-
মেডিক্যাল মিশন ডে ও আন্তর্জাতিক সৌভ্রাতৃত্ব দিবস

সংবাদদাতা - অচিন্ত্য সাহাঃ আজ ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫, শনিবার ডাঃ দ্বারকানাথ কোটনিস স্মৃতিরক্ষা কমিটির কৃষ্ণনগর শাখায় অনুষ্ঠিত হলো মেডিকেল মিশন ডে এবং আন্তর্জাতিক সৌভ্রাতৃত্ব দিবস। উদ্বোধন সঙ্গীত পরিবেশন করেন অচিন্ত্য সাহা এবং সোমা সাহা। মেডিকেল মিশন কী এবং কেন সে বিষয়ে বক্তব্য পেশ করেন কমিটির সদস্য অচিন্ত্য সাহা। কৃষিতে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিষয়ে বক্তব্য পেশ করেন কমিটির সদস্য বিশুদেব দাস। কমিটির কৃষ্ণনগর শাখার সম্পাদক তিলক চ্যাটার্জি সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপ এবং কীভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় সে সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করেন এবং কমিটির লক্ষ্য ও আদর্শ বিষয়ে আলোচনা করেন। কমিটির শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু আদর্শ আচার্য মহাশয় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের সেকাল এবং বর্তমানেও তার উপস্থিতি সম্পর্কে আলোচনার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সমস্যা সৃষ্টির মূলে সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা ও আমাদের কর্তব্য বিষয়ে আলোচনা করেন। বাচিক শিল্পী লেখা মজুমদার, শ্রীনন্দন এবং অর্যমা সাহা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন শঙ্কর ঘোষ, সেখ রমজান, পরেশ চন্দ্র রায়, রঘুপতি বিশ্বাস, নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস, অনঙ্গ মোহন নাথ।
সভাপতি নীহারেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় সমাপ্তি ভাষণে উপস্থিত বন্ধুদের কমিটির সদস্যপদ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। অচিন্ত্য সাহার সমাপনী সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষিত হয়।
অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৩:৩০-এ, সদস্য বন্ধু, কবি বন্ধু, রোগী বন্ধু মিলিয়ে বহুলোকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।








-
'কালান্তর' পত্রিকার শারদ সংখ্যা প্রকাশ

সংবাদদাতা - সর্বাণী ঘড়াইঃ প্রকাশিত হল শারদীয়া 'কালান্তর'। আছেন সিপিআই-এর বর্ষীয়ান নেতা ভানুদেব দত্ত, রাজ্য সম্পাদক স্বপন ব্যানার্জী, 'কালান্তর'-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি পবিত্র সরকার, সম্পাদক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। লেখক তালিকার মধ্যে শতবর্ষে ইলা মিত্রর ওপর রয়েছে কবি ও প্রাবন্ধিক সুরঙ্গনা ভট্টাচার্যের একটি নিবন্ধ। এছাড়া লেখক তালিকায় আছেন তড়িৎ চক্রবর্তী, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। শারদীয়া সংখ্যা 'কালান্তর' প্রকাশিত হলো এন্টালিতে 'কালান্তর' দপ্তরে।
-
'দ্বীপ-বাংলা' সাহিত্য পত্রিকার শারদ সংখ্যা প্রকাশ

সংবাদদাতা - সর্বাণী ঘড়াইঃ 'দ্বীপ-বাংলা' সাহিত্য পত্রিকার তিন দশক উদ্যাপন ও শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশিত হল কলকাতার প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫। উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডাঃ অশোক কুমার পান্ডে। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে আন্দামানে বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করে চলেছেন, তারই ফলস্বরূপ পাই এই পত্রিকাটি।
আজকের অতিথি বঙ্কিম ও আনন্দ পুরষ্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক নলিনী বেরা বললেন ছোট পত্রিকাও ছোট নয়, এটি সাহিত্যের আতুর ঘর। সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ রাজকুমার কোঠারি বলেন, "বাংলা ভাষা চর্চায় লিটল ম্যাগাজিনের অবদান সর্বাগ্র। এটিকে আরও সক্রিয় করে গড়ে তোলার দায়িত্ব সকলের।" কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্তন যুগ্ম নিবন্ধক এবং সর্ব ভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চের সম্পাদক নীতীশ বিশ্বাস বলেন, "বাংলা ভাষা রক্ষা করার দায়িত্ব আমরা যারা বাংলাভাষী আমাদেরই।" এছাড়া সাংবাদিক ঋতব্রত ভট্টাচার্য বিদেশে বাংলা ভাষার চর্চা ও তার গুরুত্বের কথা বলেন। সাহিত্যিক রাজীব শ্রাবণ 'দ্বীপ-বাংলা'র ভাষাচর্চার গুরুত্বপূর্ণ দিকের, বিশেষ করে তার সুবিধা অসুবিধার কথা তুলে ধরলেন। রবীন্দ্রভারতীর অধ্যাপক ডঃ সুরঞ্জন মিদ্দে পত্রিকার লেখার মানের কথা তুলে ধরলেন।
উপদেষ্টামন্ডলীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন অধ্যাপক চন্দ্রনাথ সাহা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক যূথিকা পান্ডে।




-
'কাব্যে ছন্দে শ্রুতিনাটক'

সংবাদদাতা - সুজাতা দেঃ 'কাব্যে ছন্দে শ্রুতিনাটক' সংস্থার দ্বিতীয় নিবেদন 'কবিতা ও শ্রুতিনাটক উৎসব' ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫, শনিবার বিকেল ৪টে থেকে নলিনী গুহ সভাগৃহে আয়োজিত হয়ে গেল। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার আরণ্যক বসু। কবি ও সাংবাদিক সৈয়দ হাসমত জালাল প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন। সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়, কবি পিনাকী বসু, কবি সুশান্ত ঘোষ।
উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন ডঃ মুকুল চক্রবর্তী। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন সাহিত্যিক তাপস সাহা, কবি আরণ্যক বসু, কবি সৈয়দ হাসমত জালাল, কবি পিনাকী বসু ও সাহিত্যিক সুশান্ত ঘোষ। কবিকণ্ঠে কবিতায় ছিলেন আরণ্যক বসু, চন্দ্রা বন্দোপাধ্যায়, মানস মুখোপাধ্যায়, শিখা বিশ্বাস, নন্দিনী ধর ও শিখা রায়। আঞ্চলিক কবিতা পাঠে ছিলেন মিঠু চক্রবর্তী। রিয়ম দত্ত, অম্বালী সেনগুপ্ত, দেবশ্রী মাইতি, দেবলীনা বসু, প্রসূন ভট্টাচার্য, তরুণ রায় প্রমুখ ২০ জন কবিতা আবৃত্তি করেন।
মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শ্রুতিনাটক। যে সমস্ত শ্রুতিনাটক এদিনের অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়, সেগুলি ছিল 'লক্ষ্মী'; 'সমুদ্র তীরের সেই রাত'; 'ভজহরি ক্ষ্যান্তমণি ভূত বাংলো'; 'খাদের গভীরে'; 'নিছক রসিকতা'; 'ছাদ' প্রভৃতি।
যে শ্রুতিনাটকটি বিশেষ করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে, সেটি হল 'ভজহরি-ক্ষ্যান্তমণি ভূত বাংলো'। রচনাঃ তাপস সাহা, নির্দেশনাঃ সুজাতা দে, আবহঃ সর্বজিৎ দে, অভিনয়ঃ সুজাতা দে ও সুভাশিস ঘোষাল, সঞ্চালকঃ পিনাকী বসু। 'ভজহরি-ক্ষ্যান্তমণি ভূত বাংলো' শ্রুতিনাটকটি সুন্দরভাবে প্রযোজনার জন্য পুরষ্কৃত হলেন ডঃ স্বদেশ দে। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা এত সুন্দর মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান পরিবেশন করার জন্য উদ্যোক্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।






যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) [১৮৭৯-১৯১৫]
সংবাদদাতা - মমতা বিশ্বাসঃ ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ - বুধবার কৃষ্ণনগর এ. ভি. হাইস্কুলে বিশিষ্ট প্রাক্তনী অমর শহীদ যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের ১১১তম শহীদ দিবস উদ্যাপিত হলো। অনুষ্ঠানের সূচনাতে 'দ্বারকানাথ কোটনিস' স্মৃতিরক্ষা কমিটির ১২ জন সদস্য/সদস্যাদের প্রবীণ সদস্য, ৮৫ বছর বয়ষ্ক শ্রীমান নিরাঞ্জন বিশ্বাস মহাশয় বাঘাযতীনের আবক্ষমূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয়, সহ-প্রধান শিক্ষক মহাশয়, সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ কবি ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য ব্রজনাথ মুখোপাধ্যায়ে আবক্ষমূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন। সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের ৩৫ নম্বর শ্রেণিকক্ষে রক্তদানের গুরুত্ব ও থ্যালাসেমিয়া সচেতনতার উপর সেমিনার হয় নবম ও দশমশ্রেণির ছাত্রদের নিয়ে। মূখ্য আলোচক কৃষ্ণনগর 'নর্মান বেথুন' সংগঠনের বিশিষ্টজন অমিয় বিশ্বাস মহাশয়। বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে রক্ত হল জীবনদায়ী ওষুধ; যা একমাত্র মানব শরীরে তৈরি হয়। ভারতবর্ষে প্রতিবছর ১০ লক্ষ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন। চাহিদার তুলনায় জোগানের অপ্রতুলতায় কত জীবনদীপ অকালে ঝরে পড়ছে। মানুষের অসচেতনতা ও সদিচ্ছার অভাবে রক্তের অভাব ঘটে। আরও উল্লেখ করেন থ্যালাসেমিয়া জিন ঘটিত রোগ। এই রোগ নিরাময় হয় না। রুগীকে প্রয়োজন অনুসারে রক্ত দিতে হয়। চল্লিশ বছরের বেশি কেউ বাঁচে না। এই রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায় বিয়ের আগে কুষ্টিবিচার না করে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করানো। জুটির একজন বাহক হলে কোনো সমস্যা নেই। বাহক দুজন হলে বিয়ে না হওয়াটা সমীচীন; হলেও সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আলোচনা সভাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকাগণ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক, শিক্ষিকা, প্রাক্তন ছাত্র ও দ্বারকানাথ কোটনিসের ২ ব্যক্তি সহ রক্তদান শিবিরে ২০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। এ-বছর রক্তদাতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সার্টিফিকেট ও একটি করে 'রক্তকরবী' গাছের চারা। একই সময়ে চলতে থাকে ব্রজনাথ সভাকক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করে বিদ্যালয়ের ছাত্রবৃন্দ। প্রারম্ভিক ভাষণ দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয়। বক্তব্য রাখেন বিপ্রদাশ পালচৌধুরী পলিটেকনিকের অধ্যাপক নিরাঞ্জন বিশ্বাস মহাশয়। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সত্যনারায়ণ ভট্টাচার্য মহাশয়। অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক প্রদীপ কুমার সেন, সুরেশচন্দ্র বিশ্বাস মহাশয়।
ইংরেজ সরকারের সেক্রেটারি তাঁর অফিসের একজন বাঙালি কর্মচারীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন একলা কী করে চারজন গোরা সৈন্যকে ঘায়েল করলেন?"
বজ্রকণ্ঠে উত্তর এল, "স্যার সবকিছু কী গায়ের জোরে হয়? সঙ্গে থাকা চাই জাতীয় আত্মামর্যাদাবোধ এবং নৈতিকশক্তি।"
