কবিতা

অভাবীর ঘরে অনাবৃষ্টির খরা



রূপ দাস


দিগন্তচারী মেঘ, আমার বাগানে বৃষ্টির প্রয়োজন।
মাধবীলতার কুঁড়িগুলো সব খর রোদে দরপোড়া।
ভুঁইচাঁপাদের হাত ঘাড় মাথা শুকনো মাটির নীচে
আশি বছরের বুড়োদের মত তালগোল একাকার
হাঁটু্র সামিল জবুথবু কাবু কোনো মতে বেঁচে আছে।
সবচেয়ে বড় কথা পুকুর তড়াগ রোদে ফুটিফাটা,
হরিমন্ডপে তুলসীগাছের পাতা সব ঝরে গেছে।

কপালের ঘাম পায়ে ফেলে আনা খুদ তন্ডুল দানা
মা অন্নদার হাঁড়ির গহ্বরে জলটুকু পাচ্ছেনা।
ছেলেপুলে সহ ঘরনীর ঠোঁট শুকনো পদ্মপাতা
স্নেহচুম্বনে তৃষ্ণালাঘব করাও তো যাচ্ছেনা।
গোয়ালের গরু পাপোষা কুকুর গা'ঘেঁষা বিড়ালছানা
শুকনো গলায় বোবা হয়ে গেছে কাঁদতেও পারছেনা।
দিগন্তচারী মেঘ কুঁড়েঘরটার দোচালা ঝাঁঝরা,
উনুনের মুখে জ্বালানি দেওয়ার বিচালি চোখের জলে
ভিজে সপসপে ,ছড়াবে কেবল চোখে জ্বালা করা ধোঁয়া।
সে জলের ধারা সামলে নেওয়ার ক্ষমতাটুকুও‌ আছে,
তবুও বলছি জীবন বাঁচাতে নামাও মুষলধারা।