স্থানীয় খবর
-
বেলুড়ের রবি তীর্থ হলে 'ম্যাজিক অথরিটি অফ ইন্ডিয়া'র বার্ষিক ম্যাজিক ফেস্টিভ্যাল

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ উৎসাহ, উদ্দীপনার সঙ্গে 'ম্যাজিক অথরিটি অফ ইন্ডিয়া'-র উদ্যোগে ৮ ও ৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে হাওড়ার বেলুড়ের রবি তীর্থ হলে অনুষ্ঠিত হল বার্ষিক ম্যাজিক ফেস্টিভ্যাল। দুই দিনের এই উৎসবে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত অসংখ্য জাদুশিল্পী ও জাদুপ্রেমীদের বিশাল সংখ্যায় উপস্থিতি দেখা যায়। ফেস্টিভ্যালে মনোমুগ্ধকর ম্যাজিক শো, প্রতিযোগিতা, লেকচার ও ডেমোনস্ট্রেশন অনুষ্ঠিত হয়, যা উৎসাহী ম্যাজিক অনুরাগীদের পূর্ণমাত্রায় মনোরঞ্জনে সক্ষম হয়।
জাদুশিল্পে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দীপক রায়চৌধুরী-কে প্রদান করা হয় 'লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড'।
এছাড়াও, প্রয়াত প্রণব সেনগুপ্তের স্মৃতিতে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় জাদুশিল্পী শ্যামল কুমারকে, জাদুশিল্পে তাঁর দক্ষতা ও নিষ্ঠাকে সম্মান জানিয়ে।
দুই দিন ব্যাপী মনোমুগ্ধকর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, বিশেষ করে হাতে কলমে জাদু প্রদর্শনী করে শিক্ষার্থী জাদুশিল্পীদের উৎসাহিত করা হয়। জাদুশিল্পের ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে উদযাপন করার এটা অন্যতম একটি মাধ্যম। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণার মুহূর্তে পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে, যা এই শুভ উদ্যোগের সার্থকতা নির্দেশ করে।

-
আন্তঃ দোজো কারাটে প্রতিযোগিতা ২০২৫

সংবাদদাতা - সমীরণ ভৌমিকঃ সম্প্রতি 'স্পোর্টস ক্যারাটে একাডেমি' (রাধামোহনপুর)-এর পরিচালনায় আন্তঃ দোজো কারাটে প্রতিযোগিতা ২০২৫ (Inter DOJO Karate Championship 2025) অনুষ্ঠিত হল। যেটি 'কেয়োকুশিন কান ইন্টারন্যাশনাল' (ইন্ডিয়া) দ্বারা পরিচালিত। গত ২৬ অক্টোবর, রবিবার, সকাল ১০:৩০ মিনিটে, উক্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার, ডেবরা ব্লকের রাধামোহনপুর, রামকৃষ্ণ মিলন মন্দির প্রাঙ্গণের 'বিবেক মঞ্চে'। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি আরম্ভ হয় এবং অতিথিদের চন্দনের ফোঁটা, ব্যাজ, মেমেন্টো দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তারপরে মঞ্চে একটি মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে শিশুশিল্পী ও কারাটে প্রতিযোগী রূপসা গুইন। এই 'কারাটে' প্রতিযোগিতায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে আসা প্রায় ১০৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছেন। পুরুষ প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ জন এবং মহিলাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ জন। এই ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় ২৪টি ইভেন্ট ছিল। এই মহতী 'বিবেক মঞ্চে' উপস্থিত ছিলেন Rensi Shihan মিহির বাগ মহাশয় [(Country Representive India) 5th Dan Black Belt (Japan) Kyokushen Kan International]। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন Sensei বিবেক পাল [2nd Dan Black Belt (Spain), ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারি, পশ্চিম মেদিনীপুর ( Kyokushin Kan India)]। উপস্থিত ছিলেন অসিত কুমার হোড়, সেক্রেটারি, রাধামোহনপুর রামকৃষ্ণ মিলন মন্দির। উপস্থিত ছিলেন অখিলেশ মোদক (রানীগঞ্জ)। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এই কর্মযজ্ঞের কর্ণধার তাপু চক্রবর্তী মহাশয়। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন Karate প্রশিক্ষক Sensei ডেভিড ভারগেস, সূর্যকান্ত পাল, রূপম জালুয়া, রাজদীপ গুইন, সাগর পাত্র, আগন রাও ও অভিজিৎ মেটলা প্রমুখ গুণীজনেরা।
আমরা 'কারাটে' (Karate) কেন শিখি? ক্যারাটে শেখা কেন এত জরুরী? অনেকে নেগেটিভ চিন্তা করেন যে কারাটে মানেই মারপিট করা বা ফাইটিং করা। কিন্তু Karate is not Aggresive. It is fully Defensive. কারাটে শেখার মূল পাঁচটি মৌলিক চিন্তা বা মর্যাল হল - (১) চরিত্রের পূর্ণতা চাওয়া, (২) পূর্ণ সচেতনতা, (৩) অত্যাধিক প্রয়োগ করার প্রচেষ্টা যেটা আমরা চাই, (৪) অপরকে সম্মান করা, (৫) নিজেকে উন্নত করা।
আমরা শারীরিকভাবে কিংবা মনুষ্যজাতিগত ভাবে দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছি। তার মধ্যে ফুড ফ্যাক্টর, এনভায়রনমেন্ট ফ্যাক্টর রয়েছেই। আমরা শারীরিক পরিশ্রম একটুও করি না। খেলার মাঠে এখনকার ছেলেমেয়েরা তেমন একটা খেলে না। সবাই ইন্টারনেট, মোবাইলে গেম খেলায় ব্যস্ত। আমাদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা এই বর্তমান যুগে, বর্তমান অস্থির জীবনে, অ্যাংজাইটির যুগে, কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনে 'কারাটে' হলো একটা মাধ্যম যেটি হার্ডওয়ার্ক করার ক্ষমতা অর্জন করে। নিজেকে ফিট রাখা, প্রতিকূল পরিস্থিতি অথবা কোন একটা ইনসিডেন্ট আমি অথবা অন্য কেউ আক্রমণকারীর হাত থেকে নিজেকে এবং অন্যকে রক্ষা করা বা ডিফেন্স করার ক্ষমতা অর্জন করা। যদি কোনো মা, ভাই, বোনেরা বিপদের সম্মুখীন হয় আমার যদি এই অপূর্ব, অসাধারণ কারাটে জানা থাকে তাহলে আমি বা আমরা শত্রুপক্ষের সঙ্গে লড়াই করে বা ফেস করে নিজেকে বাঁচাতে পারব এবং অন্যকেও বাঁচাতে পারব।
বিশ্ব মহামানব স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর যৌবনকালে নানা রকম ব্যায়াম, কুস্তি বিদ্যা আয়ত্ব করেছিলেন। তিনি 'গীতা' পাঠের থেকে ফুটবল খেলাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। কারণ তিনি বুঝেছিলেন শরীরে যদি শক্তি বা বল না থাকে, পেটে যদি অন্ন না থাকে, 'গীতা' পড়ার ধৈর্য ও মানসিকতা থাকবে না। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের হাতে প্রেগন্যান্ট এক মহিলা আক্রান্ত হন। সেই সময় আমাদের বিশ্বজননী, জগৎ জননী মা সারদা উপস্থিত তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন "তোমাদের মধ্যে কি কেউ একজনও মরদ ছিল না? ওই ব্রিটিশদেরকে দুটো থাপ্পড় মেরে ওই মা'কে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে?" প্রতিবাদী ভাষা কখনও বিনম্রতা ভরা হয় না। যেখানে আমাদের মা, ভাই, বোনদের উপর দৈহিক অত্যাচার, অনাচার হয়। তখন প্রতিবাদী ভাষা হয় কারাটে, বক্সিং কিংবা শরীরী বল প্রয়োগ করে। আগেকার দিনে আমরা সকালে চায়ে চুমুক দিতে দিতে, সংবাদপত্রে চোখ বোলাতে বোলাতে দেখতাম 'প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত এখন সংবাদপত্র খুললেই আমরা দেখি অন্যায় ধর্ষণে জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত।' আজকের সমাজে, বর্তমান যুগে বিশেষ করে মেয়েরা ৮ থেকে ৮০ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আমরা রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, আমার, আপনার বাড়ির মা বোনেরা 'মানসিক বিকারগ্রস্ত' কামুক পুরুষের 'লালসা'র শিকার হচ্ছেন। আমরা কিছুই করতে পারছিনা। 'নিরব দর্শকের' মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভেলকি দেখছি। তখন অসহায় মানুষ 'মরিছে ডুবিয়া জানে না সন্তরণ'। আমাদের সন্তরণ জানতেই হবে, প্রতিবাদী দৈহিক বল প্রয়োগ করে। আবার কবি নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতাটির দুটি লাইন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, "বল বীর, বল উন্নত মম শির। শির নেহারি নত শির ঐ শিখর হিমাদ্রির।" আমাদের মাথা উঁচু করে, লড়াই করে বাঁচতে হবে। আমার লেখার উপসংহারে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুপ্রেরণামূলক গানের স্মরণ ও মনন করি - "আমি ভয় করব না ভয় করব না।/ দু'বেলা মরার আগে মরব না, ভাই মরব না।"





