"আরে মুখার্জি টিফিন আনো নি তো?" - বিকাশের কথায় কেমন যেন চমকালো সৌমেন। ও কি করে জানলো! সত্যিই তো আজ মনি টিফিন দিতে পারছিল না। কিভাবে দিত, আর কিই বা দিত? আজ মাসের উনত্রিশ। আটা, ময়দা, মশলাপাতির কৌটোগুলো ধুয়ে কাঁচিয়ে নিয়ে নেওয়া হয়ে গেছে। থাকার মধ্যে ডিম আর দুধটুকুই ঘরে যা আছে। তাও ওটা মাসকাবারি বলে ফুরোয় না। চালটাও বাড়ন্ত ছিল বাড়িতে, পরশুই বিমলের দোকানে ধার করে দু' কেজি এনেছে সাথে দু' কেজি মুড়ি।
মুড়ি দিয়েই রাতগুলো কাটছে কর্তা গিন্নির আজকাল। ছেলেটাকে একটা ডিম সেদ্ধ আর ভাত রোজ পাতে দিতে পারে এটাই শান্তি।
আজ টিফিনে সত্যিই আনার কিছু ছিল না তাই কিছুটা মুড়িই স্টিলের টিফিন বাক্সটাতে ভরে এনেছে সৌমেন। লুকিয়ে খাবে আর কেউ দেখলে বলে দেবে পেট গরম। একটু জল ঢেলে অফিসের ক্যান্টিন থেকে চিনি চেয়ে খেয়ে নেবে।
ছোট থেকেই এই মুড়ি বরাবর সাথ দিয়ে এসেছে সৌমেনকে। তবে আগে ত্রিশ দিনের পঁচিশ দিনই জলখাবারে মুড়ি থাকতো। এটা ছাড়া আর কি করত মা! পাঁচ ভাইবোন ছিল সৌমেনরা। বাবার একার আয়ে চলত পাঁচ দুই সাত সাথে ঠাকুমা আট জনের তিন বেলার খাবার সাথে পড়াশোনা।
ভাবলেই আতঙ্ক লাগে সৌমেনের। এখন তো সে অনেক ভালো আছে। মাসের প্রথম গোটা দশ দিন দিব্বি চলে এখন - মাছ মাংসে পাত সাজানো থাকে ওই ক'দিন। ঠিক এগারো দিনের মাথা থেকে আঠেরো দিন পর্যন্ত শুধুই মাছ তাও ষোলো তম দিন থেকে সেই মাছের আকার ছোট হতে হতে আঠেরোতম দিনে কুচো মাছ ভাজা। তারপর উনিশ তম দিনে থেকে শুরু হয় ডিমের ভেলকি।
ডিমের কষা, ডিমের রসা, ডিমের ডালনা, ওমলেটের তরকারি। আর সাতাশ থেকে শেষ অবধি শুধু ডিম জলে সেদ্ধ কখনো জল পোচ। মশলা তখন চেছে পুছে ধুয়ে মুছে অপেক্ষা করছে আবার পরের মাসে সাজবে বলে।
মনি ছোটবেলায় দারুন বলতো রনিকে "মাসের প্রথমে এতো তেল ঝাল মশলা খাস তাই মাসের শেষে সেদ্ধ খা নাহলে পেট গরম করবে। হঠাৎ একটা মাসের শেষের আগের দিনে মঙ্গলবার পড়েছিল। মনি জানালো আজ বাড়িতে পুজো আছে। তাই নিরামিষ।
পুজো শুনে রনি কি খুশি - ফল মিষ্টি দই কিন্তু পুজো শেষে দেখা গেলো কয়েক টুকরো শশা, শুখনো কিসমিস আর নকুল দানা। এই দিয়েই বজরংবলীর পুজো সেরেছিল মনি আর পাকাপাকি ভাবে মঙ্গলবার নিরামিষ শুরু হলো সেদিন থেকে।
তারপর ধীরে ধীরে শনিবারও চিহ্নিত হলো নিরামিষের দিন হিসেবে। মনে পড়েছে সৌমেনের ছোটবেলায় ওদেরও তিন দিনে নিরামিষ হতো - মঙ্গল, শনি আর বৃহস্পতি। খুব রাগ হতো মায়ের ওপর সৌমেনের, এতদিন নিরামিষ, আজ বোঝে সৌমেন নিরামিষ কোনো ভগবানকে কেন্দ্র করে হয় না সবটাই পকেট ভিত্তিক। বাবার ওপরেও রাগ হতো। কিছুতেই বুঝতো না তখন সৌমেন যে সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরে কি করে বাবা।ওই সময় মনে হতো ওতো ঘুরলে তো ও লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতো!
