ভাষার ইতিহাস মানবের অরিজিনকে নির্দেশ করে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্দোলন হল ভাষা আন্দোলন। কেননা এতে ধর্মীয় অনুশাসন ও বেড়াকে টপকে মানুষ তার প্রাণের ভাষাভাষী আত্মীয়ের পাশে থাকতে চায়। এভাবেই একদিন উর্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলা ভাষা আলাদা দেশ হয়ে গেছে। বাংলা ভাষাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও মিষ্টি ভাষা আমি বলি। তবে বিশ্বের কাছে প্রথম মিষ্টি ভাষা ফরাসি। ভাষা বিবর্তন ও ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন অনেক প্রাশ্চাত্য লেখকগণ। লিখেছেন সাহিত্যের ইতিহাসও। আমাদের দেশে ও অঞ্চলে লেখা হয়েছে প্রাচীন সাহিত্যের ইতিহাস।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখকদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডঃ সুকুমার সেন, ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

'শিব শিং সরোজ'-এর আধুনিক সংস্করণের প্রচ্ছদ।
তেমনই আছে হিন্দি সাহিত্যের ইতিহাস। হিন্দি সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে প্রথম গ্রন্থ লেখেন শিবশিং সিঙ্গর, ১৮৭৭ সালে। গ্রন্থের নাম 'শিব শিং সরোজ'।
ভারতীয় প্রাচীন সাহিত্যকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। একটা 'বর্ণাশ্রমী' ও অপরটি 'শ্রমণ' বা 'সমণ' সাহিত্য।

কবীর। আনুমানিক ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের চিত্রকর্ম।

সদগুরু রবিদাস জী মহারাজ পাদুকা তৈরিতে ব্যস্ত।

সদগুরু রবিদাস জী মহারাজ

ভারতের লক্ষ্মণগড় মন্দিরে পদ্মভঙ্গিতে যোগ ধ্যানরত গোরক্ষনাথের মূর্তি।
বর্ণাশ্রমী সাহিত্য ভাগ্যে বিশ্বাস করে। মূর্তিপূজা, অবতার, অন্ধবিশ্বাস, কণ্ঠীমালায় বিশ্বাস করে। এটাই কারণ যে কবীরকে কণ্ঠীমালা পরিয়ে দেওয়া হয়। রবিদাসকে বৈষ্ণব বানানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু বাস্তবে কবীর ছিলেন গোরক্ষনাথের অনুগামী। সন্ত রবিদাস থেকে বয়সে প্রায় কুড়ি বছরের ছোটো। কাছাকাছি ছিল বসবাস। তিনি সাধনার শেষ ধাপে নিঃসঙ্গ হয়েছিলেন নিশ্চয়ই, ফলতঃ গোরক্ষনাথের সংস্পর্শে আসেন। তিনি গোরক্ষনাথের সাথে অঙ্গাংগীভাবে জড়িয়ে ছিলেন। তাই লিখেছেন - "গুর গোবিন্দ দোউ খরে কাকু লাগু পা'য়।" এলাহাবাদ ইউনিভার্সিটির আলোচক ডঃ রাম কুমার বর্মা স্পষ্ট বলেছেন - "সন্ত রবিদাস, কবীরদাস, শ্রমণ পরম্পরার কবি। কবীরের পদে সিধু, নাথুর প্রভাব আছে। সিদ্ধাচার্য আর গোরক্ষনাথের অনুগামী তাঁরা। গোরক্ষনাথের গুরু ছিলেন পীর মৎসেন্দ্রনাথ। তাঁর স্থান ছিল পারমার রাজাদের তৈরি বৌদ্ধ গুহা। পরে বৌদ্ধ মীননাথ বা মৎসেন্দ্রনাথকে ব্রাহ্মণ্য আচারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।"

