নেভানো এই বইয়ের তেষট্টি পাতায় জ্বলজ্বল করছে
কয়েক দশকের হাড়গোড় আর স্বামীর পায়ের তল ফুঁড়ে বেরোনো
ফনিমনসার কাঁটা; সেদিন নক্ষত্রগুলি এক হয়ে গিয়েছিল,
আমার নিশ্বাসের মতো... সেদিন আমি তার হাত ধরে
হাঁটছিলাম রেললাইনের পাতের উপর দিয়ে
রেললাইনের পাত ছিল তাপ ও ছায়ায় আকীর্ণ, একটিমাত্র সূর্য
আমাদের দেখতে পেয়েছিল, আমরা তার কথামতোই
চলছিলাম, ভয় পাইনি; অবশেষে ধানের বাতাসে
যখন ঘুমিয়ে পড়লাম চোখের পাতায় জেঁকে বসল
শুকনো রক্তের কোলাহল, আমি তার নাম জানতে চাইলাম
ধারনা ছিল সূর্যের কাছাকাছি কোন একটি গ্রহের
অধিপতি সে; আজ আমি বিশ্রামের জন্য রাস্তায়
খুঁজে পেয়েছি অচেনা এই গাছকে, খুঁজে নিয়েছি, এই গাছ কি
বাসস্থান? এই গাছ কি মহাশূন্যতা, যেখানে রাতের
শিলাবৃষ্টিতে ভেসে যায়না একটার পর একটা সাদা পাতা?
সে জানতো:
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ রসালো, আর প্রত্যেক প্রাণীর চাহিদার
অনুপাতে ভিন্নতা রয়েছে।
বাবা বলতেন:
পৃথিবীটা গোল, বেশি ছুটতে যাবিনে।
মা বলেছেন:
শান্ত থাকবি, নেভানো বইয়ের মতো শান্ত।
