১.
পাতা ঝরার কালে গাছ জেনে যায় দুঃখের রঙ ম্রিয়মাণ হলুদ। কখনও সেই রঙ নিষ্প্রাণ বাদামি। সেই রঙ লেগে থাকে ঝরে যাওয়া পাতাদের গায়ে। মানুষও দুঃখের রঙ খোঁজে আজীবন। কখনও মনে হয়, বিষের মতো নীল। কখনও শূন্যতার মতো সাদা। অথবা আঁধারের মতো কালো। তবুও মানুষের চেনা হয় না দুঃখের রঙ! বরং সুখের রঙেরাও এসে ঘর বাঁধে দুঃখের পাশে!
২.
জীবনের উঠোনে শীতের পরিচয় নিয়ে নেমে আসে ভোরের কুসুম-রোদ। এমন রোদ মেখে আজও মনে হয়, আপাতত শেষ হলো পরীক্ষার পালা। অথচ প্রতিটি শীতসুরে এখন বাজছে বিষাদের গান। রিক্ত প্ল্যাটফর্ম নিয়ে পড়ে আছে আমাদের প্রিয় রেলপথ। নিবিড় কথোপকথনের শেষে ওই পথ থেকে "ভালো থেকো" বলে ওঠে কেউ। তাকে বলি, ভালো না-হোক, যেন থেকে যেতে পারি অন্তত! এইসব আশা-নিরাশার দোলাচল নিয়ে নেমে আসে উঠোনের ভোর।
৩.
কুয়াশার ঘেরাটোপে টুপটাপ ঝরে পড়ছে সকাল। প্রতিটি দিনের মতো আজও অন্তরমহলে তীব্র হচ্ছে হিমশীতল প্রদাহ। এমন অসুস্থ দিনের প্রতিরোধে কিছু স্তব্ধতা নামিয়েছি যুদ্ধক্ষেত্রে। তাদের মুখে লেগে আছে নিঃশব্দ হাসি। আগামী কয়েক যুগ পরে এই স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হলে বোঝা যাবে, উভয়পক্ষই ছিল পরাজিতদের দলে।