রাহুল সাংকৃত্যায়ন (৯ এপ্রিল, ১৮৯৩ - ১৪ এপ্রিল, ১৯৬৩)
রাম কুমার বর্মা ছাড়াও নমনীয় মনোভাব দেখান রাহুল সাংস্কৃতায়ন উরফ কেদারনাথ পাণ্ডে। চন্দ্রিকা প্রসাদ জিজ্ঞাসু, ডঃ আঙ্গনেলাল এঁরা তো সরাসরি বলেছেন - "সন্ত রবিদাস একজন বোধিসত্ত্ব।"

১৯৫২ সালের ১ অক্টোবর ইন্ডিয়া পোস্ট কর্তৃক প্রকাশিত সুরদাসের উপর একটি স্মারক ডাকটিকিট।
তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বুদ্ধের দিকে নির্দেশ করে। তাঁর পদে শতনাম, নিরঞ্জন শব্দ বুদ্ধের জন্য। নিরঞ্জন নামে ও রূপে মগ বা বৌদ্ধরা বুদ্ধকে উপাসনা করত। বেদ, ব্রাহ্মণ থেকে দূরে থাকতেন তিনি।
শিবশিং সিঙ্গর, ১৮৭৭ সালে 'শিব শিং সরোজ'-এ ১,০০৩ জন কবির উল্লেখ ও বর্ননা দিলেও সন্ত রবিদাস, কবীরের উল্লেখ করেন নি। কিন্তু আরও আশ্চর্য কথা ১৮৩৯ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে বসে গয়সা দ্যাতোসি তাঁর গ্রন্থে সন্ত রবিদাস সম্পর্কে লিখছেন পাঁচ পাতা, অথচ শিবশিং ১৮৭৭ সালে তাঁর গ্রন্থে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে থাকা সাধক কবি সন্ত রবিদাস, কবীরের সম্পর্কে কিছুই জানেন না ভাবতে অবাক লাগে। পরে গণপতি চন্দ্র গুপ্তা লেখেন 'হিন্দি সাহিত্যের বৈজ্ঞানিক ইতিহাস'। তিনি মৈথিলী সরণ গুপ্তাকে নিয়ে লেখেন ছয় পাতা, অথচ সন্ত রবিদাসকে নিয়ে একটি বাক্যও বলেন না! জাতিবাদের সংস্কার থেকে তিনি মুক্ত হতে পারেন নি। তিনি সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
জর্জ আব্রাহাম গিয়ারসন একজন ICS ছিলেন। সিভিল সারভ্যান্ট। ১৯৩৩ সালে তিনি ৯৫৩ জন কবির উল্লেখ করলেও সম্পূর্ণ উপাদান নিয়েছেন সিঙ্গরের গ্রন্থ থেকে। তাঁর লেখনী থেকে বাদ চলে গেছেন শ্রমণ কবিরা।
রামচরণ শুক্লা ১৯২৯ সালে যে ইতিহাস লেখেন তাতে তুলসীদাসকে নিয়ে লেখেন ষোলো পাতা। সন্ত রবিদাসকে নিয়ে লেখেন এক পাতা। আরও স্পষ্ট যে রামচরণ শুক্লা বর্ণাশ্রমী কবিদের জন্য আদর্শসূচক শব্দ 'জী' ব্যবহার করেন। রামানন্দজী, তুলসীদাসজী, সুরদাসজী অপরদিকে সন্ত রবিদাস, কবীরদাসের শুধু নামটুকু উল্লেখ করেন, তাঁদের জন্য আদর্শসূচক শব্দ যোগ করা মনুর বিরুদ্ধ কাজ। আরও বড় কথা শুক্লাজী শ্রমণ কবিদের 'সাম্প্রদায়িক' বলে উল্লেখ করেন। তাঁরা নাকি ধর্মীয় ভাবধারা পোষিত। কিন্তু শুক্লাজী, তুলসীদাস দুবের 'রামচরিতমানস', সুরদাস, বৈশ্বানর সাহিত্য এদেরগুলো সম্প্রদায়হীন হয় কি করে? এগুলো কোন কফি হাউসের আড্ডায় বসে লিখেছিলেন তাঁরা? 'রামায়ণ', 'মহাভারত' সেগুলোও কি অসাম্প্রদায়িক? নাকি নাগরিক প্রচার সভা এসব নিজের ইচ্ছেমতো ছেপে দিয়েছিল?
