আজকের জাদুবিদ্যা
এইসময় Escape ম্যাজিক এক নতুন প্রাণ ফিরে পেল The Amazing Randi'র হাতে। বিশাল ক্রেনে উঁচু আকাশে ঝুলে থেকেই তিনি স্ট্রেইটজ্যাকেট থেকে নিজেকে মুক্ত করেন। জেমস র্যান্ডি পুনরুত্থান ঘটিয়েছেন হুডিনির সেই কিংবদন্তি কীর্তির - যেখানে তালাবদ্ধ দুধের ক্যান থেকে বেরিয়ে আসতেন এক নিঃশ্বাসে।

James Randi (1928-2020)

জেমস র্যাণ্ডির জাদু প্রদর্শনীর প্রচারচিত্র।
নবীন এস্কেপ শিল্পী Norman Bigelow উপস্থাপন করেন উত্তেজনা ও আতঙ্কে ভরপুর এক অভিনব প্রদর্শনী, যার নাম 'দ্য ডোর অফ ডেথ'। ভারী শৃঙ্খল, হাতকড়া, দড়ি এবং লোহার কফিনে নিজেকে আটকে তিনি শুরু করেন মৃত্যুকে হারানোর লড়াই। কফিনের দরজায় সারিবদ্ধ পনেরোটি উত্তপ্ত ধারালো ছুরি, আর প্রতিটির টিকটিক শব্দে যেন মৃত্যুর ছায়া আরও ঘনিয়ে আসে - ফলে দর্শকরা বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতেন তাঁর প্রাণপণ করা ম্যাজিকের দিকে।

Norman Bigelow (1944-2015)
মঞ্চের শোয়ের বিভ্রমের রীতি এখন খুব সুন্দর। উদাহরণ Doug Henning-এর ম্যাজিক শো। তিনি যে অসামান্য কল্পনাশক্তির পরিচয় দিয়েছেন, তা আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Doug Henning (1947-2000)
এছাড়া পশ্চিম উপকূলের টিভি ইল্যুশনিস্ট Mark Wilson নিজস্ব শিল্পধারায় জাদুশিল্পকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন।

Mark Wilson (1929-2021)

Mark Wilson performing magic.
লাস ভেগাসে, দুই সাহসী জাদুকর Siegfried and Roy দুঃসাহসিক ও সৃজনশীল ইল্যুশন দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দশ ফুট লম্বা বাঘ, বিশাল সিংহ এবং কালো চিতা বাঘের সঙ্গে তাঁদের রোমাঞ্চকর পরিবেশনা মিশে যায় কনজুরিং দক্ষতার সঙ্গে - যা দর্শকদের নিয়ে যায় এক বিস্ময়কর জগতে। তাদের জাদুকরী নিপুণতার সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়েছে সার্কাস এর বিড়াল জাতীয় পশুদের পোষ মানানোর ধৈর্য ও সাহসিকতার।

Siegfried (1939-2021) & Roy (1944-2020)

Siegfried & Roy performing magic.
মঞ্চজোড়া রাজকীয় ইল্যুশনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাপানি জাদুশিল্পী Shimada - নৃত্য, রহস্য এবং নাট্যরীতি মিলিয়ে তিনি সৃষ্টি করেন এক মনোমুগ্ধকর অরিয়েন্টাল পরিবেশনা। শিমাডা নতুন রূপে ফিরিয়ে এনেছেন প্রাচীন চীনা রঙিন ছাতার শিল্প, যা তাঁর বিশেষ কৌশলে যেন হাওয়া থেকে মুহূর্তেই জন্ম নিতে থাকে। ছাতাগুলো একের পর এক ঘূর্ণায়মান হয়ে পুরো মঞ্চজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব জাদুকরি দৃশ্যপট।

Haruo Shimada (1940-2022)
আজকের বিশ্বমঞ্চে তরুণ ও কল্পনাপ্রসূত জাদুশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম নাম David Copperfield - যিনি তাঁর অভিনয়শৈলী, ব্যক্তিত্ব এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে আধুনিক ম্যাজিককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছেন।

David Copperfield [Born in 1956] (68 years)

David Copperfield on stage performing his magic.
ডেভিড কপারফিল্ড - লম্বা, ছিপছিপে, দ্রুতবেগে চলা এক তরুণ, যার মধ্যে রয়েছে স্বাভাবিক এক স্বচ্ছন্দ কৌশল, কোমল গ্রেস এবং দুঃসাহস। যে লক্ষ্য নিয়েই তিনি মঞ্চে ওঠেন, তার প্রতি তিনি সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত। তাঁর প্রতিটি ম্যাজিক রুটিনকে তিনি দেন আলাদা নাট্যরূপ - একেকটি যেন একেকটি স্বতন্ত্র থিয়েট্রিক্যাল অভিজ্ঞতা।
কোনো একটি রুটিন নৃত্যের ছায়ায় কোরিওগ্রাফ করা হয় - সুর, আলো, রঙ এবং মঞ্চসজ্জার মেলবন্ধনে, যেখানে মূল আকর্ষণ একটি সূক্ষ্ম স্লাইট-অফ-হ্যান্ড কৌশল। অন্য একটি রুটিন গ্রহণ করতে পারে পূর্ণাঙ্গ নাটকের রূপ - গল্প, চরিত্র, প্যান্টোমাইম, ক্রিয়া এবং উত্তেজনায় ভরপুর এমন এক নাট্যপ্রবাহ, যার শেষ পরিণতি ঘটে অবিশ্বাস্য জাদুতে।
অন্য কোনো পরিবেশনা আবার ধারণ করতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শৈলী - তবে লক্ষ্য সর্বদাই একটাই, দর্শকদের হৃদয়ে বিস্ময়, সৌন্দর্য ও থিয়েটারের মায়াজাল ছড়িয়ে দেওয়া।
বিস্তৃত হাস্যরসের বাহার, যেখানে নিজেকে তিনি উপস্থাপন করেন এক রসিক বিদূষকের ভূমিকায় - আর সেই রসিকতার লক্ষ্যবিন্দুই হয়ে ওঠে জাদু। তাঁর অধিকাংশ পরিবেশনাই একেকটি কল্পলোক, স্বপ্নময় আবহে মোড়া, যা জাদুর রহস্যকে আরও গভীর করে তোলে। ঠিক যেমন ডেভিড কপারফিল্ড সব ধরনের শিল্পরূপকে একত্রিত করে এমন এক পরিবেশনা তৈরি করেন, যা তাঁর দর্শকের কাছে নিখাদ জাদুময় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
আজ এই সমস্ত জাদুশিল্পী - পুরুষ এবং মহিলা - সহ আরও অনেকে প্রমাণ করে চলেছেন যে, শিল্পের জগতে জাদুর স্থান চিরকালীন, স্থায়ী এবং অবিচ্ছিন্ন।
(ক্রমশ)
চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।