ইনি হলেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ছোরা দিয়ে বাঘ মেরে পরিচিত হয়েছেন বাঘাযতীন নামে। সাংগঠনিক দক্ষতা বলে যিনি অসংখ্য বিপ্লবীদলকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসেছিলেন, নাম 'যুগান্তর দল'। হরিদ্বারে গুরুদেব আদেশ করলেন দেশোদ্ধারে আত্মবলিদানে তিনি মোক্ষ লাভ করবেন। শিরোধার্য করে নিলেন গুরুর আদেশ। অনুগামীদের বলতেন "আমরা মরব জাগবে জাতি"। উড়িষ্যার বুড়িবালামের তীরে মাত্র চার জন সহযোদ্ধাকে নিয়ে অসংখ্য গোরা সৈন্যদের সঙ্গে অসম লড়াই চালিয়ে যান। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। গুরুতর আহত হন। তিনি ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ১০ই সেপ্টেম্বর উড়িষ্যার বালেশ্বর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এবছর তাঁর আত্মোৎসর্গের ১১১তম বর্ষ। মহান বিপ্লবীদের আত্মোৎসর্গে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করেছে। আজকের ভারতবাসীরা কতটুকু মনে রেখেছে সেইসকল অমর শহীদদের? বীরবিপ্লবী বাঘাযতীনের শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়েছিল নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। পড়াশোনা করেছিলেন কৃষ্ণনগর এ ভি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এন্ট্রান্স পাশ করেন। বঙ্গজননীর এই দামাল ছেলে কৃষ্ণনগরের গর্ব হলেও, প্রশাসনিক দিক থেকে স্মরণ করা হয় না, শ্রদ্ধা জানানো হয় না। তাঁকে কৃষ্ণনাগরিকগণও ব্রাত্য করে রেখেছেন। মেলা, খেলায় বুঁদ সব। বাংলা ও বাঙালির চরম অবক্ষয়ের দিনে এমন বীর সৈনিকদের ভীষণ প্রয়োজন। আত্মমর্যাদাহীন, নৈতিক শক্তিহীন বাঙালি জাতিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে কারা? আলোর যাত্রীদের বিস্মরণের বিষময় ফল কী ভয়ানক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তার অজস্র উদাহরণ চতুর্দিকে।
তবে, উড়িষ্যাবাসীগণ তাঁকে যথার্থ মর্যাদায় স্মরণ করেন। রক্ততীর্থে আছে শহীদ বেদি। বালেশ্বর জেলার বালিয়াপালের 'বাঘাযতীন' স্মৃতি কমিটির সদস্যগণ সাইকেলে করে বেরিয়ে পড়েন যতীন্দ্রনাথ ও তাঁর সহযোদ্ধাদের বীরত্বের কাহিনি জনমানসে প্রচার করতে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পিতৃহীন বাঘা যতীন মায়ের সঙ্গে কৃষ্ণনগরে মামার বাড়ি চলে আসেন। ভর্তি হন এ ভি হাইস্কুলে। তাঁর অনেক দূরন্তপণা ও সাহসিকতার সাক্ষী কৃষ্ণনগর শহর। প্রতিবছর এ ভি উচ্চ বিদ্যালয় ১০ ই সেপ্টেম্বর শহীদ দিবস পালন করে। পৌরসভার পক্ষ থেকে ও প্রশাসনিক ভাবে অমর শহীদকে প্রচারের আলোকে আনা হোক, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হোক - এই আজকের দিনের প্রার্থনা।







নিজস্ব সংবাদদাতাঃ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাহিত্য, সংস্কৃতি সংস্থা 'শিল্পীমন'-এর উদ্যোগে গত ৬ ও ৭ই সেপ্টেম্বর, শনি ও রবিবার, ইজেডসিসি, সল্টলেক, কোলকাতার ঐকতান মঞ্চে পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রের সহায়তায় মহাসমারোহে আয়োজিত হয়ে গেল ১৬তম বর্ষের কবি সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় পর্বের কবি সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে আগামী ১৩, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (শনি ও রবিবার) শিল্পীমন মঞ্চ, শান্তিনিকেতনে। স্থানঃ গার্ডেন প্লাজা বিল্ডিং, চতুর্থ তল, শান্তিনিকেতন, বোলপুর, বীরভূম।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠান দুপুর ১:৩০ মিনিটে শুরু হয়। শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন কেতকী প্রসাদ রায়। উদ্বোধন সংগীতে ছিলেন ঋক রায়। এরপর ছিল সম্মানীয় অতিথিবরণ ও সম্বর্ধনা জ্ঞাপন। যাঁদের সম্বর্ধনা দেওয়া হয়, তাঁরা হলেন তপন বন্দোপাধ্যায়, কমল দে সিকদার, কল্যাণ সেন বরাট, কৃষ্ণা বসু, অশোক রায়চৌধুরী, নমিতা চৌধুরী, পার্থসারথি গায়েন, আশিস গিরি, সৈয়দ হাসমত জালাল, কাজল সুর, শ্যামল জানা, দেবব্রত দেব রায়। ঋক রায়ের একক সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রথম ভাগের অনুষ্ঠান শেষ হয়।