হতেও পারে। প্রকাশকরা সন্ত রবিদাসজীর পদের সাথে এমন কাজ করেছে।
রবিদাসজী বলেন - "করম বনধন মে বঁধি রহিএ/ ফল কি(ন) ত্যাজিয়ে আস।"
কর্মের ফল নিশ্চিত। এখানে বন্ধনীকৃত 'ন' বন্ধনীমুক্ত করে দিলে অর্থ দাঁড়ায় কর্ম করো ফলের আশা নিয়ে। কর্মফল নিশ্চিত। এই 'ন' সরিয়ে দেওয়ার ফলে রবিদাসজীর পদ, গীতার দর্শনের সাথে মিলে যায়।
আরেকটা পদে, "জাত জাত মে জাতি হৈ, জো কেলল কে পাত।"
'কেলল' শব্দকে 'কেতন' শব্দে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে মূল ভাবের বিকৃতি ঘটে। জাতি ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেমনটা কলা গাছের পাতার মতো। জাতির ভিতরে জাতি।
যাইহোক, শুক্লাজী তুলসীদাসকে নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন, যে তুলসী দাস রামরাজ্য চায়। যে বলে, "ঢোল গাবার শুদ্র নারী/ তাড়না কে অধিকারী।"
নারী আর শুদ্রের স্থান রামরাজ্যে কেমন ছিল! স্ত্রীর অগ্নিপরীক্ষা হলেও তাতে রামের বিশ্বাস ছিল না। তাই স্ত্রীকে বনবাসে যেতে হল। বানররাজ বালীকে লুকিয়ে হত্যা করতে হল। শম্বুককে শুদ্র ঋষি হবার কারণে হত্যা করে রাম। কাপুরুষোচিত রাম রাবণের ভাই বিভীষণকে রাজা হবার লোভ দেখিয়ে ভাতৃহত্যার কারণে পরিণত করে। এই শ্রেণীর মানুষদের তাড়না বা যন্ত্রণা দেওয়াটাই যেন ব্রাহ্মণ্যধর্ম।

১৯৪৯ সালে শ্রী গঙ্গা পাবলিশার্স, গাইঘাট, বেনারস কর্তৃক 'রামচরিতমানস'-এ প্রকাশিত তুলসীদাসের ছবি।

১৭ শতকের গোস্বামী তুলসীদাসের চিত্রকর্ম। বারাণসীর তুলসী ঘাটে আখড়া গোস্বামী তুলসীদাসের সংগ্রহে সংরক্ষিত।

বারাণসীর তুলসী ঘাট-এর কাছে অবস্থিত তুলসীদাস-এর বাসগৃহ। যেখানে 'রামচরিতমানস' ও 'হনুমান চালিসা' রচিত হয়েছিল।

ভারতের চিত্রকূটের মানস মন্দিরে 'নাম-বন্দনা' (রামের নাম উচ্চারণ)-এর শুরুতে 'রামচরিতমানস'-এর কিছু শ্লোক।

হনুমান চালিশা।
তুলসীদাস গোরক্ষনাথের ঘোর বিরোধী ছিলেন। গোরক্ষনাথকে কলিযুগ আনার দায়ে অপরাধী মনে করেন।
"গোরখ জাগাও যোগ/ ভগতি ভাগাও লোক।"
তাঁদের এতটাই বদনাম করা হয় যে - ধূর্ততার কাজকে 'গোরখধান্দা' বলা হয়।
হোলির গানে কবীর, গোরক্ষনাথ প্রসঙ্গে আছে -
"কবীরা সা রা রা রা
যোগীরা সা রা রা রা"
বিদ্বেষ যে কী প্রকার তা তো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইতিহাসের সাথে ভীষণ এক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র সম্প্রতি রাখিগরী প্রত্ন ডিএনএ নিয়েও হয়েছিল। শুক্লাজী, কে সাম্প্রদায়িক?
শ্রমণ সাহিত্যে কর্মকেই প্রধান ও ঈশ্বর জ্ঞান করা হয়েছে।
সন্ত রবিদাসজী বলেন -
"শ্রমকো ইসুরি জান কে জো পুজে দিন রৈন
রবিদাস তিন্হে সঁসার মে, সদা মিলে সুখ চৈন।।"
অথবা
"রবিদাস শ্রম করি খাইছি, জৌ লৌ পার বসায়।
লেক কমাই জৌ করই, কভু ন নিহ ফল জায়।।"
তিনি বলেন সৎকর্মের বিফলে যাবে না।
তিনি বেদ সমর্থন করেন না। তিনি বলেন -
"রবিদাস বাম্ভন মাত পূজিএ, জো হোবে গুণহীন।
পূজহি চরণ চঁডাল কে, জঊ হোবে গুণ পরবীন।।"
অপরদিকে তুলসীদাস মনুর কথায় নিজমুখে বলেছেন। ব্রাহ্মণ গুণহীন যতই হোক, তবু পূজ্য। আর শুদ্র যতই গুণান্বিত হোক তাকে মান সম্মান দেবার প্রয়োজন নেই। (রামচরিতমানস)
তিনি আকাঙ্ক্ষা করেন রাম রাজ্যের।
"সিয়া রামময় সব জগ জানি/ করত প্রণাম জোড়ি যুগ পাণি।।"
তার কাছে সৃষ্টি রামময়। রবিদাসজীর কাছে সৃষ্টি চামময়।
"চাম কা হাতি চাম কা রাজা চাম কা উট পর চাম কা বাজা।।"
তুলসীদাসের বিপক্ষে যায় যে কথা - "চাম কে মন্দির বোলে রাম।" রবিদাসজী বলেন - "চাম কা চোলা রে ভাই, নাম কে বিনা কাম না আয়।"
এত বড় ভৌতিক দর্শন তুলসীদাস ভাবতেই সক্ষম নয়। এই শরীরে চাম না থাকলে কেমন লাগবে একবার ভাবুন তো!
