কবিতা

লজ্জা



তপতী চ্যাটার্জী


সেতুর নীচে অন্য পথবাসীদের সঙ্গে মেয়েটি
এলোমেলো, উদাসীন।
তার এলোমেলো কেশরাশি, বিস্রস্ত ছিন্ন বসন
ভেদ করে যৌবন উঁকি দিচ্ছে। সবার দৃষ্টিতে লোভ।
যেন সুযোগ পেলেই নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে।
এখানে কোনো শ্রেণীবিভাগ নেই।
শুধু চোখ দিয়ে কতটা ধর্ষণ করা যায় - দেখে চমকে উঠি।
আমার সভ্য চোখ সহ্য করতে না পেরে সরে আসে।
উচিত অনুচিতের দোলায় দুলতে দুলতে
চলে যাই গন্তব্যে।
মনকে অজুহাত দিই - এমন তো রোজ হচ্ছে, কজনকে - ?
একদিন সেই জায়গায় সেই মেয়েটির ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায়
ফেসবুকজুড়ে কমেন্ট করি,
মোমবাতি জ্বালিয়ে মিছিল করি।
হে ঈশ্বর আমাকে কয়েক ঘা চাবুক মারো,
আমার সুখি মনে, সুবিধাবাদী চরিত্রে কালি ছেটাও।
আমি আমার সংসার সামলাই, আমার মেয়েকে ঘরে আগলে রাখি, স্বামী সুখ আশা করি।
আমি জানি না আমার স্বামী ঐ মেয়েটির দিকে তাকিয়েছিল কিনা,
আমি জানি না আমার ভাই ঐ যৌবনের স্বাদ চোখ দিয়ে
চেটেছিল কিনা আমি জানি না বাকি যাদের আমি বিশ্বাস করি তারাও -
কিন্তু কেউ মেয়েটির শরীরে কোনো বসন জড়িয়ে দেয়নি, আমিও না
আমরা ওকে, ওদের ধর্ষিত হতে দিয়েছি, মরতে দিয়েছি
ভেবেছি এ আবর্জনা যত কমে তত ভালো।
সুখি সুখি মুখ নিয়ে লম্পট স্বামীর সঙ্গে সহবাস করতে করতে
মেয়েটির খোলা মৃত চোখের অব্যক্ত যন্ত্রনাকে ঝেড়ে ফেলতে চেষ্টা করি।
ছিঃ, ছিঃ, ছিঃ -

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।