স্থানীয় খবর

  • দিকে দিকে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ স্বাধীনতা দিবসের ৭৯তম বর্ষে 'জি' ব্লক পরিচালন সমিতির উদ্যোগে অফিস প্রাঙ্গনে উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। প্রথমে পতাকা দিয়ে সাজানো প্রাঙ্গনে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু সহ বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এরপর পরিচালন সমিতির সম্পাদক রঞ্জন চন্দ পতাকা উত্তোলনের জন্য প্রবীণ আবাসিক কল্যাণ গুপ্ত বিশ্বাস ও রবীন্দ্রনাথ আচার্যকে পতাকা উত্তোলনের জন্য আহ্বান করেন। সম্মিলিত জয়হিন্দ ধ্বনির মধ্য দিয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়। তারপর সম্পাদক রঞ্জন চন্দ প্রাক্তন অধ্যাপক অনিস চট্টোপাধ্যায়কে বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি স্বাধীনতার তাৎপর্য বিশদে ব্যাখ্যা করেন, পরিশেষে সজোরে জানিয়ে দেন, "আমরা ভারতের বুকে বাস করি না, ভারত আমাদের বুকে বাস করে।"

পরবর্তী বক্তা 'জি' ব্লকের বাসিন্দা ও করুণাময়ী সমন্বয় সমিতির চেয়ারম্যান ক্ষোভের সঙ্গে জানান, "স্বাধীনতার প্রাক্কালে বিভেদের শক্তি জয়যুক্ত হয়েছিল বলেই ভারত দ্বিখন্ডিত হয়েছিল। শত শত শহীদের ফাঁসির মঞ্চে জীবন বলিদান ও কারান্তরালে অত্যাচারিত হয়ে জীবনদান এক অর্থে ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। যে দুটি রাজ্য বাংলা ও পাঞ্জাব স্বাধীনতা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে বিভেদের শক্তি আবার জাঁকিয়ে বসেছে বলেই তারা আজ আক্রমণের শিকার। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি আর পাঞ্জাবী হলেই খালিস্থানী। তাই আজ যে কোনো মূল্যে এই বিভেদ, বিরোধের শক্তিকে পরাস্ত করতে হবে।"

এরপর প্রাসঙ্গিক সঙ্গীত পরিবেশন করেন পরিচালন সমিতির সহ সভাপতি তমাল মৈত্র। পরিশেষে সুবীর বসুর নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। সম্পাদক রঞ্জন চন্দ এদিনের অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন। উপস্থিত আবাসিক ও কর্মচারীদের জন্য মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা থাকে।

৩২ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাধীনতা দিবস পালন

'ডিএল' ব্লক, 'ইই' ব্লক ও করুণাময়ীর প্রচুর মানুষের উপস্থিতিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরমাতা কাকলি সাহা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রথমে জাতীয় পতাকা ও পরে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠের জয়হিন্দ ও জয়বাংলা ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়। এরপর প্রথমে রাজ্য সঙ্গীত ও পরে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তী কর্মসূচী ছিল ১০ নম্বর ট্যাঙ্কের নিকটস্থ পেট্রোল পাম্পের সামনের শহীদ বেদীকে ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস পালন। স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর শহীদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরমাতা কাকলি সাহা। সেখানে বর্তমান সময়ের সংকট ও স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে বক্তব্য রাখেন সমন্বয় মাসিক ই-পত্রিকার সম্পাদক সুদীপ ধর। পরিশেষে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সেখানকার অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

পরবর্তী গন্তব্য করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড। সেখানে শহীদ বেদীতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন করুণাময়ী সমন্বয় সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ ধর। সুদীপ ধর তার বক্তব্যে জানান, বিদ্বেষপূর্ণ ও বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই, সংগ্রাম গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যে আদর্শ ও স্বপ্নের জন্য জীবন বলিদান করেছেন, সেই আদর্শকে আমাদের চোখের মণির মতো রক্ষা করতে হবে। সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সর্বত্রই মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা থাকে।