দ্বিতীয় ভাগের অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৪টেয়। অর্পিতা পালের পরিচালনায় রক্তকরবী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পরিবেশন করে সম্মেলক সঙ্গীত। এরপর শিল্পীমনের বিগত ১৫ বছরের পথচলার ইতিহাসের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। তারপর শুরু হয় কবিতা পাঠের আসর। এই পর্বে ৬০ জন কবি কবিতা পাঠ করেন। এছাড়া একক সঙ্গীতে ঋক রায়, জয়ন্তী রায়, শ্রেষ্ঠা মজুমদার, সুবিমল ও জয়ন্তী এবং একক আবৃত্তিতে ছিলেন তপতী অধিকারী, বিমল কোনার, দেবাশীষ ঘোষ, চন্দ্রিকা বন্দোপাধ্যায়, বিপ্লব ঘোষ, সংঘমিত্রা সেনগুপ্ত, সার্থক মজুমদার ও অর্পিতা ব্যানার্জী। একক শ্রুতিনাটক বহুরূপী, রচনা কেতকী প্রসাদ রায়, অভিনয়ে রঞ্জনা কর্মকার। এরপর ছিল হৃদয়ঙ্গম ইনস্টিটিউট অব মিউজিক এন্ড আর্টের পরিবেশন সম্মিলিত গান, পরিচালনায় অনন্যা রায়। ইচ্ছেডানার সমবেত নৃত্য, পরিচালনায় অর্পিতা বরাট। সম্মেলক আবৃত্তি, পরিচালনায় নরেশ নন্দী, পরিবেশনায় রূপান্তর এবং কলকাতার যিশু, পরিচালনায় চন্দ্রিকা বন্দোপাধ্যায়। এক কথায় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান ছিল ঠাসা কর্মসূচিতে বাঁধা।
দ্বিতীয় দিনে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন অর্পিতা পাল। মানসী সাধুখাঁর পরিচালনায় রক্তকরবী সম্মেলক আবৃত্তি পরিবেশন করে। এরপর ছিল বিশিষ্ট অতিথিদের সম্মাননা প্রদান। সম্মাননীয় অতিথিরা হলেন অধ্যাপক হিমবন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভন সুন্দর বসু ও শুভাশীষ ঘোষ ঠাকুর। "১২৫তম বর্ষে জীবনানন্দ দাশ" শীর্ষক আলোচনায় অধ্যাপক হিমবন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় তার তথ্যবহুল বলিষ্ঠ বক্তব্যে শ্রোতাদের নিবিষ্ট করে রাখেন। এরপর ছিল নন্দিনী লাহার পরিচালনায় রক্তকরবীর নিবেদন 'দুর্গার আগমন, শান্তির বাতাবরণ'। রচনা; কেতকী প্রসাদ রায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বে ছিল ১০৩ জন কবির কবিতা পাঠ। এদিনের চতুর্থ পর্বের উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলি ছিল, একক সঙ্গীতে সংঘমিত্রা বল্লভ চৌধুরী, পিনাকী চক্রবর্তী, সর্বাণী সাহা, সঞ্চারী নস্কর, ঋক রায়। একক আবৃত্তিতে ছিল সম্রাট দত্ত, কাকলি দেবনাথ, অসীম চক্রবর্তী, শুভায়ন চক্রবর্তী, পূবালী ধর, স্বাতী বন্দোপাধ্যায়, সোনালী ঘোষ, সঞ্জয় কুণ্ডু, মমতা সরকার, আরশিয়া পাত্র। এছাড়া ছিল একক শ্রুতিনাটক 'আমি বিষ্ণুপ্রিয়া'। শোভন সুন্দর একাডেমি অফ পারফর্মিং পোয়েট্রির 'আবোল তাবোল একশো বছর'। তাপস চৌধুরীর পরিচালনায় কবিতা কোলাজ। সোমা রায়ের পরিচালনায় উত্তরপাড়া লহরার সম্মেলক সংগীত।
শিল্পীমন উৎসবের প্রথম দু'দিনে যে সমস্ত বিশিষ্ট কবিরা কবিতা পাঠ করেন তাদের অন্যতম কমল দে সিকদার, নমিতা চৌধুরী, পার্থসারথি গায়েন, কাজল সুর, শ্যামল জানা, কেতকী প্রসাদ রায়, অলোক দাশগুপ্ত, দুর্গাদাস মিদ্যা, সুস্মেলী দত্ত, তপতী চ্যাটার্জী, শর্বানি ঘোষ, সাকিল আহমেদ, তাপস ওঝা, সুব্রত দাস, রূপালী ঘোষ, সুজাতা দে, সৌমিত বসু, সজল শ্যাম, অমিত কাশ্যপ, চিরঞ্জীব হালদার, পিনাকী বসু, ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায় (অদ্রিজা), শর্বাণী ঘড়াই, সুব্রত চক্রবর্তী, শম্পা দাস, রমেশ কর্মকার (পিকু)।
দু'দিন ব্যাপী সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন যথাক্রমে নন্দিনী লাহা, অংশুমান চক্রবর্তী, সপ্তর্ষি ভৌমিক, রঞ্জনা কর্মকার, রমেশ কর্মকার ও তাপসী আচার্য।
যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন পিকন, তবলায় ও শিবা, সিন্থেসাইজারে। দু'দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন, সকলেই মুক্তকণ্ঠে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানান।










নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ৩১শে আগস্ট, ২০২৫, রবিবার অনুষ্ঠিত হলো 'রোববারের সাহিত্য আড্ডা'র উদ্যোগে পঞ্চদশ উত্তরবঙ্গ সাহিত্য উৎসব, ২০২৫। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, বিহার প্রভৃতি স্থান থেকে আগত কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাহিত্য সংগঠন ও প্রকাশনা সংস্থার মেলবন্ধনে সাহিত্য উৎসব অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়।
শুরুতে পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সভাপতি ডঃ বিনয় ভূষণ বেরা। ইসলামপুরের পুরপ্রধান কানাইয়ালাল আগরওয়াল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের শুভসূচনা করেন। প্রয়াত কবি, লেখকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপরে উদ্বোধন সংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংস্থা 'শিল্পী'র সদস্যরা। প্রধান অতিথি কবি ও প্রযুক্তিবিদ বিশ্বনাথ লাহা আজকের দিনে আরও বেশি সাহিত্য পাঠের ওপর জোর দেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দীপা চৌধুরী ও রাণী সেন। রোববারের সাহিত্য আড্ডার তরফ থেকে সাহিত্য সম্মান, ২০২৫ পাঁচজন বিশিষ্ট লেখকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন সৌরেন চৌধুরী, মণিদীপা বিশ্বাস, দীপেন নাথ শর্মা, শ্যামলী সেনগুপ্ত ও দীপান্বিতা রায়। এছাড়া রোববারের সাহিত্য আড্ডার তরফ থেকে সৃজন সম্মান, ২০২৫ দেওয়া হয় প্রজ্ঞালিকা সরকারকে।
নিশিকান্ত সিনহা সম্পাদিত 'কালিনী' পত্রিকার পক্ষ থেকে কালিনী সাহিত্য সম্মান, ২০২৫ দেওয়া হয় বিশ্বনাথ লাহা, ডঃ মহুয়া রুদ্র ও সুজয় নিয়োগীকে। ভবেশ চন্দ্র দাস সম্পাদিত 'দীভম' পত্রিকার পক্ষ থেকে দীভম সাহিত্য সম্মান প্রদান করা হয় যে চারজনকে তাঁরা হলেন ডঃ প্রেমানন্দ রায়, ডঃ মহুয়া রুদ্র, সমীর রায় ও সমাপ্তি দাস। রাধাবল্লভ রায় স্মৃতি সাহিত্য সম্মান প্রাপক হলেন যথাক্রমে গৌরাঙ্গ সিনহা, সৌমিত্র মজুমদার, দুলাল দত্ত, মনোনীতা চক্রবর্তী এবং শংকর চৌধুরী। এরপরে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে ছন্দ ড্যান্স একাডেমীর ক্ষুদে শিল্পীরা। কবি অজিত ঘোষের সাহায্যার্তে তাৎক্ষণিক আবেদন জানিয়ে ১১ হাজার টাকা সংগৃহীত হয় এবং তা কবিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রথমে প্রকাশিত হয় রোববারের সাহিত্য আড্ডার স্মরণিকা, পরে ভবেশ চন্দ্র দাসের গ্রন্থ 'আমার উত্তর বাংলা' ও ডঃ মহুয়া রুদ্রের 'ডুমুরিয়ার পাড়ে'। স্মার্ত সোহম যন্ত্র সঙ্গীতে গানের সুর বাজান। সবশেষে বক্তব্য রাখেন সভাপতি গোকুল সরকার।
যাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ দিনের অনুষ্ঠান সর্বাঙ্গসুন্দর হয় তাঁরা হলেন সুভাষ চক্রবর্তী, অর্পিতা দত্ত, কুণাল নন্দী, শিপ্রা রায়, শুক্লা সিনহা, ডঃ বিনয় ভূষণ বেরা, নিশিকান্ত সিনহা, ভবেশ চন্দ্র দাস, ডঃ বাসুদেব রায়, পম্পা দাস, শিপ্রা চক্রবর্তী, রাজু দাস, চন্দন সিংহ, অন্তিম গুহ, উত্তম সরকার। সমগ্র অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রসূন সিকদার ও সুশান্ত নন্দী।