আজ বোঝে সৌমেন বাবাকে, কিন্তু আর বুঝে কি হবে শেষের দিন অবধি কষ্টেই কেটেছে ওনার। বমি পায়খানা বন্ধ আর হয় না। না ডাক্তার পেলো না ওষুধ। সদ্য কলকাতায় তখন সৌমেন, ট্রেনিং চলছে ওরা কথা দিয়েছে চাকরি শেষেই মিলবে চাকরি।
পেয়েওছিলো আধা সরকারি, টাকাকড়ি দেবে তখনকার দিনে আড়াইশো। তাতেই মাটি আঁকড়ে পড়ে শেষমেশ পুরো সরকারের দয়া পেয়েছে সৌমেন। আজ সে সরকারি কর্মচারী। নামেই জগৎ কাপে অথচ ঘটিটাও ডোবে না।
"কি রে বিকাশ কি শুনছি আজ নাকি রমেনবাবু খাওয়াবেন।" - সমর দার কথায় বিকাশ বললো "হ্যাঁ গো, সামনে রিটায়ারমেন্ট সেই দুঃখে মনে হয়!" সবাই হেসে ফেললো। এই ছোট্ট অফিসে মাথা বলতে জনা ত্রিশ কিন্তু হাসি ঠাট্টায় বেশ কাটে অফিসের সময়টা।
"আজকের আয়োজন শুনেছো? লুচি আর খাসির মাংস। ভাবতে পারো!" - গলায় উত্তেজনা ঠেলে বেরোচ্ছে যেন সুদেবের। এরা সবাই সৌমেনের সাথে একই পোস্টেই কাজ করে। মাসের শেষে কম বেশী সংসারে টান সবারই চলে।
এই সময় দাঁড়িয়ে লুচি আর খাসির মাংস সত্যি স্বপ্ন। ভাবনাটা মনে আসতেই পেটটা যেন ডেকে উঠলো একবার। আসার আগে একটু চিঁড়ে ধুয়ে দিয়েছিলো মনি। গতমাস থেকে ওই চিঁড়ে কটার গতি করতে পারছিলো না বলে বেশ চিন্তায় ছিল ও।
আজ নিজে থেকে ওগুলো বের করে সৌমেনের সামনে বললো, "অনেকটা চিঁড়ে আছে ঘরে, এ মাসে আর আনবো না। না খেতে খেতে পোকা ধরে যায়!" - সৌমেনের পকেট আর তার ভারটা সৌমেনই বোঝে, তাই পোকা ধরার আগে সৌমেনই চিঁড়ে ক'টা ধুয়ে খেয়ে নিলো।
গাছের লেবু ধরেছিলো কি ভাগ্গ্যিস। গাছদের এরকম কোনো ব্যাপার নেই যে মাসের শেষ ফল ফুল দেবে না!
