বিবিধ

এক নকল জন্মের আখ্যান



অভিজিৎ রায়


নকল নদী আর পাহাড়ের গায়ে ঘর বেঁধে আমি শান্তি খুঁজছিলাম। এখানে গাছের পাতার রং ধূসর আর বাতাসের গায়ে নোনাজলের ছোপ ছোপ দাগ। নকল সুখের শরীরে কত কত কান্নার দাগ লেগে থাকে তা শুধু মার্ক জুকেরবার্গ জানে। স্বপ্নগুলো নুড়িপাথরের মতো স্থির হয়ে বসে থাকে খরস্রোতা নদীর বুকে। ভোরের ধোঁয়া ওঠা চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে ঘুমন্ত স্ত্রী আর সন্তানের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে ঈর্ষার অভিযোগ। এই রোগ থেকে মুক্তির স্বাদ পেতে নকল পাহাড় আর নদীর পাশে আমার হাসপাতাল, নার্সিংহোম।

একটু দূরে ডোম আমার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর সেলাই করছে। পচন ধরে যাওয়া নিজের দেহের ঘ্রাণ আমি বেশ স্পষ্ট পাচ্ছি নাকে। দূরে কেউ নকল গাছের বাকলে খোদাই করে লিখে রেখেছে আমার নাম। আমি নিজেকে চেনার চেষ্টা করছি। এইসব নকল পাহাড় আর নদীর মধ্যে কাটিয়ে ফেলা জন্ম আর মৃত্যুর ভাঁজে শুকনো গোলাপের মতো পড়ে আছি আমি। আসল না নকল সে নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো ভালবাসার মানুষ নেই এখানে। অন্ধকার সাজানো পথের দু'পাশে। ঠিক যেমন আলোর কথা শুনেছিলাম।

দূরে বেহালার ছড়ে কেউ লিখছে বিরহ কাহিনি। আমি জানি সেও নকল প্রেমের বাঁধনে বাঁধা পড়ে আছে। নকল হাসি আর কান্নার বাজারদর নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনও প্রয়োজন নেই এ সময়। একটা স্বচ্ছ ভোরের জন্য হাজার রাত্রির যৌনতা বাজি ধরে বসে থাকা জরুরি। সেই ফাঁকে পাহাড়ি নদীতে হড়পা বান আসবে। আসবেই। আর, এইসব নকল পৃথিবীর আমি ভেসে যাব ফাঁকি দেবার কথা না রেখেই। একশো একটা ফাঁকির জীবনে বাকি থেকে যাওয়া স্বপ্নের মৃত্যু নিয়ে একটা সিরিজ কবিতা অন্তত লেখা হবে ভেবে তুমি নদী থেকে জল তুলে, মাথায় ছিটিয়ে ফিরে যাবে ঘরে।