নিজস্ব সংবাদদাতাঃ 'মনের মিলন' ও 'হোটেল দা সৌজন'-এর যৌথ প্রয়াসে গত শুক্রবার, ২৯শে আগস্ট থেকে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে এক্সিবিশন 'বিনায়ক' শুরু হয়েছে। চলবে ৪ঠা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই এক্সিবিশনটিতে একদিকে যেমন সিনিয়র শিল্পী রয়েছেন, আবার আপকামিং ইয়াং আর্টিস্টও রয়েছে। সব ধরণের শিল্পীদের মেলবন্ধনে এই এক্সিবিশনটি খুব মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। সকলেই তাদের পরিশ্রম এবং শিল্পী সত্ত্বা দিয়ে গণেশের ছবি এঁকেছেন।
২৯শে আগস্ট সন্ধ্যায় এক ঝলমলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌজনের ম্যানেজার পিংকি মুখার্জি, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী রনজিত কুমার রাউত, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী সুব্রত ঘোষ, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী বিশ্বজিৎ সাহা, সমাজকর্মী ও 'সমন্বয়' মাসিক ই-পত্রিকার সম্পাদক সুদীপ ধর মহাশয়, ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মলয় দাস ও মনের মিলনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রীধর যশ মহাশয় এবং উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পরিষদ সদস্য অসীম বসুর। সমগ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এক অসাধারণ মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিল। ছিলেন শিল্পীরা এবং বেশ কিছু অতিথি। অতিথিরা চিত্রকলা প্রদর্শনীর তাৎপর্য ও প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বিশদে বক্তব্য রাখেন এবং অসীম বসু মহাশয় অসাধারণ গান করেন। 'আমি বাংলায় গান গাই' গানটি সত্যি মন ছুঁয়ে যায়। অতিথিবরণ ও শিল্পীদের সম্মান সবকিছু মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যা পরিবেশিত হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় মনের মিলনের পক্ষ থেকে ছিলেন প্রশান্ত নাথ ও শ্যামা দাস।
যে সমস্ত শিল্পীদের আঁকা ছবি প্রদর্শনীতে ছিল, তাদের নাম যথাক্রমে আলোকিতা ভট্টাচার্য, অন্বেষা মল্লিক, অর্পিতা দত্ত, অতনু হাজরা, বাপ্পা ভৌমিক, ভারতী গুহ ঠাকুরতা, কঙ্কনা ঘোড়ুই, মধুমিতা দত্ত, মধুপর্ণা রায়, মলয় দাস, মন্দিরা দত্ত, পিয়ালী মুখার্জী, পিংকি বিশ্বাস সান্যাল, প্রসেনজিৎ নাথ, শর্বরী রায়চৌধুরী, শ্যামাশ্রী লাহিড়ী, স্নিগ্ধা সেনগুপ্ত, শৌভিক দাস, সুব্রত ঘোষ।
উদ্যোক্তারা মনে করেন, বড় বড় আর্ট গ্যালারীতে চিত্র প্রদর্শনী করার চেয়ে কফি হাউস, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি জায়গায়, যেখানে মানুষের অবাধ যাতায়াত সেখানে প্রবীণ ও নতুন শিল্পীদের নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করলে সাধারণ মানুষ শিল্পমনস্ক হবে এবং চিত্রকলা সংগ্রহে আকৃষ্ট হবে। শিল্পী, সাহিত্যিক, পন্ডিত, দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, প্রযুক্তিবিদ, বিজ্ঞানী এরাই নীরবে সমাজ বদলায়, সমাজকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যায়। সাধারণ মানুষকে, বিশেষকরে শিক্ষিত সম্প্রদায়কে আজকের দিনে এই সব সৃজনশীল মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। তাঁদের অবদানকে স্মরণে রেখে যথাসাধ্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।














-
'অশোকনাথ-গৌরীনাথ শাস্ত্রী স্মারক সমিতি'র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা - বিমান ভট্টাচার্যঃ ২৫শে আগস্ট, ২০২৫, সোমবার, সন্ধ্যে ৬টায় রথীন্দ্রনাথ সভাঘরে সমিতির সাহিত্য ও সংস্কৃতির সভা হয়। বিষয়ঃ শ্রীশ্রী গণেশ।
মূখ্য বক্তা অধ্যাপক অতীন্দ্রনাথ মজুমদার। সুন্দর করে গণেশের বিক্রম, যুদ্ধ কৌশল, পরাক্রম, সাহস, নিষ্ঠা, মাতৃভক্তির বিষয়ে বিশদে আলোচনা করেন। সম্পাদক বিমান কুমার ভট্টাচার্য আলোচ্য বিষয়ের ওপর বক্তব্য রাখেন। উভয়ের বক্তব্য শ্রোতৃমন্ডলীর মনে বিশেষভাবে রেখাপাত করে। সাধু, সাধু ধ্বনিতে সভা মুখরিত হয়ে ওঠে। তারপরে সম্পাদক সংগঠনের কার্যকলাপ সম্বন্ধে কিছু কথা কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন। সকলেই অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে এইসব আলোচনা শোনেন। সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক বিভাগের সদস্য দেবীকা ঘোষ। উপস্থিত থেকে সহায়তা করেন সহ-সম্পাদক আশীষ গিরি। স্বপন চন্দ আতিথেয়তার দায়িত্বে ছিলেন, সহায়তা করেন সন্ধ্যা হালদার।
এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নামের তালিকা -
১) বিমানকুমার ভট্টাচার্য (বক্তব্য)
২) ধ্রুব হালদার (গান)
৩) স্বপন চন্দ্র (বক্তব্য)
৪) তারক শঙ্কর হাজরা (বক্তব্য)
৫) রুদ্রেন্দ্র প্রসাদ ঘোষ (বক্তব্য)
৬) অতীন্দ্রনাথ মজুমদার (মুখ্যবক্তা)
৭) আশীষ গিরি (বক্তব্য)
৮) সুনীতি বিকাশ চৌধুরী (কবিতা)
৯) দেবাশীষ মজুমদার (শ্রোতা)
১০) অরবিন্দ বসাক (গান)
১১) দেবীকা ঘোষ (বক্তব্য)
১২) সন্ধ্যা হালদার (গান)
১৩) বিষ্ণুপ্রিয়া মিত্র (গান)
১৪) রীণা ঘোষ (শ্রোতা)
১৫) রেণুকা সাহা (শ্রোতা)
১৬) রূপা গুপ্তা (গান)
১৭) চন্দ্রানী কর্মকার (গান)
১৮) অনুরাধা হালদার (বক্তব্য)
এছাড়া আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সবাইকে চা, বিস্কুট ও লাড্ডু দেওয়া হয়। এটা দেবাশীষ মজুমদার স্পনসর করেন বলে সবাই তাকে ধন্যবাদ জানান। সভার খরচের জন্য সম্ভব হলে বার্ষিক ন্যূনতম ৩০০ টাকা অনুদান দিয়ে সাহায্য করার আবেদন রাখেন সম্পাদক বিমানকুমার ভট্টাচার্য। টাকা দিতে না পারলেও সভায় অবশ্যই যোগদান করবেন- এই আবেদনও রাখেন। এতো সুন্দর অনুষ্ঠান সুচারুভাবে করার জন্য সকলেই সম্পাদককে অকুণ্ঠ সাধুবাদ জানান।











-
'কোটনিস কবিকণ্ঠ'র অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা - অচিন্ত্য সাহাঃ বিগত ১৬ই আগস্ট, ২০২৫ শনিবার কৃষ্ণনগর শাখার আকুপাংচার চিকিৎসা কেন্দ্রে 'কোটনিস কবিকণ্ঠ'র দশম কবি বাসরের অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল ৫:২৫ মিনিটে। উদ্বোধন সঙ্গীত পরিবেশন করেন অচিন্ত্য সাহা। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সোমা সাহা, পিন্টু সাহা এবং তাপস মোদক মহাশয়।
আবৃত্তি পরিবেশন করেন লেখা মজুমদার, উত্তম প্রামাণিক শংকর ঘোষ, সত্যজিৎ গড়াই মহাশয়।
স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন অনঙ্গ মোহন নাথ, পরেশ চন্দ্র রায়, রঘুপতি বিশ্বাস, জগদীশ বিশ্বাস, তপন কুমার দাস, শংকর ঘোষ প্রমুখ কবি সাহিত্যিক বন্ধুগণ। স্বাধীনতা দিবসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কবি বন্ধুগণ কবিতা পাঠ করেন।
কমিটির সদস্য অচিন্ত্য সাহা কমিটির কাজের পাশাপাশি অধুনা ছত্তিসগড় রাজ্যের অন্তর্গত বস্তারের আদিবাসী গোষ্ঠীর রাজা প্রবীর ভঞ্জদেও সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং তৎকালীন শাসকের ষড়যন্ত্রে কীভাবে তাঁকে নির্মমভাবে খুন করা হয় তা সংক্ষেপে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে কমিটির শুভাকাঙ্ক্ষী নির্মল কুমার চন্দ মহাশয় পরবর্তী অনুষ্ঠানে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মোট আঠারো জন কবিবন্ধু, সদস্য ও চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিচালকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।