রবিদাসজীর কথায় - "অস্থি অরু মাস তিন কা মিলে আকার। আঁখ পসারে দেখ সারা জগ চামার।"
অস্থিমজ্জা, রক্ত, মাংস এই তিনটি নিয়ে শরীর, যার আপন আপন যত্নে লেগে আছে মানুষ। এই চামড়ার শরীর ছাড়া রাম নাম ব্যর্থ। মিথ্যা।
শ্রমণ কবিরা কর্মে বিশ্বাস করে একথা আগেও বলেছি। তাঁর ভাবনার মধ্যে এসে পড়েন সম্রাট অশোক। অশোকের ছায়া দেখা যায় ভাবনায়। সম্রাট অশোক বলেছেন, "আমি অন্তঃপুরে থাকি বা যেখানেই, প্রজা আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে।" "ন হো যাঁহা শোক"। এই ভাববাদে আপ্লুত তিনি অসোক। এখানে অসোক শব্দে 'দন্ত্য স'-এর প্রয়োগ পালি অক্ষর অনুসারে।
রবিদাসজী বলেন -
"আপ খাবে ঔর খিলাবে, ঔর করে মজুরি।"
বা,
"ঐসা চাহু রাজ মে, মিলে সবন কো অন্ন।
ছোটা বড়া সুখী রহে, রবিদাস রহে প্রসন্ন।।"
তিনি বেগমপুরের বাসিন্দা। যেখানে কোন গম বা দুঃখ নেই। তিনি সম্পূর্ণ জগতকে দুঃখমুক্ত দেখতে চেয়েছিলেন। লিখেছেন - বেগমপুরা শহর কা নাও। অর্থাৎ নৌকা। বেনারস-এ কোথাও ওই নামের শহর তাঁর আমলে ছিল না। তাঁর সমতার ভাবনা তুলসীদাস থেকে শুরু করে আধুনিক সাহিত্যের ইতিহাস লেখকদের মধ্যে দেখা গেছে খুব কম।
ভাষা সাহিত্যের ইতিহাসে শুক্লাজী লেখেন 'চুরাশি সিদ্ধা'র কথা। তার মধ্যে সাড়ে ছেচল্লিশখানা পদ আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মশাই, এবং চব্বিশ জন পদকর্তার সন্ধান পান। শুক্লা মশাই তাদের সাথে পুষ্পদন্ত, ধনপাল সহ বেশ কিছু জৈন কবির, গোরক্ষনাথ সহ কিছু নাথ কবির উল্লেখ করেন। এই নাথ কবির আবির্ভাব ঘটে সিদ্ধাচার্যদের পরে। সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে চামার বা মুচিরও উল্লেখ মেলে।

১৯৩৪ সালে দ্বিতীয়বার তিব্বত সফরের সময় রাহুল সাংকৃত্যায়ণ (বসে আছেন)।
চৌরাশিটি সিদ্ধের মধ্যে দুটি চামারবংশী/গোষ্ঠী ছিল -
মহাপণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়নজী প্রত্নতাত্ত্বিক প্রবন্ধে চুরাশিটি সিদ্ধের বিবরণ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন সিদ্ধ চমরবংশেরও। একজন হলেন 'চমরি পা', যিনি বিষ্ণুনগর (পূর্ব দেশ) থেকে এবং অন্যজন "সিদ্ধ পনহ (উপনাহ) পা' বলে জানা গেছে, ইনি সন্ধো নগরের বলা হয়েছে। রাহুলজী অনেক চেষ্টা করে সিদ্ধদের এই তালিকাটি আবিষ্কার করেছেন যা তিব্বতীয় উৎসের উপর ভিত্তি করে। এই তালিকার দুঃখজনক দিক হল চামারবংশীয় এই সিদ্ধদের সমকালীন বা সমসাময়িক রাজা বা সিদ্ধের