  • চমকে চাইনিজ

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ 'সল্টলেক রেনেসাঁ' এই মুহূর্তে বিধাননগরের একটি জনপ্রিয় সংস্থা। গত ১৫ই আগস্ট প্রতি বছরের মতো এবছরও এদের পথ শিশুদের নিয়ে ভিন্ন স্বাদের আয়োজন ছিলো চোখে পড়ার মতো। ছোট শিশুদের খাওয়ানোর উদ্যোগ নতুন কিছু নয়। বাংলা তথা কলকাতার অনেক ক্লাব সংগঠন বা অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রয়াস থাকে এই ছোট শিশুদের বসিয়ে খাওয়ানোর। কিন্তু 'সল্টলেক রেনেসাঁ'র আয়োজন ব্যতিক্রমী। ওদের সাধারণ সম্পাদক রামানুজ চ্যাটার্জি জানান, শিশুদের খাওয়ানোর সাথে সাথে আমাদের উদ্দেশ্য ওদেরকে ভিন্ন স্বাদের স্বাধীনতা দেওয়া। ইলিশ মাছ থেকে বিরিয়ানি হয়ে এবার কাটা চামচের সাথে চামচের মেলবন্ধন করে চাইনিজ খাবার আসলে ওদের জিভের স্বাধীনতা।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সঙ্গীত পরিচালক তার গানে কিংবা চিত্র পরিচালক তার ছবিতে সামাজিক উত্তরণ এর কথা বলছেন। আমরাও সেই চেষ্টাই করে চলেছি। শুধু খাওয়ানো নয় ওদের হৃদয়ে এই খাবারগুলোকে এমনভাবে গেঁথে দিতে হবে ভবিষ্যতে ওরা যেন একে অমূল্য কিছু মনে না করে। বিধাননগরের প্রচুর মানুষের সহযোগিতা আর আশীর্বাদ ছাড়া এই অনুষ্ঠান এতো সুন্দর হতো না। এবারের মেনুতে ছিল ফ্রাইড মোমো, এগ চিকেন চাউমিন, মিক্সড ফ্রাইড রাইস ও আইস ক্রিম। প্রায় দুশো চল্লিশ জন শিশু এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। উপস্থিত ছিল পৌর প্রতিনিধি কাকলি সাহা, প্রাক্তন ফুটবলার অমিতাভ চন্দ্র, বিশিষ্ট লেখক ও কবি দেবাশিস মুখার্জি এবং 'সমন্বয় সমিতি'র চেয়ারম্যান সুদীপ ধর। প্রত্যেকেই এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।


  • প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি

সংবাদদাতা - সমীরণ ভৌমিকঃ 'যদি তুমি কাছে এসে, বন্ধু গো ভালোবেসে, হাতখানি ধরো শুধু একবার।'

১৫ই আগস্ট ২০২৫, শুক্রবার, দুপুর দু'টোয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া ব্লকের, হাউর ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র শুভ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান সংগঠিত হয়ে গেল রাসমঞ্চ প্রাঙ্গনে। ঐ দিনে স্বাধীনতার ৭৯তম বর্ষের জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সেই সঙ্গে 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র পতাকা উত্তোলন, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনির শুচিস্নিগ্ধ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো। সমবেত কণ্ঠের উদ্বোধনী সংগীত দিয়ে শুরু হল নতুন পথচলা। 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র মূল উদ্দেশ্য স্বামীজীর বাণী "জীবনে এসেছো যখন একটা দাগ কেটে যাও"। মানুষ মনে রাখবে। কি সেই দাগ? 'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই'। মনুষ্যত্ব, মানবিকতা, মমত্ববোধ এই শব্দগুলো মানুষের হৃদয়ের অভিধান থেকে, মন থেকে এখন হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ এখন চলো যাই কিছু করে দেখাই না হয়ে, চলো যাই কিছু করে খাই হচ্ছে। কিন্তু ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র উন্নত, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মনের মণিকোঠায় উদ্বুদ্ধ হল প্রাক্তনী কল্যাণার্থে নিবেদিত আবেগ। কি সেই আবেগ?

(১) ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের উচ্চ শিক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান।
(২) সুপ্ত প্রতিভা (নাচ,গান, অংকন, আবৃত্তি, খেলাধুলা) বিকাশে আর্থিক সহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান।
(৩) দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ে প্রাক্তনীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান।
(৪) সংসার বিচ্ছিন্ন, নিঃসঙ্গ প্রাক্তনীকে আর্থিক সহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান।
(৫) এছাড়া আরো বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক, গঠনমূলক কাজের অঙ্গীকার।

সমিতির তরফে প্রদেয় প্রতিশ্রুতি, পরিষেবা সমূহ -

● ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রাজ্য স্তরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে দশম পর্যন্ত স্থান অর্জনকারীকে ১,০০,০০০ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে।
> পরমেশ্বর-বসন্তবালা মন্ডল স্মৃতি পুরস্কার, দাতা: বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল।
> ব্রজকিশোর-হরপার্বতী দে স্মৃতি পুরস্কার, দাতা: কৃষ্ণমোহন দে, কৃষ্ণকমল দে, কৃষ্ণকুমার দে, কৃষ্ণকান্ত দে।