"বুড়োটা কিন্তু বেশ চালাক। খাওয়াবি সেটা আগে বল। তাহলে তো আর বয়ে টিফিন আনতে হতো না!" - ভুবনের কথায় অম্লান বললো "ওটাই তো চালাকি! লোকে টিফিনে খেয়ে কম টানবে!" আবার হাসির রোল উঠলো বারো নম্বর ঘরে।
সৌমেনদের গ্রুপে সব চাইতে বিজ্ঞ বা অভিজ্ঞ লোকটি হলেন সমীরণ। নাকের ওপর চশমা এঁটে বললেন, "আসলে সারাজীবনে প্রচুর বার বলেছি খাওয়ানোর জন্য। নতুন পুরোনো সবাই খাইয়েছে কিন্তু কিপ্টে রমেন কক্ষনো না! আর মাস খানেক আছে তাই হয়তো মনটা নড়ে উঠেছে।"
বেশ গম্ভীর গলায় মজা করেন এই সমীরণ। কথা আর কাজ - এভাবেই দিনগুলো পাড় হয় অফিসের। কেটে যায় সময়। দুটো লোক এসে বড় বড় বাক্স দিয়ে গেছে। পলিথিনে ভরা সেই বাক্সের ভিতর থেকে মাংসের গন্ধ আসছে। আর সেটা সারা ঘর ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর সাথে পেট জুড়ে চলছে দাপাদাপি।কে বা কারা পেটের ভেতর এই দাপাদাপি করে জানা নেই সৌমেনের। কিন্তু কোন পছন্দের খাবারের গন্ধে কি ভীষণ দাপাদাপি শুরু করে ওরা।
অফিসের গ্রুপ ডি স্টাফ নরেন এসে বাক্সগুলো বের করে সবার টেবিলে টেবিলে দিতে শুরু করেছে। প্রত্যেকে তখন হাত ধুয়ে তৈরী। সৌমেনও উঠে পড়লো চেয়ার ছেড়ে। হাত মুখটা ধুয়ে একটু ধন্যবাদ বলে আসবে রমেনবাবুকে পাশের ঘর থেকে। অনেক উঁচু পোস্টে আছেন রমেনবাবু। আর ক'দিন বাদেই রিটায়ারমেন্ট। অফিসে সবাই কিপ্টে বলেই চেনে ওনাকে। কিন্তু সৌমেন বোঝে ওটা আর যাই হোক কিপ্টেমি নয় সংযমি হয়তো। এই তো কত খাওয়াচ্ছেন আজ।
মনটা বেশ ভালো লাগছে সৌমেনের আজ। এই কদিন জল মুড়ি, বাদাম মুড়ি নাহলে ভাত ডিম সেদ্ধ, কোনোদিন ভাত আর জল পোচ। আসলে ধার করা পছন্দ করেনা মনি। যেটুকু না করলে খিদে থেকে যাবে শুধু সেটুকুই করে তাও খুব কম আসে সেসব মাস। যেভাবেই হোক ঠিক চালিয়ে নেয় মেয়েটা। মেয়ে বলেই পারে বেশ বোঝে সেটা সৌমেন। হাত ধুয়ে রমেন বাবুর সাথে একটু কথা বলেই নিজের টেবিলে ফিরে এলো সৌমেন।
"আরে রমেনদা তো বেশ খুশি! গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম উপলক্ষ্য কি, বললেন ধরে নাও আবদার মেটানো! আর কদিন! রমেশ দার গলা বেশ ভার!" - সৌমেন নিজের টেবিলে এসে বললো। কিন্তু কারোর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
সবাই তখন লুচির টুকরো ছিঁড়ে মাংসের ঝোলে ডুবিয়ে সরাসরি মুখে। আর চোখ বন্ধ করে সেই মাংসের সুখ নেওয়ার সময় আর যাই হোক কথা বলা যায় না, উচিতও না।
সৌমেন এসে বাক্সটা খুলতেই নাক টেনে গন্ধ নিলো। উফ স্বর্গসুখ যেন। লুচিটা টেনে ছিড়তে যাবে তার আগেই রনির মুখটা মনে পড়লো। বেচারা সকালেও কেমন দুধ মুড়ি খাচ্ছিলো মুখ কাচুমাচু করে। দুপুরেও ওর মা দেবে জল পোচ আলু সেদ্ধ আর ভাত। সেরকমই আয়োজন দেখে এসেছিলো সৌমেন। মনি সামনের ভ্যান থেকে আলু কিনল আজ। দরকারে টাকা ঠিকই বের করে আনে মনি। কিন্তু এমনি চাইলে মুখ শুকিয়ে বলে "কত তারিখ আজ, কোথায় পাবো? কতবার বলেছি মাসের প্রথম দিনে থেকেই চেপে চলো! ভুলে যাও তুমি তোমার আয় তাই না? "হয়তো কিছুটা টাকা সঞ্চয়ে রেখে দেয় পাছে এর থেকেও বড় বিপদ কিছু ঘটে!
সামনে লুচি মাংস কিন্তু খেতে পারছে না সৌমেন। বারবার ছেলেটার কথা মনে পড়ছে। থাক মুড়ি কটা খেয়ে নি। আর তো তিনটে দিন তারপর এক কেজি মাংস এনে তিনজন মিলে খাবো।
মনের বরাবর দুটো দিক থাকে। এক দিক আস্কারা দেয়, আরেক দিক বাধা দেয়। ওই আস্কারা দেওয়া ভদ্রলোক বললো খেয়ে নি, বাড়ি গিয়ে না বললেই হলো! অফিস কাছারিতে এরকম পরিস্থিতি আসলে এটা করতেই হয়। নাহলে পাঁচজন কি বলে!
আস্কারা পেয়ে লুচির একটুকরো ছিঁড়ে ঝোলে ডুবালো সৌমেন কিন্তু মুখে দিতে পারলো না বাধা দেওয়ার ভদ্রলোক এসে হাজির - ছেলেটা যে বড্ড ভালো খায় মাংস। কি দিতে পারছি ছেলেটাকে?
সৌমেন লুচির টুকরোটা রেখে বাক্সটা বন্ধ করে দিলো। জিতে গেলো বাধা দেওয়া ভদ্রলোক। পেটে গুড়গুড় করছে সৌমেনের। হাতে লেগে থাকা মাংসের ঝোলটুকু চেটে নিলো। মনে মনে ভাবলো থাক রনি বড় হলে ভালো চাকরি করলে অনেক টাকা হবে তখন রোজ খাসি খাবো।
কথাগুলো ভেবেই হেসে ফেললো সৌমেন। ইজি চেয়ারটায় আরামে বসে আছে সৌমেন। হাতে বড় মোবাইল দেহ জুড়ে সুখের চিহ্ন। আরামে আয়েসে আজ সে আটসট্টি।
আর রনি সেও আজ অনেক উঁচু পোস্টে কাজ করে। প্রতি মুহূর্তে বাবাকে আরাম কিনে দিচ্ছে। এই ইজি চেয়ার যেটা রনিই কিনে দিয়েছে সৌমেনকে কেমন শান্তি লাগে এটাই বসলে।সামনে দেওয়াল জুড়ে টিভি। হাতে হাতের চেয়েও বড় মোবাইল। সুখ বোধহয় একেই বলে। আজ সৌমেনের মনে হয় সেদিনের করা কষ্টগুলো কাজে দিয়েছে।
রান্নাঘরে প্রেসার কুকারের সিটি পড়লো! সোমা মানে রনির বৌ আজ খাসি রাঁধছে। জমিয়ে খাবে সব দুপুরে। মাংস ভাত। কিন্তু সৌমেনের ভাগ্যে জুটবে চিকেন স্যুপ আর এক কাপ ভাত সাথে প্রচুর সবজি।
কালকেই সুগারের রিপোর্ট আসলো। ডাক্তার বলে দিয়েছেন খাওয়ায় আরও লাগাম দিতে হবে! জিভকে কন্ট্রোল না করলে আয়ু কমে আসবে, শুধু নাক সজাগ রাখুন সৌমেনবাবু দেখবেন পেট ভরে গেছে। খুব মজা করে কথা বলেন ডাক্তার রায়।
কি করে বোঝাবে সৌমেন ডাক্তার কে জিভকে কন্ট্রোল করতে জানে সৌমেন। ছোট থেকেই। জমিদার বাড়ির পাশেই সৌমেন দের বাড়ি ছিল গ্রামে। ওখানে প্রতি রবিবার এই গন্ধ পেতো! কিন্তু জিভকে কন্ট্রোল করেছিল কারণ লোভে পাপ হয় মা শিখিয়েছিলো।
তারপর একটু বড় হয়ে কলকাতায় আসলো। ওখানে একটা ভদ্রলোক মেস ভাড়া দিয়েছিলেন। কি সুন্দর সুন্দর গন্ধ বেরোতো ওদের ঘর থেকে সেদিনও নাক সজাগ রেখে জিভে সেদ্ধ ভাতের সাধ নিয়েছিল। পকেট তখন খুব নড়বড়ে। তাই ওটা ছাড়া উপায় নেই জানতো সৌমেন।
তখন ঠিক করেছিল সৌমেন চাকরি হোক তখন না হয় রোজ জিভের যত্ন নেবে। কিন্তু তখন দায়িত্ব এসে পড়লো - বাবার হঠাৎ চলে যাওয়া সাথে ভাইয়ের পাড়াশোনার মাঝ পথ। মেজো বোনের বিয়ে আর ছোট বোনের ও পড়াশোনা।দিদির বিয়েটা দিয়ে যেতে পেরেছিলেন বাবা সাথে ছিল নানান রকম রোগে সেজে ওঠা মা!