নাম পাওয়া যায় না, কিন্তু তিব্বতী রীতিতে তাঁর আঁকা ছবিও উপরের লেখায় দেওয়া আছে। সিদ্ধদের জাত দেখানোর জন্য, তাদের বর্ণপেশার সরঞ্জাম ইত্যাদি তাদের সাথে চিত্রিত করা হয়েছে। এমন অবস্থায় 'চমরি পা'র হাতে একটি জুতা দেখানো হয়। তাঁর শরীর নগ্ন, তিনি তাহমাদে আবৃত। তাঁকে যোগের ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যায়। এই চিত্রাবলির বিশেষত্ব হল যে সব সিদ্ধের নিখুঁত খালি পা দেখিয়েছে কিন্তু পনহাপাকে জুতায় আবৃত দেখানো হয়েছে, তাঁর একটি বিশেষ হাতের ইশারায় একজন ভক্ত তাঁকে নৈবেদ্য উপহার দিচ্ছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তিব্বতীয় উৎসে পাওয়া গ্রন্থে, একটি পাঠ 'প্রজ্ঞোপায়বিনিশষয় সমুদয়'-এ চমরি পা লিখেছেন, এবং পনহা পা-র লেখা পাঠ্য হল 'চর্যদৃষ্ট অনুত্পন্নতত্ত্ব ভাবনা"। এটাও প্রমাণ করে যে সিদ্ধদের সময় পর্যন্ত চামার রাজবংশ শিক্ষিত ছিল এবং গ্রন্থ রচনা করছিল।
রেফারেন্সঃ
1) সিদ্ধ চানো অউর লুনা চমারি কে সম্বন্ধ মে বিস্তৃত জানকারি হিমাচল প্রদেশ মে দলিতো কি আবাজ বন চুকে মান্যবর ওংকার সিংহ ভাটিয়া জী সে প্রাপ্ত হুই। আম জনতা মে ইন নায়কো কে মে তরহা কি কিংবদন্তিয়া প্রচলিত হ্যয়।
2) পুরাতত্ত্ব নিবন্ধাবলী - রাহুল সাংকৃত্যায়ন।
3) চমার জাতির গৌরবশালী ইতিহাস - সতনাম সিংহ।
• নাথ কবিরাও ছিলেন বৌদ্ধ আচার্য। সন্দেশ রাসকের আব্দুর রহমান, এদের দলে পড়েন।
এদের ভাষাকে সাহিত্যের ইতিহাস লেখক বলেছেন 'অপভ্রংশ' ভাষা! বাংলায় 'অপভ্রষ্ট' ভাষা। অর্থাৎ অচ্ছুৎদের ভাষা। এই ভাষা থেকে হিন্দি অবহট্ট বাংলা প্রভৃতি সৃষ্ট। শুক্লাজী কবীরের ভাষাকে বলেছেন - খিচুড়ি ভাষা! এ কেমন বিদ্বেষ?
• শ্রমণ কবিদের ভাষাকে অপভ্রংশ ভ্রষ্ট বলেন কি করে?
• সংস্কারী ভাষা সংস্কৃত। তা থেকে যদি এদের উৎপত্তি হয়, কিভাবে!
আর্য প্রাকৃত > পালি > প্রাকৃত > অপভ্রংশ > বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরী, অসমীয়া ইত্যাদি ভাষা!
• প্রস্তর যুগ থেকে মানুষ ধীরে ধীরে আধুনিক যুগে প্রবেশ করে ও সুপার কম্পিউটার, এআই, তৈরি করেছে। আচ্ছা বাবু, যুগের ও বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে না অবনতি?
অবশ্যই উন্নতি। তবে, সংস্কারী সংস্কৃত ভাষা থেকে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি কিভাবে হল? ভালো ভাষার উন্নয়ন ঘটে অতি ভালো ভাষা হতে পারে। অতি মন্দ ভাষা কি করে হবে?
এই ভাষার ব্যবহার ৭ম খ্রীষ্টাব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত চলে। চর্যাপদ ১০ম শতকের গাথা। ভাষা সমগোত্রীয়। তবে, প্রাকৃত কথার অর্থ হয় প্রাচীন। যা সম্ভবতঃ হরপ্পা সিন্ধু সভ্যতা থেকে এসেছে। যার সাথে বৈদেশিক আর্য ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু সংস্কৃত ভাষাকে প্রাচীন প্রমাণ করতে গিয়ে 'আর্য প্রাকৃত' বলে প্রথম দিকে রাখা হয়েছে। পরে পালি, পুনরায় প্রাকৃত। এবং পালির পরে প্রাকৃত দেখানোর চালাকি করা হয়েছে।
প্রস্তর যুগ থেকে যেমন আমরা আধুনিক যুগে এসেছি, আধুনিক যুগ থেকে প্রস্তর যুগে যাইনি, তেমনি প্রাকৃত পালিকে সংস্কার করেই সংস্কৃত ভাষা সৃষ্টি এতে সন্দেহ থাকতে পারে না। কালিদাস সংস্কৃতে 'রঘুবংশম' লেখেন ২০০ খ্রীষ্টাব্দের পর। আর পালি ভাষা ব্যবহৃত হতো খ্রীষ্টপূর্ব আগে থেকেই। সেই ভাষাতেই গৌতম বুদ্ধ উপদেশ দিতেন। সেই ভাষাতেই 'ত্রিপিটক' ও অন্যান্য বৌদ্ধ উপদেশ লেখা হয়েছে। বৌদ্ধ কথাসাহিত্য লেখা হয়েছে। পালি ভাষায় আছে এমন অসংখ্য বর্ণ অক্ষর শব্দ ঋগ্বেদ-এ নেই। নিরঞ্জন, নিব্বান প্রভৃতি শব্দ পালি থেকে সরাসরি সংস্কৃতে আসে। আমরা খ্রীষ্টপূর্ব হাজার বছর আগে কনকমুনি বৌদ্ধ, কাশ্যপ বৌদ্ধ, ক্রুকুছন্দ বৌদ্ধের কথাও পাই। গৌতম বুদ্ধের পূর্বে অনেক বুদ্ধের নাম পাই পালি সাহিত্য থেকে। বুদ্ধের নাম যে সুকিতি তার পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া গেছে ১৮৬৮ সালে অস্থি কলসে খোদাই প্রাকৃত ভাষা থেকে। এত বছর কেন ভারতীয় পণ্ডিতবর্গ সেটা লুকিয়ে রেখেছে তা জেনে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। তাদের জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা যে বৌদ্ধিক ত্রিরত্ন এবিষয়ে সন্দেহ রাখে না বৌদ্ধ আচার্যের। মানে সম্পূর্ণ তস্করী বৌদ্ধ সংস্কৃতি থেকে।
কোনওভাবেই সংস্কৃত সব ভাষার জননী নয়। আজও সংস্কৃত ভাষায় কোনো প্রত্নতাত্বিক প্রমাণ মেলেনি। আর্য-ইরানী ভাষা থেকেই সংস্কৃত ভাষার উৎপত্তি। মূল ভাষার উৎস মধ্য রাশিয়া। প্রাকৃত ভাষা মূলত হরপ্পা সভ্যতার ভাষা হওয়ার দাবি করে। পরবর্তী সময়ে তা রূপান্তরিত হয়ে পালি বা কথিত ভাষায় পরিণত হয়ে থাকবে। পালি ভাষায় অনুস্বর (ং)-এর ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। অন্যদিকে রাশিয়ার ভাষায় বিসর্গ (ঃ)-এর আধিক্য। মা > মাতঃ। আর্যগণের দেশ দক্ষিণ পশ্চিম রাশিয়া। কিন্তু তারা ইরান থেকে সিন্ধু প্রদেশে প্রবেশ করে। তারা ইরানে কখনও কুয়ো দেখে নি। ভারতে এসে কুয়ো দেখে অবাক হয়। তারা বৃষ্টির জল-নির্ভর ছিল। সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখত। তাই কুয়োকে বলত 'ইন্দাগার'। পরে শব্দ সংকুচিত হয়ে 'ইন্দারা' বা 'ইঁদারা' হয়ে গেছে। তাদের বৃষ্টি বা জলের দেবতা ইন্দ্র। তাই সমুন্দর, বন্দর এভাবেই এসেছে। এভাবেই অনেক অদ্ভুত শব্দ সৃষ্টি। আর্যরা পূর্বে হাতি দেখেনি। তারা যে কোনো পশুকে 'মৃগ' বলে। শিকার করাকে বলে 'মৃগয়া'। হাতির পিছনে লেজ, সামনে শুঁড়। অদ্ভুত জীব তাই তার নাম রাখে 'মৃগহস্তিন'। হস্ত মানে হাত।