● জেলাস্তরে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কৃত করা হবে।
> ভূতনাথ-শৈলবালা আদক স্মৃতি পুরস্কার, দাতা: ননী গোপাল আদক।

● মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ১০০% মান অর্জনকারীকে ১০,০০০ টাকা পুরস্কৃত করা হবে।
> সুবল চন্দ্র মন্ডল স্মৃতি পুরস্কার, দাতা: ডাঃ দীপঙ্কর মন্ডল।

● ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজ্যস্তরে প্রতিনিধিত্বকারীকে ২৫,০০০ টাকা পুরস্কৃত করা হবে।
> সুবল চন্দ্র মন্ডল স্মৃতি পুরস্কার। দাতা: ডাঃ দীপঙ্কর মন্ডল।

এই মহতী অনুষ্ঠান মঞ্চে শিক্ষানুরাগী নক্ষত্রদের উপস্থিতি এবং তাদের সুললিত ভাষণ মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল উপস্থিত শতাধিক প্রাক্তনী ও গুণীজনদের। এই মহতী সভায় উপস্থিত ছিলেন মাননীয় রবীন্দ্রনাথ সামন্ত, প্রাক্তন ছাত্র ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ময়না পরমানন্দপুর জগন্নাথ ইনস্টিটিউশন। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় নিরঞ্জন সিহি, প্রাক্তন সভাধিপতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ ও প্রাক্তন সম্পাদক, ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন কমিটি। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ডক্টর বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল প্রাক্তনী ও গণিত বিষয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক (গোল্ড মেডেলিস্ট) আইএসআই সহ জাতীয় স্তরে কলিকাতার বহু কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক এবং বর্তমান ৮২ বছর বয়সেও কলকাতার রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় বিনোদ বিহারী সামন্ত, প্রাক্তন ছাত্র ও প্রাক্তন ব্যাংক ম্যানেজার (স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া)। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় বাণী রঞ্জন দে, প্রাক্তন ছাত্র, বিভাগীয় প্রধান (বাংলা) ও পিএইচডি নির্দেশক, মেদিনীপুর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় চিত্তরঞ্জন মাইতি, প্রাক্তন শিক্ষক গোবর্ধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় গোবিন্দ প্রসাদ কর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক (ইতিহাস) বাজকুল মহাবিদ্যালয়, পূর্ব মেদিনীপুর। উপস্থিত ছিলেন কাবেরী অধিকারী, প্রধান শিক্ষিকা, ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রাক্তন শিক্ষক ও অন্যতম প্রাণপুরুষ প্রয়াত হেমচন্দ্র অধিকারী মহাশয়ের সুযোগ্য কন্যা। এই অনুষ্ঠান মঞ্চের সম্পাদক ছিলেন অনুপ কুমার দাস এবং সভাপতির আসন অলংকৃত করেছিলেন 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র মূল উদ্যোক্তা এবং সভাপতি মাননীয় ননীগোপাল আদক, বিশিষ্ট সমাজসেবী, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক পুলশিটা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই মহতী অনুষ্ঠানের মূল কমিটি একত্রিত ও সমবেত হয়ে শপথ বাক্য পাঠ করেন। সমাপ্তি সংগীত দিয়ে এদিনের অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।


  • দূরদর্শন কলকাতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ কলকাতা, ৯ আগস্ট, শনিবার ভারতের অন্যতম প্রাচীন টেলিভিশন কেন্দ্র দূরদর্শন কলকাতা আজ পঞ্চাশ বছরে পদার্পণ করে। ১৯৭৫ সালে সম্প্রচার শুরু করে এই কেন্দ্র অর্ধশতাব্দী ধরে বাংলা সংস্কৃতি, বিনোদন, খবর, শিক্ষা ও নানান সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে কোটি কোটি দর্শকের ঘরে।

সুবর্ণজয়ন্তীর দিনটিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাদুকর শ‍্যামলকুমারের মনোমুগ্ধকর ম্যাজিক শো সম্প্রচার করা হয়। তাঁর জাদু পরিবেশন সব বয়সের দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে।

গত পাঁচ দশকে দূরদর্শন বাংলা, বিভিন্ন জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে শ‍্যামলকুমারের ম্যাজিক পরিবেশন করেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চিচিং ফাঁক, তরুণদের জন্যে, ছুটি-ছুটি, হরেকরকম্বা, রঙ-বেরঙ, রকমারি, অঙ্কুর, শনিবাসর, ইউথ টাইম, এমন রকমারি অনুষ্ঠান।

সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী ও দর্শকরা এই ঐতিহাসিক দিনে দূরদর্শন কলকাতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং আগামীদিনে আরও সমৃদ্ধ, আরো আধুনিক রূপে এই প্রতিষ্ঠান দর্শকদের মনোরঞ্জন করবেন, এই প্রত্যাশায় দিন গুনছেন।


  • রাখীবন্ধন উৎসব

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ করুণাময়ী সমন্বয় সমিতির উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে রাখী বন্ধন উৎসব পালিত হয়।

৯ই আগস্ট, শনিবার, সকাল ৯টা থেকে এদিনের অনুষ্ঠানের শুভসূচনা করেন করুণাময়ী সমন্বয় সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ ধর। 'আনন্দম' সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর কর্ণধার ইন্দিরা বন্দোপাধ্যায় স্বাগত ভাষণে রাখী বন্ধন উৎসবের তাৎপর্য বিশদে ব্যাখ্যা করেন। বিশেষকরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ রোধ আন্দোলনের সূচনা করেন গঙ্গায় স্নান করে নাখোদা মসজিদে গিয়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের হাতে রাখী পড়িয়ে হিন্দু-মুসলমান মৈত্রী বন্ধনের। রাজনৈতিক কারণে আজ বাংলা ভাগ হয়ে গিয়েছে। রাখী বন্ধন এখন মানুষে মানুষে প্রীতির বন্ধনে পরিনত হয়েছে। এছাড়া হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মে রাখী বন্ধন বোনকে সর্ব রকম বিপদ থেকে ভাইয়ের রক্ষা করার অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর সঙ্গীত সহযোগে আবাসিকরা করুণাময়ী খেলার মাঠ থেকে ইডি মার্কেট, জি ব্লকের গেট হয়ে বি ব্লক ও ই ব্লকের মাঝের রাস্তা দিয়ে করুণাময়ীর ২ নম্বর গেটে উপস্থিত হয়। সেখানে করুণাময়ীর আবাসিকদের রাখী পরানো ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। আনন্দমুখর এই অনুষ্ঠানের শেষে ইন্দিরা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহিলারা সমবেত কণ্ঠ মনোগ্রাহী গান পরিবেশন করেন। উল্লেখযোগ্য গানগুলি হলো- বাংলার মাটি, বাংলার জল; এক সূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন; মোদের গরব, মোদের আশা; আমার সোনার বাংলা; আমি বাংলায় গান গাই প্রমুখ। ইন্দিরা বন্দোপাধ্যায় ছাড়া যে সমস্ত শিল্পীরা এই সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, তারা হলেন নিলীমা চ্যাটার্জী, ঈশানী চক্রবর্তী, সীমা মুস্তাফি ও অরুণা বসু। সুচারুভাবে পরিচালিত একটি পরিশীলিত অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন করুণাময়ী আবাসনের সর্বস্তরের মানুষজন।


  • 'ছন্দলিপির বিশেষ সংকলন'-এর আবরণ উন্মোচন অনুষ্ঠান

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ গত ২৪শে জুলাই ২০২৫ কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কোয়েট হল (৩, গড়িয়াহাট রোড, কলকাতা-৭০০০১৯)-এ 'লিপিরেখা' প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিতব্য শ্রী সঞ্জীব কুমার রায় দ্বারা সম্পাদিত ছন্দলিপির বিশেষ সংকলন-এর আবরণ উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল। সাহিত্যিক শ্রী শুভেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক ডঃ শুভ্রা বাগচীর মনোজ্ঞ বক্তব্যের মাধ্যমে হল শুভসূচনা। 'ছন্দলিপি'র আবরণ উন্মোচন করেন শ্রী শুভেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক ডঃ শুভ্রা বাগচী, শ্রী সঞ্জীব কুমার রায়, কবি শ্রী সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অধ্যাপক মুক্তা রায়।

অমল কর মহাশয়ের ছোট পত্রিকা সংক্রান্ত ভূমিকা ও পরিশেষে তাঁর লেখা অনুগল্প পাঠ দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কবি ও কথাকার সর্বশ্রী অমিত মণ্ডল, সোমনাথ রায়, কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায়, তাপস রায়চৌধুরী, রবীন কুমার দাস, মালা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। তাঁরা তাঁদের কবিতা ও গল্প পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিলেন।