স্থানীয় খবর
-
'প্রেমাশ্রয় প্রেক্ষাগৃহ'-এ শিশু দিবস উদ্যাপন

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ জাদুকর শ্যামলকুমার-এর মনোরঞ্জক ম্যাজিকে মুখরিত কচিকাঁচারা।
শিশু দিবস (১৪ নভেম্বর, ২০২৫) উপলক্ষে নিউ টাউনে, 'টাটা মেডিকেল সেন্টার'-এর 'প্রেমাশ্রয় প্রেক্ষাগৃহ'-এ অনুষ্ঠিত হল এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সল্টলেকের সমাজসেবী সংস্থা 'ঠিকানা'-র উদ্যোগে ১৭ নভেম্বর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল এক মনোমুগ্ধকর ম্যাজিক শো। প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় জাদুকর শ্যামলকুমার।
অসুস্থ ছোট ছোট শিশুদের মুখে আনন্দের হাসি ফোটাতে আয়োজন করা এই ম্যাজিক শো মুহূর্তেই প্রেক্ষাগৃহে তৈরি করে উৎসবের আবহ। শোয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাচ্চাদের চোখে-মুখে ছিল বিস্ময় আর উত্তেজনার ঝিলিক। জাদুকর শ্যামলকুমার তাঁর স্বভাবসুলভ আন্তরিকতায় কচিকাঁচাদের মঞ্চে ডাকেন, এবং তারাও উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে ম্যাজিক দেখায়। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে তিনি নিজ হাতে দেন প্রশংসাপত্র ও উপহার।
ম্যাজিক শো-র প্রতিটি মুহূর্তে শিশুদের হাততালি ও হাসির রেশ আয়োজকদের মন ভরিয়ে দেয়। বাচ্চাদের উচ্ছ্বাসে প্রেক্ষাগৃহ যেন প্রাণ ফিরে পায়। অনুষ্ঠানের শেষে 'ঠিকানা'-র পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ জন আবাসিক শিশুকে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়।
সব মিলিয়ে শিশু দিবসের এই আয়োজনটি 'প্রেমাশ্রয়'-এর শিশুদের মনে এক আনন্দঘন স্মৃতি তৈরি করে গেল। মানবিক উদ্যোগ ও আনন্দে এবছরের শিশু দিবস 'প্রেমাশ্রয়'-এ হয়ে উঠল সত্যিই স্মরণীয়।



-
ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা - সমীরণ ভৌমিকঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার, পাঁশকুড়া ব্লক, হাউরের নবগঠিত 'ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি' ৮ই নভেম্বর, ২০২৫, শনিবার, বেলা ২ ঘটিকার পুন্যলগ্নে ঘোষপুর রাসমঞ্চ প্রাঙ্গন সংলগ্ন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল উক্ত বিদ্যালয়ের কৃতী প্রাক্তনীদের সম্বর্ধনা জ্ঞাপন ও দুঃস্থ মেধাবী এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত প্রাক্তনীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করার একটি মঙ্গলময়, কল্যাণকর মহতী অনুষ্ঠান। উক্ত মহতী সভায় গৌরবময় উপস্থিতি ছিল উদ্বোধক পূজনীয় স্বামী মহাক্রমানন্দ মহারাজের, অধ্যক্ষ, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, (তমলুক)। মহারাজজী প্রথমে প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতির পতাকা উত্তোলন করেন। উপস্থিত মা বোনেরা উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটিকে প্রাণোচ্ছ্বল ও আবেগমথিত করে তোলেন। মঞ্চে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন মাননীয় বিপ্লব রায় চৌধুরী, মন্ত্রী (পশ্চিমবঙ্গ সরকার)। ছিলেন সম্মানীয় বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল, প্রাক্তনী ও গণিত বিষয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক (গোল্ড মেডালিস্ট), যিনি বর্তমান ৮২ বছর বয়সেও কলিকাতা 'রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজের' সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় ডঃ নারায়ণ চন্দ্র মাইতি, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, মহিষাদল মহিলা মহাবিদ্যালয়, ছিলেন ডঃ গোবিন্দ প্রসাদ কর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক, বাজকুল মহাবিদ্যালয়, উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ডঃ চিত্তরঞ্জন মাইতি, সাহিত্যিক ও লোক সংস্কৃতি গবেষক। উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় বাসুদেব মিশ্র, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় (উঃ মাঃ), ছিলেন সম্মানীয় ধনঞ্জয় মন্ডল চলচ্চিত্র নির্মাতা। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ডঃ সুকেশ মন্ডল, সাহিত্যিক ও প্রকাশক। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডঃ বাণীপ্রসাদ দে, বিভাগীয় প্রধান (বাংলা), বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিম মেদিনীপুর। এই গুণীজন সমৃদ্ধ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন 'ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র সভাপতি সম্মানীয় ননীগোপাল আদক, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক পুলসিটা হাইস্কুল, উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তনী মাননীয় বিনোদ বিহারী সামন্ত, প্রাক্তন ব্যাংক ম্যানেজার (এসবিআই)।
মঞ্চে উপস্থিত সমস্ত গুণীজনদের ব্যাচ, মেমেন্টো, চন্দনের ফোঁটা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপরে 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র সদস্যরা একটি উদ্বোধনী সংগীত 'যদি তুমি কাছে এসে, বন্ধু গো ভালোবেসে - হাতখানি ধরো শুধু একবার' - এই গানটি গান। মানব কল্যাণের ওপর, ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতির' মঞ্চে প্রথম বক্তব্য রাখার জন্য আহবান করা হয় স্বামী মহাক্রমানন্দ মহারাজজীকে। মহারাজজী প্রথমে ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণদেব, জগজ্জননী মা সারদা দেবীকে ও বিশ্ব মহামানব স্বামী বিবেকানন্দের চরণে প্রণাম নিবেদন করেন। মঞ্চে উপবিষ্ট মন্ত্রী মহাশয়, অধ্যাপক ও গুণীজনদের প্রণাম এবং বয়োজ্যেষ্ঠ দর্শকদের প্রণাম এবং ছোটদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানান। তিনি বলেন 'ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র মঞ্চে এসে দেখছি 'চাঁদের হাট'। তিনি বলেন স্বামীজী যখন প্রথম বিদেশ থেকে ফিরে আসেন স্বামীজীর বন্ধু তথা মন্ত্র শিষ্য ছিলেন প্রিয়নাথ সিংহ। তিনি স্বামীজীকে প্রশ্ন করেছিলেন 'শিক্ষা সম্পর্কে তোমার অভিমত কি'? স্বামীজী এক কথায় বলেছিলেন 'গুরুকুল শিক্ষার' কথা। স্বামীজি বলেছিলেন ছোট ছোট ছেলেদের রামায়ণ, মহাভারত, উপনিষদের গল্পগুলো পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রেখে শিক্ষা দিতে হবে। সেই গুরুকুল এখন নেই। মহারাজ বললেন, আমাদের সমাজ এখন ডিজেনারেটেড, সমাজে মূল্যবোধ নেই, মরাল ভ্যালুর অধোগতি হচ্ছে। নীতি শিক্ষা, মূল্যবোধ আজকের সমাজে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি স্কুল শিক্ষক এবং ছাত্রদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলেছিলেন স্বামীজীর আদর্শ এবং আধ্যাত্মিকতার উপর স্কুলগুলোকে জোর দিতে হবে ইত্যাদি।