শ্রী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়,
"ইঁহারা মধ্য এশিয়া (মতান্তরে, কাশপিয়ান-হ্রদের নিকটবর্তী প্রদেশ) হইতে ভারতবর্ষে প্রবেশ করেন। ইঁহারাই ভারতবর্ষে ‘আর্য’ নাম ধারণ করেন এবং ভারতের আদিম নিবাসী দাস দস্যু বা শূদ্র নামে পরিচিত হন। ইঁহাদের বাসস্থান 'আর্যাবর্ত'। এতদ্ভিন্ন ইরানের (প্রাচীন পারস্যের) অধিবাসীরাও আপনাদিগকে ‘আর্য’ নামে অভিহিত করিতেন; ইঁহাদের বাসস্থান ‘ইরান’-ই তাহার পরিচায়ক। আর্যগণের মধ্যে প্রথমে বর্ণবিভাগ ছিল না, পরে ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয়ে বিভক্ত হন এবং শূদ্র চতুর্থ বর্ণ হয়। শূদ্রশ্চতুর্থো বর্ণ আর্যস্ত্রৈবর্ণিকঃ (কাত্যায়ন সূত্র-ভাষ্য)।"
- 'বঙ্গীয় শব্দকোষ', শ্রী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলা ভাষায় ভাষাশাস্ত্রী রামেশ্বর শ বলেন,
"ঋ ৯ এ ঐ শ স ষ বেদের পরবর্তী যুগে লোপ পেয়েছে। যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ প্রচলিত ছিল। ক্র প্র ক্ত। পরে আর্য ভাষায় একক বর্ণে সমাহিত হয়। - একে আমি মিথ্যাচার বলতে পারি।"
যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ অবশ্যই ছিল তা বেদ প্রামাণ্য। কিন্তু একই বর্ণে সমীভবন ক্ক ত্ত চ্চ প্প, কেবলমাত্র দক্ষিণ ভারতে দ্রাবিড় এবং পালি ভাষায় দেখা যায়। যেমন ধম্ম, চক্ক, নিব্বান।
বাকযন্ত্রের নিয়মানুসারে ধ্বনি কণ্ঠ থেকে বহির্গত হয়। প্রথমে কণ্ঠ তার পরে মূর্ধা, তালু, দন্ত ও শেষে ওষ্ঠ স্পর্শের সাহায্য নেই। এক্ষেত্রে বাংলা হিন্দি সংস্কৃত বর্ণমালার অবস্থান সঠিক নয়।
ক- বর্গের পরে ট- বর্গ হওয়ার কথা।
ক খ গ ঘ (ঙ)
ট ঠ ড ঢ (ণ)
চ ছ জ ঝ (ঞ)
কিন্তু আমরা চ বর্গকে ক বর্গের পরে বসতে দেখি। আসলে আর্য ভাষায় ট ঠ ড ঢ-এর ব্যবহার নেই। ফার্সি উর্দুতে এই বর্ণ দিয়ে শুরু হয় এমন শব্দ পারসিক অভিধানে নেই। ঋগ্বেদে তো নেইই।
কিন্তু পালি প্রাকৃতে প্রচুর আছে। পরে এগুলো আর্য ভাষার সাথে সহাবস্থান করে কিছু শব্দ যুক্ত হয়েছে।
পালি প্রাকৃত ভাষার উদাহরণ নিলে দেখা যায় সম্রাট অশোকের শীলালেখতে কোথাও সংস্কৃত ভাষা ব্যবহৃত হয় নি। শব্দে 'ং' কিন্তু যোগ হয়েছে। এবিষয়ে আগেই বলেছি। অথচ তাঁর পিতা বিন্দুসার ও পিতামহ চন্দ্রগুপ্তের গুরু, মার্গ দর্শক ছিলেন পণ্ডিত বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্য। তিনি সংস্কারী ভাষায় নীতিশাস্ত্র লিখলেন, যখন সমাজে প্রজা পালি ভাষায় কথা বলছে, যখন রাজা কথা বলছে, তবে সংস্কৃত পড়ত কে?
