃদ্ধাবাস'
বাসাটির নাম সার্থক হলো আজ
কতোদিনের শেষে...
আজ এমন আপনজনকে পাশে পেয়ে...।

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।