এরপরে বক্তব্য রাখেন সম্মানীয় বিপ্লব রায় চৌধুরী, মন্ত্রী (প.ব. সরকার)। তিনি মঞ্চের গুণীজনদের প্রণাম, বয়স্ক দর্শকদের প্রণাম ও শ্রদ্ধা এবং ছোটদের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন এই অস্থিরতার জীবনে, অ্যাংজাইটির যুগে, মোবাইলের যুগে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথমে পাঁচ থেকে সাত মিনিট চোখ বন্ধ করে ধ্যানে বসুক। কারণ এই ধ্যান বা মেডিটেশনের মাধ্যমে একটা মানুষ নিজের আত্মাকে চিনতে শিখুক। আমি কি জন্য পৃথিবীতে এসেছি, আমার কি করনীয়। তিনি বর্তমান শিক্ষকদেরও আদর্শবান শিক্ষক হওয়ার কথা তুলে ধরেন। ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের 'শিব জ্ঞানে জীব সেবার' কথা এবং দরিদ্র, অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা তুলে ধরেন। তিনি রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলগুলির আধ্যাত্মিকতা, পঠন-পাঠনের, মূল্যবোধের কথা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তুলে ধরেন।
এরপরে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ নারায়ণ চন্দ্র মাইতি। তিনি ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণদেবের চরণাশ্রিত দীক্ষিত শিষ্য। তিনিও স্বামীজীর আইডিওলজিকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।
এরপরে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ঘোষপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মানীয় বাসুদেব মিশ্র মহাশয়। তিনি এই প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতিকে সাধুবাদ জানান। তাঁদের মানবকল্যাণ মূলক, দুঃস্থ মেধাবী এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত প্রাক্তনীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য। তিনি সম্মানীয় এই কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাননীয় ননীগোপাল আদককে প্রণাম জ্ঞাপন করেন। ননীবাবু এই বৃদ্ধ বয়সে শরীরের সমস্ত কষ্টকে উপেক্ষা করে, নিঃস্বার্থভাবে তাঁর কাজ মন প্রাণ ঢেলে দিয়ে করে চলেছেন তাঁকে অসংখ্য সাধুবাদ জানান। তিনি মঞ্চে এসে হতভম্ব হয়ে পড়েন। তিনি এসে মঞ্চে সকলের সামনে বলেন, "আমি একটি ভুল গুজব কথা শুনেছিলাম। কিন্তু, এখানে এসে দেখলাম এত বড় মহতী, নিঃস্বার্থ, নিষ্কাম কর্মযজ্ঞ, যা আমার মনকে, আমার হৃদয়কে কানায় কানায় ভরিয়ে তুললো। আমি এখানে না এলে জানতেই পারতাম না বা এত বড় 'শিব জ্ঞানে জীব সেবার' কর্মযজ্ঞের কথা"।
এছাড়াও এই মহতী মঞ্চে, মহারাজের কথায় 'চাঁদের হাটে' বক্তব্য রাখেন অন্যান্য অধ্যাপকেরা, সাহিত্যিকরা, চলচ্চিত্রকাররা।
এরপরে অনুষ্ঠিত হয় কৃতি প্রাক্তনীদের সম্মাননা ও চাহিদা সম্পন্ন প্রাক্তনীদের সহায়তা প্রদান। প্রদেয় যোগ্য রাশি - দুঃস্থ প্রাক্তনী, অসুস্থ, মেধাবী, ক্রীড়া সংক্রান্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে মহারাজজী ও অন্যান্য সম্মানীয় ব্যক্তিদের হাত থেকে অর্থ ও মানপত্র দেওয়া হয়। কৃতি প্রাক্তনীদের সম্মাননা ও চাহিদা সম্পন্ন প্রাক্তনীদের সহায়তার জন্য যারা অনুদান প্রদান করেন, তাদের অন্যতম -
(১) সুচন্দ্রা সামন্ত, MBBS পাঠরত, (রুইয়াগেড়িয়া) - ৫০,০০০/-
(২) মেঘনা মাইতি, রসায়ন শাস্ত্রের উপর আমেরিকার কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়তে পিএইচডি করছেন, (হাউর) - ২৫,০০০/-
(৩) সবিতা মন্ডল জানা (হাউর) - ১০,০০০/- এবং সতীর্থগন ১৭,০০০/-
(৪) আগমনী সামাই (ছেন্ন্যাগড়) - ১০,০০০/-
(৫) অনুপ মজুমদার (হাউর) - ৫০,০০০/-
(৬) কিশোর দে (ঘোষপুর) - ২৫,০০০/-
(৭) মৃন্ময় মাইতি (হাউর) - ২৫,০০০/-
(৮) সোনালী মন্ডল (হিজলদা) - ১৫,০০০/-
(৯) শ্রীলেখা জানা (পুরুল) - ২৫,০০০/-
(১০) দেবব্রত ওঝা (আগাবাজ) - ১০,০০০/-
(১১) অর্কদীপ প্রামানিক (নরাই) - ৫০০০/-
(১২ ) তন্ময় মাইতি (হাউর) - ৫০০০/-।
এরপরে মঞ্চে 'প্রাক্তনী কল্যাণ সমিতি'র পক্ষ থেকে সমবেত সংগীত দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