কেউ না। আসল কথা চাণক্য ইতিহাসের চরিত্র নয়। নাটকের চরিত্র। বিশাখদত্তের নাটক 'মুদ্রারাক্ষস'-এর চরিত্র।
বাংলা নাটক 'চন্দ্রগুপ্ত'-এ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় লিখেছেন - ধননন্দ চন্দ্রগুপ্তের বৈমাত্রেয় ভাই। একথা ঠিক নয়। ঠিক হলে চন্দ্রগুপ্তের স্ত্রী দুর্ধরা তাঁর বৈমাত্রেয় বোন, ধননন্দের বোন ছিল দুর্ধরা। ধননন্দের উপর পিতৃহন্তার দায় চাপে।
ধননন্দ নাকি নাপিত ছিলেন। চন্দ্রগুপ্ত চামার। তা নিয়ে প্রবাদও তৈরি হয়েছে। 'গোরখধান্দা' শব্দের মতোই। চাণক্য/কৌটিল্য নামে কোনো চরিত্র ইতিহাসে থাকলে অশোকের শিলালিপিতে অবশ্যই স্থান পেত।
তবে বৈদেশিক চীনা পুঁথি যা পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া পালি সাহিত্যের অনুবাদ এখন প্রকাশ্যে আসছে। জানা যাচ্ছে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের এক দাদা ছিলেন বৌদ্ধ ভিক্ষু। তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ছিলেন যাঁর নাম বিষ্ণুগুপ্ত। তাছাড়া এতবড় পণ্ডিত রাজনৈতিক নীতিগ্রন্থের নাম দেন 'অর্থশাস্ত্র', ভাবলে আমার তো খটকা লাগে। 'অর্থ'-র অর্থ কী?
তৎসম তদ্ভব মিলে চোদ্দটি অর্থ হয়। তার মধ্যে একটিরও অর্থ নয় রাজনীতি।
কৌটিল্যর 'অর্থশাস্ত্র'-র সন্ধান মেলে ১৯০৫ সালে। শাম শাস্ত্রী ১৯০৯ সালে তা প্রকাশ করেন। কৌটিল্যর অর্থশাস্ত্রে দক্ষিণ ভারতের ভৌগলিক বিবরণের আভাস পাওয়া যায়। নদ-নদীর নাম পাওয়া যায়! কিন্তু চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এবং পাটলীপুত্রের নাম পাওয়া যায় না। কৌটিল্যর বর্ণনা অনুযায়ী বর্ণব্যবস্থার কথা আছে। বর্ণ অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন বসতের কথা আছে, আর মৌর্য কালে বর্ণব্যবস্থা ছিল না। থাকলে মেগাস্থিনিসের ডায়েরিতে তা অবশ্যই পাওয়া যেত।
মৌর্য কালে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল। প্রজার ইচ্ছায় রাজবংশ থেকে রাজা নির্বাচিত হতো। উক্ত রচনার সাথে মনু ও যাক্যবল্ক্য স্মৃতির মিল আছে বলে মনে করেন ইতিহাসবিদ ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ। 'অর্থশাস্ত্র'-এ চীন দেশের কথাও পাওয়া গিয়েছে। যার সাথে চন্দ্রগুপ্তের কোনো পরিচয় ছিল না। ১৯২১ সালে ওটো অস্টিন লেখেন 'মেগাস্থিনিস অ্যান্ড কৌটিল্য'। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কৌটিল্য চন্দ্রগুপ্তের সমকালীন নয়।
বর্ণাশ্রমী সাহিত্যের সবটাই কল্পনাশ্রয়ী। এই কল্পকথার কল্পতরু ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। ইতিহাসের সাথে প্রতারণা এবং ছলনার প্রয়াস কিন্তু বন্ধ হয় নি। কোনো এক মুচলেকানন্দ কালাপানির সাজাপ্রাপ্ত, তিনি জেলাখানা থেকে পাখি রূপে উড়ে আসতেন নিজ দেশে। স্বাধীনতা সংগ্রামের লড়াই করে আবার পাখি হয়ে উড়ে জেলে ফিরে যেতেন। দক্ষিণের সিলেবাসে এই গল্প লেখা হয়েছিল। এটা একশো বছর পর ইতিহাস হয়ে যেত। বাস্তবে তিনি বিদেশী শাসকের এজেন্ট ছিলেন। তার জন্য মাইনে পেতেন। এভাবেই কৌটিল্য এক কাল্পনিক চরিত্র হয়েও ইতিহাসে রয়ে গেছেন।
হেন সংস্কারী সংস্কৃত থেকে অপভ্রংশ হয়ে যায় শ্রমণ কবিদের ভাষা। এই আলোচনা যত এগিয়ে যাবে আমরা ততই আশ্চর্য হব। রাম জন্মের ষাট হাজার বছর পূর্বে লেখা বাল্মীকি রামায়ণের কবি বাল্মীকি বুদ্ধের নিন্দা করে দুটো কথা বলতে ভোলেন নি। অব্রাহ্মণ বা নীচকুলোদ্ভব সিদ্ধ কবি জ্ঞানীদের আজোবধি যোগ্য সম্মান দেয় না উচ্চকুলের পণ্ডিতগণ, কি সামাজিক, কি রাজনৈতিক।
চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।