তাহলে ঘটনাটা কেমন দাঁড়ালো - আবার সেই জিভের কন্ট্রোল। কিন্তু আশা ছাড়ে নি সৌমেন, ভেবেছিলো ভাইয়ের চাকরিটা হোক একবার, ব্যস কন্ট্রোল ফন্ট্রোল সব গুলি মেরে দেবে ঠিক করেছিল সৌমেন।
ভাইয়ের চাকরি হলো, সবে জিভে শান দিচ্ছে সৌমেন তক্ষুনি মায়ের আবদার আমি আর বেশিদিন নেই বড় বৌয়ের মুখ দেখতে চাই।
ভাইয়ের চাকরির তিন চার মাসের মাথাতেই মনির এন্ট্রি জীবনে। তার ও শখ আল্লাদ খুব কিছু ছিল না। একটা হলেই হলো তাই বোধহয় আবার জিভ কন্ট্রোল হয়ে গেলো। বছর ঘুরতেই রনি হলো ব্যস জিভ পুরো কন্ট্রোলড। এবার যদি সঞ্চয় না হয় ওর ছেলেটাকেও ওর মত কষ্ট করতে হবে।
বাবা হয়ে সেটা কিছুতেই মানতে পারবে না সৌমেন। যতোটা পারবে ছেলেকে গুছিয়ে দেবে। সেই আশায় আবার লাগাম দিলো জিভে আশা ছিল শেষ বয়সে নিশ্চই এতটা কষ্ট হবে না। ছেলের টাকায়, নিজের পেনশনে রোজ চলবে কোরমা, পোলাও, মাংস, রাবড়ি।
সেই সময় যখন উপস্থিত তখনই সাড়ে চারশো সুগার আর প্রেসারের তো মা-বাপ নেই। রনি কলকাতার বড় ডায়াবেটোলজিস্টকে দেখিয়েছে তারপর ডায়টেসিয়ানের আদেশে এখন শুধু পাতলা ঝোল আর সেদ্ধ। মিষ্টি, খাসি ইলিশ নাকি বিষ তাই এক বাটি মুরগির পাতলা ঝোলই এখন বরাদ্দ।
পকেট এখন বেশ সতেজ কিন্তু জিভ বাবাজি এখনো কন্ট্রোল্ড। আবার প্রেসার কুকারের সিটি পড়লো আরেক প্রস্থ সুন্দর গন্ধ লুকিয়ে ঢুকে পড়লো সৌমেনের ঘরে।
নাক ছোট থেকেই সজাগ রেখেছে সৌমেন। তাও যদি মনি না পালাতো, বলে কয়ে এক টুকরো মাংস ঠিক
"বাবা খাবার এনেছি!" - সামনে সোমা দাঁড়ানো। মনির কথা ভাবার সুযোগ না দিয়েই ঢুকে গেলো। ঘড়িতে একটা বাজে। এতো সময় জ্ঞান মেয়েটার, ঘড়ি না হলেও চলে। ওই সময় বলে দেয়।
"আজ না হয় তোমাদের সাথে খেতাম।রবিবারটা একা ভালো লাগে না।" - বাচ্চা ছেলেদের মত আবদার জুড়লো সৌমেন।
সোমা অবশ্য বেশ কঠিন এ ব্যাপারে। বললো, "পাগল নাকি? আমরা যখন খেতে বসবো তোমার তখন ফল খাওয়ার সময়। ওতো বেলায় খেলে আর দেখতে হবে না।"
গ্লাসে জলটা ঢেলে দিলো সোমা। তারপর বললো "কালকের রিপোর্টটা কিন্তু খুব চিন্তার, যাই হোক এগুলো খেয়ে নাও, আজ এক টুকরো মিষ্টি পাকা পেঁপে দেবো।"
লোভ দেখানোর সুরে বলে হাসলো সোমা। আবার কুকারের সিটির আওয়াজ। বেশ কয়েকটা সিটি না দিলে তুলতুলে হয় না মাংস।
"খাও তুমি আমি মাংসটা নামিয়ে আসছি!" - বললো সোমা।
আবার সেই গন্ধ যেটা প্রতি সিটির সাথে নতুন ভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে। চোখ বুঝে নাক টানলো সৌমেন। তারপর উচ্ছে সেদ্ধ দিয়ে ভাত ক'টা মাখলো। নাকে মাংসের ঝোলের গন্ধের সাথে উচ্ছে মাখা ভাত - খারাপ লাগছে না। একেই বোধহয় বলে "ঘ্রানেন অর্ধভোজনং"।
