পত্রিকার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতামত

'সমন্বয়' (তৃতীয় বর্ষ নবম সংখ্যা; ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার ওপর মতামত।

কবি বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি সশ্রদ্ধ স্মৃতিতর্পণ করেছেন বতর্মান সময়ের কবি অমৃতাভ দে। একই বিষয় নিয়ে তাঁর লেখা আগেও পড়েছি। কিন্তু এই লেখাটি অনেকটাই সুবিস্তৃত। তাঁর রাজনৈতিক ও দেশপ্রেমিক সত্ত্বা, একনিষ্ঠ কর্মযোগী ও সমাসেবী সত্ত্বা ধরা পড়েছে অনুজ কবির স্বচ্ছ আতশকাচের তলায়।

কবি বিজয়লালের জন্ম হয় ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্টে। পরে সন্তানদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ বাবা পছন্দ না করায় মা কিরণময়ী দেবী সন্তানদের নিয়ে গৃহত‍্যাগী হলেন। পরবর্তী আশ্রয় হল নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর। ইংরেজি অনার্স নিয়ে বি.এ. পড়বার সময় মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে কলেজ ত‍্যাগ ও কারাবরণ করেন। বহরমপুর জেলে বিদ্রোহী কবি নজরুলের সংস্পর্শে এসে সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন। পরবর্তীতে তিনি রবীন্দ্রনাথের সংস্পর্শে আসেন ও কিছু সময়ের জন্য শান্তিনিকেতনে শিক্ষকতা করেন। পরে তিনি 'আনন্দবাজার পত্রিকা'য় সাংবাদিক রূপে যোগ দিলে তাঁর যোগাযোগেই রবীন্দ্রনাথের অনেকগুলি লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

১৯২৮-এ 'বঙ্গবাণী' পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালে 'সর্বহারাদের গান', 'ডমরু' ও 'কালের ভেরী' প্রকাশিত হয়। এরপরে লেখক অমৃতাভ চলে এসেছেন বিজয়লালের শহর ছেড়ে সমাজসেবা ও গ্রামোন্নয়নের কাজে নিজেকে নিযুক্ত করার কাহিনিতে। নদিয়া জেলার বড় আন্দুলিয়া গ্রামে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত 'লোক সেবা শিবির'কে নিয়ে তাঁর সুদীর্ঘ ২৮ বছর কেটেছে। এছাড়াও গ্রন্থাগার, বেসিক ট্রেনিং কলেজ, নার্সারি স্কুল, বালিকা বিদ্যালয়, গদাধর মন্দির প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রজন্মের কবি অমিতাভ দে-র গুণমুগ্ধ ক‍্যানভাসে এভাবেই বর্ণময় তুলিতে সযত্নে অবয়ব পেয়েছে প্রয়াত কবি বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়ের সোপার্জিত গুণগুলি - কবিত্ব, বাগ্মীতা, পাণ্ডিত্য, দৃপ্ত পদক্ষেপ, তাঁর অসম্ভব সুন্দর হস্তলিপি, সমদর্শিতা গুণগ্রাহিতা ইত্যাদি।

১৯৭৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়ের জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু প্রকৃত গুণগ্রাহীদের কাছ থেকে মৃত‍্যু কখনও গুণীকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনা। এই সুন্দর লেখাটি পাঠ করে এর প্রতিটি বাঁকে এসে লেখকের মুগ্ধতায় সামিল হতে হতে মনে হয় আহা, এমন অনন্যসাধারণ দেবোপম মানুষের দেখা কি আর কখনও এই ধরণীতে পাওয়ার সৌভাগ্য হবে না, যাঁদের নিয়ে লিখে তৃপ্তি। আবার পাঠ করেও কাতর ক্লিষ্ট মনটাকে নিয়ে আশায় আনন্দে ভেসে যাওয়া চলে!



বন্যাধারা রায়

আপনাদের পত্রিকা এবং অন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড খুবই আকর্ষণীয় ও প্রশংসনীয়। মন তো চায় সব কিছুতেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই। কিন্তু সময়ের অভাব। তাই আপাতত কেবল মানসিকভাবে জড়িয়ে আছি।



রাজীব কর

This magazine has all the ingredients to bolster the intellectually and culturally inclined mindset, an ideal recipe for preparing the food for thought. My best wishes.



Debraj Sengupta

হুমায়ূন কবীরের 'আহাদ আলির পায়রাগুলো' গল্পটি পড়ে খুব ভালো লাগলো।



বিপাশ কুরী

এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত হুমায়ূন কবীরের লেখা গল্প 'আহাদ আলির পায়রাগুলো' পড়লাম। একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী লেখা। এমন লেখা বহুদিন বাদে পড়লাম। খুব কম লেখকের লেখায় এমন বাঁধন থাকে। গল্পকারের থেকে এরকম আরও লেখা পেতে চাই। সর্বোপরি 'সমন্বয়'কে ধন্যবাদ লেখককে আবিষ্কার করার জন্য। তাঁর লেখাকে পত্রিকায় স্থান দেবার জন্য। ধন্যবাদ।



প্রদীপ কুমার ধর

সুন্দর প্রয়াস। পত্রিকার বহুল প্রচার হোক সেই কামনা রইল। সমস্যাদীর্ণ সমাজে এ এক মলয় বাতাসের মতো। শুভেচ্ছা রইল।



অমলেন্দু হাইত, অধ্যাপক

'খাল-বিলের আখ্যান'-এ লেখিকা ব-দ্বীপ বাংলার সত্যনিষ্ঠ অপুর্ব সুন্দর ছবি এঁকেছেন। নিজস্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া শুধুই কল্পগল্প এমন সুন্দর হতে পারে না। 'খাল-বিলের আখ্যান' (চলচ্চিত্র বলাই ভালো) অপুর্ব! প্রায় হারিয়ে গেছে, এমন অনেক শব্দ এবং বস্তুর নাম লিপিবদ্ধ থেকে গেল 'সমন্বয়-এর পাতায় জল-জলাভূমি-মানুষের ইতিহাসের উপাদান হয়ে। লেখিকাকে অশেষ সাধুবাদ!



বলাই চন্দ্র দাশ

পরিচ্ছন্ন একটি ওয়েব ম্যাগাজিন। বর্তমান সময়ে এই ধরণের পত্রিকার খুব প্রয়োজন। সাহিত্যগুণে সমৃদ্ধ হয়ে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হোক। শুভেচ্ছা।



তাপস সরখেল, বিশিষ্ট লেখক

ভূ-পর্যটক লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত ও গর্বিত। বাঙালির এই বহুমুখী কর্মকাণ্ডকে স্যালুট।



শিখা কুমার, বিশিষ্ট লেখিকা

খুব ভালো উদ্যোগ। লেখক, পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী বন্ধুদের মতামতে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক 'সমন্বয়' পত্রিকা। ইতিমধ্যেই পাঠক সমাজে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে 'সমন্বয়'।



অচিন্ত্য সাহা, বিশিষ্ট লেখক

প্রশংসনীয় ঊদ্যোগ। আগামীতে 'সমন্বয়' ই-পত্রিকার পাশাপাশি মুদ্রিত আকারে প্রকাশ পাক এই কামনা করি।



পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়

'সমন্বয়' পত্রিকাটি অত্যন্ত আধুনিক ও রুচিসম্মতভাবে অত্যন্ত যত্ন সহকারে ডিজিটালি প্রকাশ করা হয়। এই পত্রিকায় যাঁরা কিছু লিখে প্রকাশ করতে চান, তাঁরা অনায়াসেই অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই পত্রিকার মুখ্য লক্ষ্য হলো সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো। সুতরাং, এই পত্রিকাটি পাঠ করার ও সকলের কাছে পত্রিকাটির সুনির্যাস যাতে পৌঁছায় তার কামনা করি। এই পত্রিকার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির আশা রাখি। সকলকে একটি কথাই এই প্রসঙ্গে আন্তরিকভাবে বলবো যে, এইটি একটি অতি ঘরোয়া পত্রিকা। সুতরাং, বিনা দ্বিধায় যে কেউ এই পত্রিকায় লেখার ব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারেন।

অলোক মুখার্জি, বিশিষ্ট কবি

'সমন্বয়' পড়লাম। এক কথায় অসাধারণ! লেখার বৈচিত্র্য ও সমন্বয়ে গঠিত পত্রিকাটি প্রশংসার দাবি রাখে। মাননীয় সম্পাদকমণ্ডলীকে জানাই অভিনন্দন।



শ্যামল কুমার, জাদুকর

আজ প্রভাতে নয়ন সম্মুখে উন্মোচিত এই ওয়েবসাইট দেখে স্তম্ভিত হলাম। কি দারুণ শৈল্পিক তুলির টানে সাজানো প্রতিটি ছত্র। চমৎকার স্নিগ্ধ সুন্দর পরিশীল লেখা। যা সারাদিন ভাল থাকার পক্ষে সদর্থক। প্রথম দর্শনেই এই ই-পত্রিকার সাথে জড়িয়ে গেলাম। পত্রিকার সাফল্য কামনা করি।

রূপায়ণ চৌধুরী, মূকাভিনয় শিল্পী

নিঃসন্দেহে 'সমন্বয়' একটি পরিকল্পিত সুন্দর পত্রিকা। সুনির্বাচিত গল্প, কবিতা ও নানা রকমের লেখার সম্ভার নিয়ে পাঠককে তৃপ্তিদান করে। পূর্ণাঙ্গ পত্রিকা হিসাবে ভালোই। প্রবন্ধ এবং ভ্রমণকাহিনীগুলো বেশ সুন্দর। পত্রিকাটি আরো বিকশিত হোক। 'সমন্বয়'-এর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।

