কবিতা

ছায়ানট, তবুও জাগে



প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী


সংস্কৃতির সুরেলা পাখিটা
আগুনের গ্রাসে জ্বলছে,
ভয়াল ভীষণ বিভীষিকাময়
দাবানল ঢেউ তুলছে,
তার অস্থি মজ্জা পুড়ছে।

মননভূমিতে চারণ করতো
কৃষ্টির মাঝে ছায়ানট
কত যে শান্তি, সঙ্গীত প্রীতি
বুনে ছিল বীজ অকপট,
আর তাতেই বাঁধলো জট।

হোথা মৌলবাদীর রণ হুংকারে
রক্তাক্ত জাতির কবি,
ডুবে গেছে তাঁর গানের ভেলা
ধূলি লাঞ্ছিত ছবি
কত যন্ত্রণা হায় রবি।

ওরা অন্ধ, ভ্রষ্ট, সমাজদ্রোহী
বিপথে হাঁটতে ব্যস্ত
ওরা আগুন জ্বেলেছে কৃষ্টির ঘরে
ওরা নাগরিকে করে ত্রস্ত।

শীতের সরিষা, হাওয়া দোল দেয়
নয়নাভিরাম দৃশ্য,
প্রজাপতি ওড়ে‌, অলি মধু খায়
বাংলা নহেকো নিঃস্ব,
দেখি, ওরাই কংস-শিষ্য।

তবু হারমোনিয়াম - বিক্ষত দেহে
সুর তোলে গা-মা-পা,
দেখি তবলার দেহে রাক্ষুসে থাবা
তবু বাজে তা-ধিন-তা,
ওরে লক্ষ কণ্ঠে গা।

সংস্কৃতির ছায়ানট রাজে
তার মোহিনী অঙ্গরাগ
বাংলা মাটির পলল ভুবনে
বিছায় স্নিগ্ধ সোহাগ।
ওরে সবাই জাগ রে জাগ।

শিরা ধমনীতে নাচে ছায়ানট
বিপুল নিখিল ছন্দে
আদিগন্ত মাঠে প্রকৃতি বিরহ
বিস্মিত নিরানন্দে।
ওরা ভুলেছে ভালো ও মন্দে।

সংস্কৃতিকে শেষ করে দেবে
ভেবেছে মৌল শক্তি
আগুন হিংসা তাদের অস্ত্র
তাতেই ওদের ভক্তি।
নাই সৃষ্টিতে অনুরক্তি।

যা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলে গড়া
আর জীবনানন্দে সৃষ্টি
যেথা পদ্মা-মেঘনা-ইছামতি পানি
সজীব করেছে কৃষ্টি!
তারা মানেনা অগ্নি-বৃষ্টি।

ওরে ছায়ানট ছিল, ছায়ানট থাকে
ছায়ানটে বাঁচে বাংলা
ছায়ানটই দেবে অনন্ত সে ডাক,
রুখে দেবে শত হামলা।
পারিস যদি, তা সামলা।

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।