রতন কুমার নাথ, বিশিষ্ট লেখক ও কবি

খুব ভালো মানের পত্রিকা।



সুবল দত্ত, বিশিষ্ট লেখক

'সমন্বয়' ই-পত্রিকা সাম্প্রতিক সময়ের একটি ব্যতিক্রমী পত্রিকা যেখানে বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নানা আলোচনা যেমন আছে, তেমনই আছে বিনোদনমূলক রচনা। বৈচিত্র্যময়তায় যেমন বর্মণয় তেমনই তথ্যসমৃদ্ধ এই পত্রিকা মানের দিক থেকেও উৎকৃষ্টতার দাবি রাখে।

দীপশিখা চৌধুরী, বিশিষ্ট লেখক ও কবি

খুব সুন্দর পত্রিকা ভাবনা। সামনে চলুন। অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।



অরুণ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট লেখক ও কবি

আপনাদের পত্রিকা এবং এই মহতী উদ্যোগের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।



যোগেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, বিশিষ্ট লেখক

'সমন্বয়' জুন সংখ্যা প্রায় পুরোটাই পড়ে ফেললাম মাত্র একদিনে। কেতকীপ্রসাদ রায় ও চিরঞ্জীব হালদারের কবিতা মনে দাগ কাটলো। ভালো লাগলো। 'উড়ান' ও 'একাকিত্বের নি:সঙ্গতা' গল্পদুটি ভালো লাগলো। সুবল দত্তর বিজ্ঞান নির্ভর ধারাবাহিক পত্রিকাটি নিয়মিত পড়ার উৎসাহ জাগাল। চিত্তাকর্ষক ছবি আর শিবশঙ্করের খাবার হোটেলের বর্ণনায় মন্দারমণি হাতছানি দিল আয় আয়। বিবিধ-র রচনাটি বসিয়ে দিল সত্তর দশকের রেডিয়োর পাশে যখন ময়দান কাঁপাচ্ছে ইস্ট-মোহন।

সব মিলিয়ে, ভালো পত্রিকা।

তবে একটি অনুরোধঃ কম খ্যাত লেখকদের বই-এর আলোচনা যদি করা যেত...

চন্দন সরকার, বিশিষ্ট লেখক

'সমন্বয়'-এর জন্য রইল অনেক শুভকামনা। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে চলুক। 'ভ্রমণ ও দেশ-বিদেশ' বিভাগের লেখা পড়তে বেশ লাগছে।



শিখা কুমার, বিশিষ্ট লেখিকা

পত্রিকার বহুল প্রচার ও শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি। আশা করছি আগামীতে কেবল নামজাদা লেখকরাই নয়, শহরে গ্রামে যে সমস্ত প্রতিভাবান লেখক তাঁদের লেখা প্রকাশের সুযোগ পান না তাঁদের লেখা সাহিত্যগুণসম্পন্ন হলে এই পত্রিকায় প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া হোক।

অচিন্ত্য সাহা, বিশিষ্ট লেখক

ভালো উদ্যোগ। সমস্ত টিমকে সাধুবাদ জানাই।



চিরঞ্জীব হালদার, বিশিষ্ট লেখক ও কবি

আপনাদের ই-পত্রিকা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে শব্দছক বিভাগটি অন্যরকম। একজন শব্দছক প্রেমী হিসাবে বলতে পারি আর কোথাও এরকম interactive শব্দছক পাইনি। ধন্যবাদ।



সুপ্রিয় ভৌমিক, পাঠক

ভীষণ ভাল লাগল। প্রতিটি বিভাগই ভাল লাগল। সাহিত্য ছাড়াও, স্থানীয় নানা অনুষ্ঠানের সংবাদ, ভ্রমণ, চিত্রকলা ইত্যাদি সবকিছুই মন ছুঁয়ে গেল।



দেবজ্যোতি কর্মকার, বিশিষ্ট লেখক

সুদীপদা, সুন্দর অথচ এটি একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস। পরিবর্তনশীল জগতের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে এই শুভ প্রয়াসকে আন্তরিক শ্রদ্ধা আর অভিনন্দন জানাই। ভালো লাগার নিদর্শন এই পত্রিকার দীর্ঘ বিস্তার কামনা করি। আন্তরিক শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন।

কেতকীপ্রসাদ রায়, বিশিষ্ট লেখক ও কবি

পত্রিকার উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।



গৌর সাহা, পাঠক

Keep up the good work! It’s a lovely compilation of art and ideas!



সুচন্দ্রা রায়চৌধুরী, পাঠক

ভালো লাগলো। আগেরবারের থেকে অনেক ভালো হয়েছে।



পার্থসারথি বিশ্বাস, পাঠক

যখন চারিদিকে শুধু অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ তখন 'সমন্বয়'-এর মত প্রচেষ্টা সমাজে সঠিক পথ দেখাতে পারে। শুভেচ্ছা রইল।



বুদ্ধদেব দত্ত, পাঠক